বলশফ কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধর


বলশফ কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে 
ধর

উত্তর : বলশফ ছিলেন আমানউল্লার এয়ার ফোর্সের ডাঙর পাইলট। বলশেভিক বিপ্লব জুড়িয়ে গিয়ে থিতিয়ে যাওয়ার সময় তার সংকটাকীর্ণ মনে কাবুলে এসে নতুন বিপদের সন্ধানে আমানউল্লা চাকরি নিয়েছিলেন। শেষদিন পর্যন্ত তিনি আমানউল্লার সেবা করেছিলেন।

লেখক আবদুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় করে দেবার সময় যে দ্বিতীয় দানবের কথা বলেছিলেন ইনিই সে বিভীষিকা। লেখক বহুবার এর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছেন- কাবুল বাজারের মতো পপুলার লীগ অব নেশনসে আজ পর্যন্ত এমন কোনো দেশি বিদেশি চোখে পড়ে নি যে তাকে দেখে বিস্মিত হন নি। 

হুঁশিয়ার সওয়ার হলে সাথে সাথেই ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরেছে-বহু ঘোড়াকে ঘাবড়ে গিয়ে সামনের পা দুটিকে আকাশে তুলতে দেখা যায়। টেনিস কোর্টে র‍্যাকেট নিয়ে নামলে শত্রুপক্ষ বেজ লাইনের দশ হাত দূরে তারের জালের গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। 

বলশফ বেজে দাঁড়ালে তার কোনো পার্টনার বেজে দাঁড়াতে রাজি হতো না। শত্রুপক্ষের তো কথাই উঠে না। তাঁতের র্যাকে ঘন ঘন ছিঁড়ে যেত বলে অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় ধাতুর র‍্যাকেট নিয়ে তিনি তাড়ু হাঁকাতেন, স্বচ্ছন্দে নেট ডিঙাতে পারতেন- লাফ দেবার প্রয়োজন হতো না। 

আর ঝোলা নেট টাইট করার জন্য এক হাতে হ্যান্ডেল ঘোরাতেন যেভাবে মেয়েরা সেলাই কলের হাতল ঘোরাতেন ঠিক তেমন করেই ।

শোনা যায় বিলেতে কোনো কোনো ছবি নাকি ষোলো বছরের কম বয়সীদের দেখতে দেওয়া হয় না- চরিত্র দোষ হবে বলে। যাদের ওজন একশ ষাট পাউন্ডের কম তাদের ঠিক তেমনি বলশফের সঙ্গে শেকহ্যান্ড করা বারণ ছিল। পাছে হাতের নড়া কাঁধ থেকে খসে যায় মহিলাদের জন্য ছিল পৃথক ব্যবস্থা।

বীরপুরুষ হিসেবে রাশিয়ান দূতাবাসে বলশফের খ্যাতি ছিল। ১৯১৬ সাল থেকে বলশেভিক বিদ্রোহের শেষ পর্যন্ত তিনি দেশে বিদেশে বিস্তর লড়াই করেছেন। ১৯১৬-১৭ সালের শীতকালে যখন রুশবাহিনী পোল্যান্ডে লড়াই হেরে পালিয়ে যায় তখন বলশফ রাশিয়ান ক্যাভালরিতে ছোকরা অফিসার। 

সেবারে ঘোড়ায় চড়ে পালাবার সময় তার পিঠের চৌদ্দ জায়গায় জখম হয়েছিল। বিস্তর ঝোলাঝুলির পর একদিন শার্ট খুলে তিনি দাগগুলো লেখককে দেখিয়েছিলেন। কোনো কোনোটা আধ ইঞ্চি পরিমাণ গভীর। লেখক সেই দাগ দেখে রসিকতা করে বলেছিলেন-পৃষ্ঠে তব অস্ত্র লেখা।”

বলশফকে কেউ কখনো চটাতে পারে নি বলে রসিকতাটা তিনি করেছিলেন। তিনি ভারতবর্ষের ক্ষাত্র বীরত্বের 'কোড' শুনে বললেন –যদি সেদিন না পালাতাম তবে ট্রটস্কির আমলে পোলদের বেধড়ক পাল্টা মার দেবার সুখ থেকে যে বঞ্চিত হতাম, তার কি হতো? 

মাদাম দেমিদফ সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন, “আর জানেন তো মসিয়ো, ঐ লড়াইতেই সোভিয়েত রাশিয়ার অনেক পথ সুরাহা হয়ে যায়? বলশফের একটা বড় দোষ তিনি একদণ্ডও চুপ করে বসে থাকতে পারেন না। 

হাত দু'খানা নিয়ে কি করবেন সেটা ঠিক করতে পারেন না বলে এটা সেটা নিয়ে সবসময় নাড়াচাড়া করেন,কেখেয়ালে একটু বেশি চাপ দিতেই কর্ক স্ক্রুটা পর্যন্ত ভেঙে যায়। তিনি ঘরে ঢোকার আগেই লেখক টুকিটাকি জিনিস তার হাতের নাগাল থেকে সরিয়ে ফেলতেন। 

তিনি ঘরে ঢুকলেই লেখক তাকে তৎক্ষণাৎ একথালা আস্ত আখরোট খেতে দিতেন। মাঝে মাঝে দুটি একটি খেতেন যাওয়ার সময় দেখা যেত সবকটি আখরোটের খোসা ছড়িয়ে ফেলেছেন, চহামগজশিকন (হাতুড়ি) না দেওয়া সত্ত্বেও। 

এ রকম অজাতশত্রু লোক সমস্ত কাবুল শহরে দুটি চোখে পড়ে না। যখন দেমিদফের ঘরে আলোচনা চলছিল তখন| বলশফের সবচেয়ে দিল্লি দোস্ত রোগাপটকা নিয়েশকফ বলেছিলেন, বলশফের সঙ্গে সকলের বন্ধুত্ব তার গায়ের জোরের ভয়ে।"





Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ