business loans, commercial loan, auto insurance quotes, motorcycle lawyer

প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোন কোম্পানি চালু করে - বিস্তারিত জানুন

 বন্ধুরা আজকে আমরা জানব প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোন কোম্পানি চালু করে এবং কত সালে।


অ্যান্ড্রয়েড, আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা আমাদের প্রিয় স্মার্ট-ফোনটি খুঁজি।স্মার্ট-ফোন ছাড়া বর্তমানে একটি দিনও কল্পনা করা যায় না।আর আমাদের এই অতি প্রয়োজনীয় স্মার্ট-ফোনের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস (Opareting System or OS) হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড।

অ্যান্ড্রয়েড আমাদের অত প্রিয় কারণ আর কোন ওএস অ্যান্ড্রয়েডের মতো কাস্টমাইজএবল নয়।আমরা একে আমাদের যেরকম ইচ্ছা সেরকমভাবে সাজাতে পারি।তো আমরা কি আমাদের প্রিয় অ্যান্ড্রয়েড এর ইতিহাস জানি? যদি না জেনে থাকেন তার জন্যই আজকে আমার এই লিখা।এই লিখাই আমরা অ্যান্ড্রয়েডের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে জানতে চেষ্টা করবো।

প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোন কোম্পানি চালু করে


অ্যান্ড্রয়েডের শুরু:-  

অ্যান্ড্রয়েড একদিনে আমদের সামনে আসেনি। এর জন্য অনেক মানুষের রাতদিন কাজ করতে হয়েছে। সেইসব মানুষদের পরিশ্রমের কারণেই আজকের এই অ্যান্ড্রয়েড এসেছে। অ্যান্ড্রয়েডের শুরুর কথা জানতে হলে আমাদেরকে এক যুগ পিছনে ফিরে যেতে হবে। তখন Andy Rubin নামে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার ছিলও। সে Apple এ কাজ করতো। তার Danger নামে একটি ছোট মোবাইল সফটওয়্যার কোম্পানি ছিলও। Danger জনপ্রিয় হয়েছিলো Hiptop নামে একটি স্মার্ট-ফোনের মাধ্যমে যেটাতে ছিলও একটি ল্যান্ডস্কেপ কী-বোর্ড ও একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে একইসাথে ই-মেইল,ওয়েব ব্রাউজিং ও মেসেজ পাঠানো যেতো।


Hiptop বাজারে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে শুধুমাত্র এর ফিচারের জন্য না। এর সফলতার আরেকটি অন্যতম কারণ এর বাজার মূল্য এর উৎপাদন মূল্যের প্রায় কাছাকাছি। তারা পরে Hiptop কে T-Mobile এর সাথে অংশীদার হয়ে SideKick নামে বাজার জাত করে।তারা তাদের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য স্মার্ট-ফোন বাজারে খুব শীঘ্রই Blackberry ও Microsoft এর সাথে নিজেদের জায়গা করে নেয়। গুগলের Larry Page  এবং Sergey Brin , SideKick এর জনপ্রিয়তা দেখে চিন্তা করেন যে এটা কেমন হয় যদি কেউ যেখানেই থাকুক না কেনও Google ব্যবহার করছে। তারা এমন প্লাটফর্ম চাচ্ছিলও যেটাতে গুগল ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকবে।


 তারপর ২০০৩ সালে Andy Rubin ,Rich Miner ,Nick Sears এবং Chris White মিলে Palo Alto, California তে অ্যান্ড্রয়েড ইন-কর্পোরেট (Android Inc.) প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের লক্ষ্য ছিলও এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা যা সব সফটওয়্যার ডিজাইনারদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।তারা প্রথমে ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য ওএস বানানোর চিন্তা ভাবনা করে কিন্তু পরে এর বাজার চাহিদা কম দেখে স্মার্ট-ফোনের ওএস বানানোর কাজ শুরু করে যাতে করে তারা সিম্বিয়ান ও মাইক্রোসফটের ঊইন্ডোজ ফোনের সাথে পাল্লা দিতে পারে।


প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোন কোম্পানি চালু করে

অ্যান্ড্রয়েড এমন একটি কোম্পানি যা তাদের প্রতিষ্ঠার প্রথম দুই বছর কোন উৎপাদন দেয়নি। তারপর ২০০৫ সালে গুগল অ্যান্ড্রয়েড কে তাদের সহ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে।তখন থেকেই ধারণা করা হতে থাকে যে গুগল মোবাইলে বাজারে প্রবেশ করবে। Rubin ও তার দল লিনাক্স কার্নেলের উন্নতি সাধন করে।গুগল অ্যান্ড্রয়েড কে বাজারে ছাড়ে হ্যান্ড-সেট ও মোবাইলে সংযোগ-দাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে,শর্ত থাকে যে গুগল এর নিয়মিত হালনাগাদ করতে থাকবে।


৫ নভেম্বর ২০০৭ এ Google , HTC,  Motorola, Samsung, Sprint, T-Mobile, Qualcomm এবং Texas instruments এর মধ্যে Open Handset Alliance অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে তারা মোবাইলের জন্য প্রথম সত্যিকারের উন্মুক্ত ও ব্যাপক  প্লাটফর্ম  তৈরির ব্যাপারে এক হয়।প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্ট-ফোন হচ্ছে HTC Dream (T-Mobile G1) যা ২০০৮ সালে উন্মুক্ত হয়।


২০০৮ সালে HTC Dream এর মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড  বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। অ্যান্ড্রয়েডের প্রথম দুই ভার্সন অর্থাৎ ১.০ ও ১.৫ এর কোন কোড-নেম নেই তবে সাধারণত একে আলফা(Alpha) ও বেটা(Beta) বলা হয়।আলফা রিলিজ হয় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ও বেটা রিলিজ হয় ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আমরা যেমনটা জানি অ্যান্ড্রয়েডের কোড-নেম গুলো সাধারণত অ্যালফেবেটিকাল অর্ডারে হয়ে থাকে এবং নামগুলো বিভিন্ন মিষ্টান্নের নামে হয়ে থাকে। এই রীতি অ্যান্ড্রয়েড ১.৫ থেকে চলে আসছে।অ্যান্ড্রয়েড ১.৫ এর নাম ছিলও Cupcake এবং তা এপ্রিল ২০০৯ এ রিলিজ হয়।পরবর্তীতে মে ২০০৯ এ অ্যান্ড্রয়েড ১.৬ রিলিজ হয় যার নাম ছিলও Donut।


এরপর অ্যান্ড্রয়েডের আরও অনেকগুলো ভার্সন রিলিজ হয়েছে।এ পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের মোট ১৪ টি সংস্করণ রিলিজ হয়েছে।২০০৯ এর অক্টোবরে অ্যান্ড্রয়েড ২.০-২.১ Éclair, ২০১০ এর মে তে অ্যান্ড্রয়েড ২.২-২.২.৩ Froyo,২০১০ এর ডিসেম্বরে অ্যান্ড্রয়েড ২.৩-২.৩.৭ Gingerbread,২০১১ এর ফেব্রুয়ারিতে অ্যান্ড্রয়েড ৩.০-৩.২.৬ Honeycomb,২০১১ এর অক্টোবরে অ্যান্ড্রয়েড ৪.০-৪.০.৪ Ice cream Sandwich,২০১২ এর জুলাইতে অ্যান্ড্রয়েড ৪.১-৪.৩.১ Jelly Bean,২০১৩ এর অক্টোবরে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪-৪.৪.৪ Kitkat,২০১৪ এর নভেম্বরে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০-৫.১.১ Lollipop,২০১৫ এর অক্টোবরে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০-৬.০.১ Marshmallow ও সর্বশেষ ২০১৬ এর আগস্টে অ্যান্ড্রয়েড ৭.০-৭.১.২ Nougat।এ বছর অ্যান্ড্রয়েড ৮ অথবা Android O রিলিজ হওয়ার কথা রয়েছে।ইতিমধ্যে মার্চ  মাসে এর ডেভেলপার প্রিভিউ রিলিজ হয়ে গেছে।


আমদের আজকের অ্যান্ড্রয়েড অনেক মানুষের পরিশ্রমের ফসল।অ্যান্ড্রয়েড এর এই পথচলা অতটা সহজ ছিলনা। বিশেষ করে তখনকার সময় Apple ও Microsoft এর সাথে তাদের পাল্লা দিতে হয়েছিল যা ছিলও তখনকার অন্যতম সফল কোম্পানি।তবুও বহু মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি অ্যান্ড্রয়েড ভবিষ্যতে আমদের আরও নতুন নতুন ফিচার দিবে।


যদি পোস্ট টি ভাল লাগে তাহলে বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে ভুল্বেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url