শ্রাবণসন্ধ্যায় কথা এবং সুর কীভাবে উদ্রেক করে?
শ্রাবণসন্ধ্যায় কথা এবং সুর কীভাবে উদ্রেক করে?
উত্তর : 'শ্রাবণসন্ধ্যা' প্রবন্ধে প্রকৃতির বিচিত্ররূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে শ্রাবণসন্ধ্যায় প্রাবন্ধিক কবির মনে যে বিচিত্রভাবের উদয় হয়েছে তা তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচ্য প্রবন্ধে তারই আলেখ্য রচনা করেছেন।
শ্রাবণসন্ধ্যার ধারায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানুষের কথা এবং গানের যে পরিবর্তন সাধিত হয় তা প্রাবন্ধিক তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন কথা জিনিসটা মানুষের আর গানটা প্রকৃতির। কথা সুস্পষ্ট এবং বিশেষ প্রয়োজনের দ্বারা সীমাবদ্ধ আর গান অস্পষ্ট এবং সীমাহীনের ব্যাকুলতায় উৎকণ্ঠিত।
সেজন্য কথায় মানুষ মনুষ্যলোকে এবং গানে মানুষ বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে মেলে। এজন্য কথার সঙ্গে মানুষ যখন সুরকে জুড়ে দেয়, তখন সেই কথা আপনার অর্থকে ছাড়িয়ে গিয়ে ব্যপ্ত হয়ে যায় সেই সুরে মানুষের সুখদুঃখকে সমস্ত আকাশের জিনিস করে তোলে।
আর বেদনা প্রভাতসন্ধ্যার দিগন্তে আপনার রঙ মিলিয়ে দেয়, জগতের বিরাট অব্যক্তের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ অপরূপতা লাভ করে, মানুষের সংসারের প্রাত্যহিক সুপরিচিত সংকীর্ণতার সঙ্গে তার ঐকান্তিক ঐক্য আর থাকে না।
.png)