অনেক দিন পর মেয়ের নাম ধরিয়া কাঁদিল ।”- কে কেঁদেছিল, কেদেছিল? ব্যাখ্যা কর
অনেক দিন পর মেয়ের নাম ধরিয়া কাঁদিল ।”- কে কেঁদেছিল, কেদেছিল? ব্যাখ্যা কর
উত্তর : ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'র একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইন্দির ঠাকরুন কেঁদেছিল।
হরিহরের দূরসম্পর্কীয় দিদি ইন্দির ঠাকরুন। হরিহরের কষ্টের সংসার। এ কষ্টের সংসারে হরিহরের স্ত্রী কোনোমতেই ইন্দির ঠাকরুনকে মেনে নিতে পারে না।
তাই সে কোনোমতেই বুড়িকে দেখতে পারত না। হরিহরের স্ত্রী সর্বজয়া । খুঁটিনাটি নিয়ে দু'বেলা বুড়ির সাথে ঝগড়া বাধায়। আর বুড়িকে পর বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। বুড়ি মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে চলে -ত যেত আবার ফিরে আসতো।
এমনই একবার ফিরে আসলেও ড়ি সর্বজয়া বুড়িকে উপদেশ ইঙ্গিতে জানিয়ে দেয় তার পথ দেখতে। না কিন্তু সত্তর বছরের মধ্য বুড়ি তার সন্ধান পায় নাই, ভেবেই সে শ্রী ঠাহর পায় না। অবশেষে বুড়ির মনে ভাণ্ডাহাটিতে তার না জামাইবাড়ি জামাইয়ের অবস্থা বেশ ভালো অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ।
জামাইয়ের সাথে তার পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ বছর হয় কোনো যোগাযোগ স নেই। তারপরও সে সেখানে গিয়ে থাকার জন্য মনঃস্থির করে সেই মোতাবেক সে গাড়োয়ান ডেকে গাড়ি নিয়ে ভাণ্ডারহাটিতে রওয়ানা দেয় এবং বুড়ির জামাই চন্দর যখন বুড়ির সম্মুখে হাজির হয় তখন সে তার জামাইকে বুঝানোর জন্য যে সে কে এবং তাকে চিনতে পেরেছে কি না এই অছিলায় সে তার মৃত মেয়ের নাম ধরে কাঁদতে থাকে।
তখন বুড়ির জামাই বুড়িকে চিনতে পারে ও বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। মানুষ অনেক সময় তার নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য অন্যকে ব্যবহার করে এখানে বৃদ্ধ ইন্দির ঠাকরুনও তাই করেছে।
.png)