পথের পাঁচালী' উপন্যাসের আলোকে বিশালাক্ষী দেবী সম্পর্কে যা জান লেখ


পথের পাঁচালী' উপন্যাসের আলোকে বিশালাক্ষী দেবী সম্পর্কে যা জান লেখ

উত্তর : প্রকৃতিবাদী ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'র একজন শক্তিশালী দেবীর নাম বিশালাক্ষী। 

অপুদের বাড়ির পাশে বনের মধ্যে একটা মজা পুকুর ছিল, তারই পাড়ে ছিল একটি ভাঙা মন্দির ছিল। কোনো এক সময়ে ঐ মন্দিরে বিশালাক্ষী দেবী ছিলেন। 

তিনি ছিলেন গ্রামের মজুমদার বংশের প্রতিষ্ঠিত দেবতা, এক সময়ে কি বিষয়ে সফলমনস্কাম হয়ে তারা দেবীর মন্দিরে নরবলি দেন, তাতে রুষ্টা হয়ে দেবী স্বপ্নে জানিয়ে দেন যে, তিনি মন্দির পরিত্যাগ করে চলে গেলেন, আর কখনো ফিরবেন না। 

অনেক কালের কথা, বিশালাক্ষীর পূজা হতে দেখেছে এরূপ কোনো লোক আর জীবিত নেই, মন্দিরটি ভেঙেচুরে গেছে মজুমদার বংশেও বাতি দিতে আর কেউ বর্তমান নেই। অনেকদিন আগে গ্রামের স্বরূপ চক্রবর্তী ভিন-গাঁ থেকে নিমন্ত্রণ খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যার সময় নদীর ঘাটে বিশালাক্ষী দেবীকে দেখেছিলেন। 

দেবী স্বরূপ চক্রবর্তীকে মিষ্টসুরে বলেছিল-আমি এ গ্রামের বিশালাক্ষী দেবী। গ্রামে অল্পদিনে ওলাউঠার মড়ক আরম্ভ হবে- বলে দিও চতুদর্শীর রাত্রে পঞ্চাননতলায় একশ আটটা কুমড়ো বলি দিয়ে যেন কালীপূজা করে।” 

কথা শেষ হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গেই স্বরূপ চক্রবর্তীর চোখের সামনে বিশালাক্ষী দেবী চারধারের শীত-সন্ধ্যার কুয়াশায় ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ