মাত্রাবৃত্ত ছন্দ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর
উত্তর : যে ছন্দ যুগধ্বনি টেনে টেনে বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয় এবং যার মূল পর্ব চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার হয়, যার লয় মধ্য লয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে। একে ধ্বনি প্রধান বা বিস্তার প্রধান ছন্দও বলা হয়ে থাকে।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
ক) মাত্রাবৃত্ত ছন্দে মূল পর্ব চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার হয়। যেমন—
অন্যদিকে, মাত্রাবৃত্তের দৃষ্টান্ত দিলে দেখা যায় ঃ
↓
ভূতের মতন / চেহারা যেমন / নির্বোধ আস্ত / মোর যা কিছু হারায় / গিন্নি বলেন / কেষ্টা বেটাই / চোর অথবা, আমি কবি যত/কামারের আর/কাঁসারির আর।
ছুতোরের মুটে/মজুরের
৬+৬+৬
৬+৪
খ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দে কেবল শব্দধ্বনিই প্রধান তার অতিরিক্ত সুর বা তান থাকে না। যেমন-
এইখানে তোর/দাদির কবর/ডালিম গাছের তলে, ৬+৬+৬+২ তিরিশ বছর/ভিজায়ে রেখেছি/দুই নয়নের জলে। ৬+৬+৬+২
গ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দে বদ্ধাক্ষর দু মাত্রা এবং মুক্তাক্ষর এক মাত্রা হিসেবে গণনা করা হয়। যেমন-
সংসার মাঝে/দু একটি সুর রেখে দিয়ে যাব/করিয়া মধুর
৬+৬
৬+৬
ঘ) যুক্তব্যঞ্জন বিশ্লিষ্ট হয়ে পূর্ববর্তী অক্ষরকে দীর্ঘ ও দ্বিমাত্রিক করে। যেমন-
ঐ আসে ঐ/অতি ভৈরব হরষে জল সিঞ্চিত/ক্ষিতি সৌরভ / রভসে
৬+৬+৩
৬+৬+৩
ঙ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ধীর ও দ্রুত এ দুয়ের মাঝামাঝি একটা উচ্চারণভঙ্গি অর্থাৎ মধ্যম লয় থাকে।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ সংস্কৃত ছন্দ থেকে এলেও উত্তরোত্তর তা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন মাত্রায় সামনের দিকে ধাবমান। ফলে বাংলা কবিতায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
.png)