ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ করার কথা বলেছেন কেন?


ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ করার কথা বলেছেন কেন?

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ধূমকেতুর পথ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহের কথা বলেছেন এবং একই সাথে বিদ্রোহের বিষয়-নিয়মকানুন উল্লেখ করেছেন।

'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ প্রবন্ধে ভারতের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেই কর্তব্য শেষ করেননি বা স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছেন সর্বান্তকরণে। 

প্রাবন্ধিকের মতে, বিদ্রোহ মানে কাউকে মানা না- মানা নয়, বিদ্রোহ মানে যেটা বুঝি না, সেটাকে মাথা উঁচু করে 'বুঝি না' বলা। তিনি আরো বলেন, যদি ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করলে দেশের মুক্তি হবে না- তাহলে বিদ্রোহ করা উচিত; বুক ফুলিয়ে অত্যাচারীকে অত্যাচারী বলা। 

তাতে আসতে পারে বাইরের নির্যাতন, ইংরেজদের মার- তবে তাতে বিদ্রোহীর অন্তরের আত্মপ্রসাদ বাড়বে। প্রাবন্ধিক ঔপনিবেশিক শাসনামলে সাহসের সাথে উল্লেখ করেছেন, পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে হলে সবার। আগে বিদ্রোহ করা জরুরি- সকল কিছু নিয়মকানুন বাঁধন-শৃঙ্খল মানা নিষেধের বিরুদ্ধে। 

আর এই বিদ্রোহ করতে হলে সকলকে আপনাকে চিনতে হবে। বুক ফুলিয়ে বলতে হবে 'আমি আপনাকে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ' অথবা 'যে যায় যাক সে, আমার হয়নি লয় ।

সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তাঁর সৈনিক সত্তারই শুধু নয়; বিদ্রোহী সত্তারও স্বরূপ তুলে ধরেছেন।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ