হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি পড়িয়া থাকিয়া এক ভাষায় আর্তনাদ করিতেছে, বাবা গো, মা গো!”- প্রাবন্ধিক কেন এমন বলেছেন?
হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি পড়িয়া থাকিয়া এক ভাষায় আর্তনাদ করিতেছে, বাবা গো, মা গো!”- প্রাবন্ধিক কেন এমন বলেছেন?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম 'মন্দির ও মসজিদ' প্রবন্ধে। পরাধীন ভারতে, অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু-মুসলমানদের যুদ্ধের দৃশ্য ব্যঙ্গ ও পরিহাসের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।
ভারতবর্ষীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধ নজরুল চিত্তে বেশ আঘাত করেছিল দেশ এক হওয়া সত্ত্বেও উভয় সম্প্রদায়ের বিধ্বংসী ক্রিয়াকর্ম মানবতার বিবেককে বার বার ধ্বংস এবং রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত করেছে।
অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা বা মানবতাবাদী দৃষ্টিকোণে নজরুলের উৎসুক্য কিন্তু কোনো আরোপিত বা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং এটি তাঁর বিশ্বাসের মধ্যে চেতনার। গভীরে প্রত্ন-প্রতিমার মতো ধারণা করা একটি সহজাত প্রবৃত্তি।
প্রাবন্ধিক তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন বা জেনেছেন সামান্য বিষয়ে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে পশুপ্রবৃত্তি ধ্বংসাত্মক বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে। মারো শালা যবনদের!' 'মারো শালা কাফেরদের। এটা যেন সাধারণ একটা বিষয়।
প্রথমে কথা কাটাকাটি, তারপর মাথা। ফাটাফাটি আরম্ভ হয়। আল্লাহ এবং মা কারীর নামে তারা মাতাল হয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধে মারামারিতে লিপ্ত হয়।
প্রাবন্ধিক এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন মার খেয়ে কোনো ধর্মের লোক আর ধর্মকে স্মরণ করে না- হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি পড়ে থেকে এক ভাষায় আর্তনাদ করে নিজের জন্মদাতা- জন্মদাত্রীকে ডাকে। মাতৃপরিত্যক্ত দুটি শিশু যেমন করে একক সুরে কেঁদে তাদের মাকে ডাকে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ভারতবর্ষীয় সমাজ তথা বাংলার সমাজে হিন্দু-মুসলমানের অনেকবারই না বুঝে পরস্পরের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক দাঙ্গায় পরস্পরকে আঘাত করেছে।
.png)