আমাদের মধ্যে ধর্ম বিদ্বেষ নাই, জাতিবিদ্বেষ নাই, বর্ণ-বিদ্বেষ নাই, আভিজাত্য-অভিমান নাই।”- কে এবং কেন এমন বলেছে?
আমাদের মধ্যে ধর্ম বিদ্বেষ নাই, জাতিবিদ্বেষ নাই, বর্ণ-বিদ্বেষ নাই, আভিজাত্য-অভিমান নাই।”- কে এবং কেন এমন বলেছে?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের 'নবযুগ' প্রবন্ধের প্রদত্ত উক্তিটি তরুণ কণ্ঠের বীরবাণী। প্রদত্ত উক্তির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভারতবর্ষীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানদের বিরোধ। দীর্ঘদিনের। এ বিরোধ নজরুল চিত্তে বেশ আঘাত করেছিল। দেশ এক হওয়া সত্ত্বেও উভয় সম্প্রদায়ের বিধ্বংসী ক্রিয়াকর্ম মানবতার বিবেককে বার বার ধ্বংস এবং রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত করেছে।
তিনি তার বিরুদ্ধে লেখনীও ধরেছেন একাধিকবার।। কিন্তু হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ না থামার কারণে তিনি কখনো স্বস্তিতে ছিলেন না। তবে বিশের দশকের প্রথমার্ধে ভারতে অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐ মহামিলনের অভূতপূর্ব ঘটনা নজরুলের চিন্তাচেতনা ও মনমানসিকতার ওপর এমন গভীর ও স্থায়ী ছাপ ফেলে যে তাঁর বিশ্বাস ও স্বপ্নে পরিণত হয়। 'নবযুগ' প্রবন্ধে এ নজরুল বিশ্বভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ বীরকণ্ঠে।
সেই সঙ্গে শহিদ ভাইদের বিয়োগ" ব্যথায় অস্থির হয়ে তিনি আহ্বান করেছেন তাদের আত্মত্যাগের পথে নবযুগের মুক্তি ও বিশ্ব-সৌহার্দের উদ্বোধন করতে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর চিন্তাচেতনায় যে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ধারণ করতেন উঠে এসেছে তরুণ কণ্ঠে ।
.png)