Search Here

স্বরবৃত্ত ছন্দ কাকে বলে এর মাত্রা গণনা রীতি আলোচনা কর


স্বরবৃত্ত ছন্দ কাকে বলে এর মাত্রা গণনা রীতি আলোচনা কর

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ স্বরবৃত্ত ছন্দকেই বলতেন 'বাংলা প্রাকৃত' বা 'লোকছন্দ। সুধীন্দ্রনাথ বলতেন ‘স্বরাস্তিক'। 

সংজ্ঞা হিসেবে বলা যায় যে ছন্দে যুগধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর সঙ্কুচিত হয়ে মুক্তাক্ষরের ন্যায় একমাত্রার মর্যাদা পায় ও পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত বা স্বরাঘাত পড়ে এবং যার মূল পর্ব প্রধানত চার মাত্রার এবং যার লয় হয় দ্রুত তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে। 

তবে এ ছন্দকে বলবৃত্ত, দলমাত্রিক, প্রস্বর প্রধান স্বরমাত্রিক, বল প্রধান বা শ্বাসাঘাত প্রধান বা ছড়ার ছন্দ বা ধামালির ছন্দ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয় ।

স্বরবৃত্ত ছন্দের মাত্রা গণনারীতি-

• স্বরবৃত্ত ছন্দের শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত যে কোন স্থানেই থাকুক না কেন, সবসময় তা একমাত্রিক।

মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর সবসময় একমাত্রা গণনা করা হয়। • যৌগিক অক্ষর সর্বত্র দ্রুত উচ্চারিত হয় বলে এ ছন্দের লয় বা তাল দ্রুত হয়। যেমন-

বৃষ্টি পড়ে/টাপুর টুপুর/নদে এলো/বান।

8+8+8+

শিব ঠাকুরের/বিয়ে হল/তিন কন্যে/দান । ৪+৪+৪+১ • যুগধ্বনিকে বিশিষ্ট ভঙ্গিতে টেনে উচ্চারণ করলেও তা দ্রুত হয়। 

• এ ছন্দের প্রত্যেকটি ধ্বনির উচ্চারণ স্পষ্ট এবং প্রবল শ্বাসাঘাত পড়ে।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের মূলপর্ব সবসময় চারমাত্রার হয়। তবে ক্ষেত্র বিশেষ তিন বা পাঁচ মাত্রাও হয়। যেমন- বাঁশ বাগানের/মাথার উপর/চাঁদ উঠেছে ওই মাগো আমার/শোলক বলা/কাজলা দিদি কই।। 4+4+4+1

8+8+8+)

• প্রতি পর্বে প্রথমে অক্ষরে একটা শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর থাকে। যেমন-

• যুক্তব্যঞ্জনের সংশ্লিষ্ট উচ্চারণ হয়- সেক্ষেত্রে মাত্রাও এক গণনা করা হয়।

• হ্রস্বতম পর্বের ছন্দ হওয়ায়, প্রতি পর্বে শ্বাসাঘাত থাকে বিধায় বাগযন্ত্রে ক্ষিপ্রতা আসে ফলে স্বরবৃত্ত ছন্দ শ্বাসাঘাতের

দ্রুতলয়ে পড়তে হয় । জন্য ধ্বনিতরঙ্গের স্বরবৃত্তে মূলত উত্থানপতন সুস্পষ্ট বলে এ ছন্দে সংলাপী ভঙ্গির সঙ্গে লঘু চাপল্যের সৃষ্টি হয় । ফলে রূপ-বৈচিত্র্য এবং বিচিত্র ভাব প্রকাশের জন্য বাংলা ছন্দে স্বরবৃত্ত ছন্দের ব্যবহার অত্যধিক। 

সুতরাং বলা যায়- অপেক্ষাকৃত দ্রুত লয় বা গতিবেগের ছন্দই স্বরবৃত্ত ছন্দ। এই ছন্দে যতি বা শ্বাস পড়ে দ্রুত, পর্ব হয় ক্ষুদ্রতম অর্থাৎ চার মাত্রার, মুক্তাক্ষর বদ্ধাক্ষর নির্বিশেষে অক্ষর মাত্রই একমাত্রা নির্দিষ্ট, প্রতিটি পর্বের প্রথম ও শেষ অক্ষরে একটি প্রস্বর বা শ্বাসাঘাত থাকে, ফলে বাগযন্ত্রে ক্ষিপ্রতা আসে।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ