কাজী আবদুল ওদুদের শাশ্বত বঙ্গ গ্রন্থের 'কালিদাস ও রবীন্দ্রনাথ' প্রবন্ধের আলোকে রবীন্দ্রনাথের কালিদাস প্রীতির পরিচয় দাও


কাজী আবদুল ওদুদের শাশ্বত বঙ্গ গ্রন্থের 'কালিদাস ও রবীন্দ্রনাথ' প্রবন্ধের আলোকে রবীন্দ্রনাথের কালিদাস প্রীতির পরিচয় দাও 

উত্তর : বাংলা সাহিত্যে কাজী আবদুল ওদুদ অনন্য প্রতিভার অধিকারী একজন মননশীল প্রবন্ধকার। 

মুক্তবুদ্ধির ধারক ও বাহক, ধর্মীয় কুসংস্কার বা কূপমণ্ডূকতা মুক্ত, কাজী আবদুল ওদুদের শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক এ প্রবন্ধে লেখক দুই কালের দুই মহাভাবুক ও মহাশিল্পী কালিদাস ও রবীনাথের সাহিত্য চিন্তা ও শৈলীগত তুলনা করেছেন। 

উভয়ের সৌন্দর্যবোধ ও রসবোধের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রবন্ধে আমরা রবীন্দ্রনাথের মধ্যে কালিদাসপ্রীতি লক্ষ করি। 

নিম্নে রবীন্দ্রনাথের কালিদাস প্রীতির কারণ সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করা হলো :

কালিদাসপ্রীতি রবীন্দ্রনাথ লাভ করেছিলেন উত্তরাধিকার সূত্রে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের 'আত্মচরিতে' কালিদাসের ভাষা মাঝে মাঝে উকি দিয়েছে, মহর্ষির কালিদাসপ্রীতি তাঁর বিখ্যাত পুত্রদের প্রায় প্রত্যেকেই সংক্রমিত হয়েছিলেন। 

জ্যোতিরিন্দ্রনাথের শকুন্ত লার অনুবাদ কিছুটা পরিবর্তন করে রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'শকুন্তলা' প্রবন্ধে উদ্ধৃত। আর দ্বিজেন্দ্রনাথের মানুরাগ 'মেঘনূত' আবৃত্তি কিশোর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্তকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। এভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে রবীন্দ্রনাথের মাঝে কালিদাস প্রীতি জন্মেছিল। 

এছাড়া রবীন্দ্রনাথের গভীর কালিদাস প্রীতিতে তাঁর স্বীকরণ বৃত্তি কার্যকরী হয়েছে। কেননা প্রতিভার স্বধর্ম স্বীকরণ অনুকরণ নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে ও স্বীকরণ বৃত্তি কার্যকরী হওয়ার ফলেই প্রাচীন কালের মহাভাবুক ও মহাশিল্পী কালিদাসের প্রতি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মহাশিল্পীর প্রীতি গভীরভাবে জন্মেছিল।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ