শ্রাবণসন্ধ্যার সাথে ফুলের কী সম্পর্ক?
শ্রাবণসন্ধ্যার সাথে ফুলের কী সম্পর্ক?
উত্তর : 'শ্রাবণসন্ধ্যা' প্রবন্ধে প্রকৃতির বিচিত্ররূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে শ্রাবণসন্ধ্যায় প্রাবন্ধিক-কবির মনে যে বিচিত্র ভাবের উদয় হয়েছে তা তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচ্য প্রবন্ধে তারই আলেখ্য রচনা করেছেন।
শ্রাবণসন্ধ্যায় প্রাবন্ধিকের কাছে ফুলের বিশেষ মাহাত্ম্য ধরা পড়ে। ফুলকে দেখতে সৌখিন মনে হলেও তারও বিশেষ কাজ আছে- বিশেষ করে সাজসজ্জায় তার জুড়ি মেলা ভার। তাকে ফল ফলাতেই হবে পৃথিবীর জন্য- পৃথিবীকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।
এজন্য তার রং এজন্য তার গন্ধ। সে যেমন মানুষ আহ্বান করে একই সাথে মধুকরকেও আহ্বান করে। কেউই তার কাছ থেকে ঠকে না, বরং বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়।
কুঁড়ি থেকে ফুল, ফুল থেকে বীজ, বীজ থেকে গাছ আর যখন তার কিছুই দেওয়ার থাকে না সে সবার অগোচরে ঝরে যায়- তবে আবার বীজের মাধ্যমে পুনর্জন্ম লাভ করে। প্রাবন্ধিকের ভাষায় :
“কিন্তু এ ফুলটিই যখন মানুষের অন্তরের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন তার কিছুমাত্র তাড়া নেই, তখন সে পরিপূর্ণ অবকাশ মূর্তিমান। এ একই জিনিস বাইরে প্রকৃতির মধ্যে কাজের অবতার মানুষের অন্তরের মধ্যে শান্তি ও সৌন্দর্যের পূর্ণ প্রকাশ।”
ফুল যে কেবল বনের মধ্যে কাজ করে তাই নয়- ফুল মানুষের মনের মধ্যেও কাজ করে। সীতার কাছে দূত যেমন রামচন্দ্রের আংটি নিয়ে গিয়ে সীতাকে সান্ত্বনা দিয়েছিল- তেমনি ফুলও আমাদের কাছে শান্তির বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।
.png)