হে আমার ধ্বংসের দেবতা, একবার এই মহাপ্রলয়ের বুকে তোমার ফুলের হাসি দেখাও।”- প্রাবন্ধিক কেন এমন আহ্বান করেছেন?
হে আমার ধ্বংসের দেবতা, একবার এই মহাপ্রলয়ের বুকে তোমার ফুলের হাসি দেখাও।”- প্রাবন্ধিক কেন এমন আহ্বান করেছেন?
উত্তর 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধটিতে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ শতকের অস্থির পালাবদল এবং সেই সাথে কৃষক-শ্রমিক- নির্যাতিত মানুষের ভাগ্যবদলের জন্য ধ্বংসের দেবতাকে আহ্বান জানিয়েছেন।
'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধের শুরুতে প্রাবন্ধিক বিশের দশকের অস্থিরতা, নিপীড়িত মানুষের হাহাকারকে প্রতীকী পরিচর্যায় প্রবন্ধের শুরুতে তুলে ধরেছেন।
বিশেষ করে এ সময়ের অসহযোগ আন্দোলন- খেলাফত পরবর্তী বাংলার দেশকালের হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি উঠে এসেছে। তাছাড়া দেশমাতৃকাকে নিয়ে ‘নানা মুনির নানা মত' সদৃশ টানাটানি এবং তার পিছনে তেত্রিশ কোটি মানুষ যে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না।
প্রাবন্ধিক এ সময়কে নিশীথ রাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অসহায় মানুষের সামনে গভীর তিমির-পথ নাই- আলো নাই। প্রলয়-সাইক্লোনের আর্তনাদ মরণ-বিভীষিকার রক্ত-সুর বাজাচ্ছে। তারই মাঝে দেশকে নিয়ে নানান টানাপোড়েন।
আর এসবের পিছনে আছে ধীরে ধীরে চলা বেদনাতুর তেত্রিশ কোটি আঁধারের যাত্রী। আর এই অন্ধকার যাত্রীদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রাবন্ধিক ধ্বংসের দেবতারূপ বীরকে কামনা করেছেন।
সুতরাং সার্বিক বিচারে বলা যায়, অন্ধকারের দুর্যোগ কাটিয়ে আলোর পথে উদ্ধার করার জন্য প্রাবন্ধিক অন্যায়- অত্যাচার-নিপীড়ন ধ্বংসকারী বীরের আগমন প্রত্যাশা করেছেন ।
.png)