সারা বিশ্ব কান পাতিয়া সে-মুক্তি- কল্লোল শুনিল।”- ব্যাখ্যা কর


সারা বিশ্ব কান পাতিয়া সে-মুক্তি- কল্লোল শুনিল।”- ব্যাখ্যা কর

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের 'নবযুগ' প্রবন্ধে পরাধীন। দেশসমূহে বিশেষত ভারতে আন্দোলন যে নবযুগের সৃষ্টি করেছিল তার চিত্র উজ্জ্বল- এ বিষয়টিই প্রদত্ত উক্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

'নবযুগ' প্রবন্ধে বিশের দশকে ভারতের জাগরণের পটভূমিকার বা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পরিচয় দিয়েছেন রাশিয়া, তুরস্ক ও আয়ারল্যান্ডের সংগ্রামের উল্লেখে। 

বিশের দশকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতে যে রাজনৈতিক জাগরণ ও সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিসংগ্রামের যে প্রভাব পড়েছিল সে তথ্যও পাওয়া যায়।

এ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রুশ বিপ্লব, আয়ারল্যন্ডের স্বাধীনতার সংগ্রাম, সামন্ততান্ত্রিক শৃঙ্খলমুক্ত নতুন তুরস্ক এবং পরাধীন ভারতের মুক্তিসংগ্রামকে এক সূত্রে গ্রথিত করেছেন। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ যেখানে তাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামমুখর- সেখানে ভারতবর্ষ ছিল ঘুমিয়ে।

 অবশেষে যখন তার ঘুম ভাঙে সেদিন সে তার নিজের অবস্থা দেখে নিজেই লজ্জিত হয়েছে। ভারতবর্ষ দেখেছে বিশ্বের মধ্যে সেই সবচেয়ে অপমানিত-পদানত এবং ঘুণিত। একদিন ভারতবর্ষও জেগে ওঠে মুক্তির পিয়াসায়- স্বাধীনতার কামনায়।

 যেদিন ভারতবর্ষ জেগে উঠেছিল, সেদিন সেই মহাকল্লোল অবিরামভাবে ধ্বনিত হয়েছিল। সারা বিশ্ব কান পেতে সে, মুক্তি-কল্লোল শুনেছিল। এই দিন ভারতবর্ষের মানুষ জাতি সমাজের বহির্বন্ধন ভুলে পরস্পর পরস্পরকে বুকে ধরে আলিঙ্গন করে। 

সেদিন এই দৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল- আজ মহাবিশ্বে মহাজাগরণ, মহামাতার আনন্দের দিন এবং মহাযুগের উদ্বোধন। এতদিন নিপীড়িত ভারতবাসী বন্দিদশা কাটিয়ে, জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে তারা এক, তারা একই ব্যথায় ব্যথিত, নিপীড়িত সত্য মানবাত্মা ।

সুতরাং সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, ভারতবাসী জাত্যাভিমান, ধর্মীয় সংকীর্ণতা কাটিয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে এ নবযুগের সূচনা হয়েছিল তা প্রদত্ত উক্তিতে প্রকাশিত।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ