আরকে রায়হান https://www.rkraihan.com/2022/04/tarabir-namaz-dow.html

তারাবির নামাজের দোয়া | তারাবির নামাজের নিয়ম | তারাবি নামাজ কত রাকাত


আসসালামু আলাইকুম। আমাদের ভিতর অনেকের একটা অজানা বিষয় তারাবির নামাজের নিয়ম। আমরা অনেকে জানি না তারাবির নামাজ কত রাকাত, তারাবির নামাজের নিয়ম, তারাবি নামাজের নিয়ত, তারাবির নামাজের মোনাজাত অর্থাৎ বলা যায় তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন সম্পর্কে অজানা।

তারাবির নামাজের দোয়া  তারাবির নামাজের নিয়ম  তারাবি নামাজ কত রাকাত
তারাবির নামাজের দোয়া  তারাবির নামাজের নিয়ম  তারাবি নামাজ কত রাকাত

সে জন্য আমরা আজকে আমাদের ব্লগে তারাবির নামাজের নিয়ম সম্পর্কে তুলে ধরব। আর হ্যা আমরা যতদুর পারি তারাবির নামাজের সকল প্রশ্নের উত্তর আজকের এই টপিকে দেওয়ার চেষ্টা করব। তো বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল ও তারাবির নামাজের নিয়ম দোয়া এবং একাকি তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে। তো মুল পোস্টে যাওয়ার আগে আপনারা সুচিপত্র থেকে দেখে নিন কি কি জানতে পারবেন আমাদের আজকের তারাবির নামাজের দোয়া পোস্টে।

সুচিপত্রঃ তারাবির নামাজের দোয়া | তারাবির নামাজের নিয়ম | তারাবি নামাজ কত রাকাত

তারাবি অর্থ কি | তারাবির নামাজ কি

তারাবীহ অর্থ হচ্ছে ক্ষণিক বিশ্রাম। রমযান মাসে ইশার নামাযের পর তারাবীহ নামাযের প্রতি চার রাকআতের পরে আল্লাহর রাসূল (সঃ) কিছু সময় বিশ্রাম নিতেন। তাই ফকীহগণ এ নামাযের নামকরণ করেছেন তারাবীহ অর্থাৎ ক্ষণিক বিশ্রাম। হাদীসে সালাতুত তারাবীহ বলে কোন শব্দ নেই। বরং হাদীসে বলা হয়েছে, মান কামা রামাদানা ঈমানান ওয়া ইহতিসাবান-গুফিরা লাহু মা তাকাদ্দামা মিন জামবিহি। অর্থাৎ যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমান ও ইখলাসের সাথে কিয়াম করবে, তার পূর্বকৃত সমস্ত গােনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত নব্বী (রহঃ) মুসলিম শরীফের শরায় লিখেছেন, কিয়াম শব্দটি দ্বারা মূলত সালাতুত তারাবীহকে বুঝানাে হয়েছে। কেননা তারাবীহ নামায রমযানের অন্যতম। বৈশিষ্ট্য।

তারাবির নামাজ কত রাকাত | তারাবীহ নামাযের রাকআতের সংখ্যা | তারাবির নামাজ কত রাকাত এবং কিভাবে পড়বেন

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-এর মতে তারাবীহ নামায ২০ রাকআত। ইমাম। শাফেয়ী (রহঃ)-ও ইহা গ্রহণ করেছেন।

হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) তাদেরকে সাথে নিয়ে তারাবীহ নামায ৮ রাকআত আদায় করেছিলেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করেছিলেন। অবশ্য কোন । কোন মুহাদ্দিস এ হাদীসকে সনদগত দিক দিয়ে যয়ীফ বলেছেন; কিন্তু এর মর্ম । সহীহ। কেননা ইমাম বায়হাকী (রহঃ)-এর এক সহীহ বর্ণনায় আছে, হযরত ওমর ফারুক (রাঃ), হযরত উসমান (রাঃ) এবং হযরত আলী (রাঃ)-এর যুগে তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করা হতাে। 

মহানবী (সঃ) যদি তারাবীহ নামায ২০ রাকআত না-ই আদায় করতেন তাহলে তারা ২০ রাকআত আদায় করতে কোন অবস্থাতেই সাহস করতেন না। এবং অপর সাহাবীরাও অবশ্যই এর প্রতিবাদ করতেন। সুতরাং বুঝা যায়, মহান (সঃ) প্রথম দিকে তারাবীহ নামায ৮ রাকআত আদায় করতেন এবং শেষের দিকে ২০ রাকআত আদায় করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) শেষ অবস্থাটিই গ্রহণ করেছেন। | সুতরাং তারাবীহ নামায ২০ রাকআত হওয়ার ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) এবং সর্বযুগের মুসলিম উম্মাহ ও মুজতাহিদ ইমামগণ ঐক্যমত পােষণ করেছেন।

তারাবীহ নামাযের ওয়াক্ত 

তারাবীহ নামাযের সময় ইশার নামাযের পর হতে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। বিতের নামাযের পূর্বে ও পরে তারাবীহ নামায আদায় করা যায়। তবে বিতেরের পূর্বে আদায় করাই উত্তম।

তারাবীহ নামাযের নিয়ত | তারাবির নামাজের নিয়ত বাংলায় উচ্চারণ

نويت أن أصلى لله تعالى ركعتی صلوة التراويح منه رسول الله تعالی متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله أكبر.

উচ্চারণঃ নাওয়াইতুআন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআ'লা রাকাআ'তাই সালাতিত তারাবীহ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার। 

বাংলা নিয়তঃ আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তারাবীহর দুই রাকআত সুন্নাত নামাযের নিয়াত করছি। আল্লাহু আকবার।।

তারাবির নামাজের নিয়ম | তারাবীহ নামায আদায় করার নিয়ম 

ইশার নামায আদায় করার পর অর্থাৎ ইশার চার রাকআত ফরয, তারপর দু'রাকআত সুন্নত নামায আদায় করার পর তারাবীহ নামায দু'রাকআত করে আদায় করতে হয়। এভাবে মােট বিশ রাকআত নামায আদায় হবে। একাকী দু'রাকআত সুন্নত নামায আদায় করার যে নিয়ম রয়েছে, তারাবীহ নামাযও একই নিয়মে আদায় করতে হয়। শুধু কারণবশতঃ তারাবীহ নামাযের নিয়ত করতে হবে। একাকী নামায আদায় করার ক্ষেত্রে দু'রাকআতের নিয়ত করার পর প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহাসহ অন্য একটি করে সূরা পাঠ করতে হবে। আর জামাআতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের পিছনে কোন সূরা কিরাত পাঠ করতে হবে না। মনােযােগের সাথে ইমাম সাহেবের কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করতে হবে। দু'রাকআত শেষ করে বসে আত্তাহিয়্যাতু, দরূদ শরীফ এবং দোয়া মাসূরা পাঠ করে দু'দিকে সালাম ফিরায়ে পুনরায় দু'রাকআতের নিয়ত করতে হবে। চার রাকআত নামায আদায় করা হলে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিবে। বিশ্রাম নেয়া মুস্তাহাব। বিশ্রাম নেয়ার সময় উপরােক্ত দোয়া বা অন্য যে কোন দোয়া বা তাসবীহ। পাঠ করা যায়। তবে এ দোয়া পাঠ করতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। চুপচাপ বসে থাকলেও কোন গুনাহ বা নামাযের কোন ক্ষতি হবে না। আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা উক্ত দোয়া জানেন না বলে নামায আদায় করতে চান না। এটা অত্যন্ত ভুল এবং অততা ছাড়া আর কিছু নয়। এ সব দোয়া ও মুনাজাত নামাযের কোন অংশ নয়। প্রতি চার রাকআত নামাযের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যায়। আবার বিশ রাকআত শেষ করে বিতর নামাযের পূর্বে মুনাজাত করাই উত্তম।

তারাবির নামাজের দোয়া | তারাবীহ নামাজের দোয়া আরবিতে ছবি pdf

প্রতি চারি রাকআত শেষে বসে নিম্নের দোআটি পড়া যায়। না পড়লেও দোষের কিছু নেই; বরং পড়তেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা আরােপ করা ঠিক হবে না।

شبح في المللي والملكوت شبح ذى العترة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت بخن الملك الحي الذي لا ينام ويموت ابدا ابدا سبع و ربنا ورب المملكة والروح.

উচ্চারণ: সােবহানা যিলমুলকি ওয়াল মালাকুতি, সােবহানা যিলইযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি, সােবহানা মালিকিল হাইয়্যিল্লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামূতু আবাদান আবাদান, সুনূহুন কুদ্‌সুন রান্ধুনা ওয়া রাব্দুল মালাইকাতি ওয়াররূহ।

প্রতি চার রাকআত শেষে উল্লেখিত দোআ পড়ার পর কোন প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়া নিম্নের মােনাজাত করা যায়। বিশ রাকআত শেষে একত্রেও করা যায়। না করলেও দোষের কিছু নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন জামাআতে উপস্থিত লােকজনের কষ্ট না হয়।

তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ | তারাবি নামাজের মোনাজাত

تلك الجنة ونعود بك من التار یاخالق الجنة اللهم انا واللار برحمتك يا عزيز ياغفاریاکریم یا ستاریا رحیم یا جبار یا

خالق یا با اللهم أجرنا من النار يا مجیر یا مجیر یا مجير برحمتك يا ارحم الراحمين .

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা জান্নাতা ওয়া নাউযু বিকা মিনান নারি, ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়াননারি, বিরাহমাতিকা ইয়া আযীযু ইয়া গাফ্ফারু ইয়া কারীমু ইয়া সাত্তারু ইয়া রাহীমু ইয়া জাব্বারু ইয়া খালিকু ইয়া বা রু, আল্লাহুম্মা অজিরনা মিনান্নারি ইয়া মুজীরু ইয়া মুজীরু ইয়া মুজীরু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রা হিমীন।

অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আমরা তােমার নিকট বেহেশত প্রার্থনা করি এবং দোযখ। হইতে তােমার আশ্রয় চাহিতেছি। হে বেহেশত ও দোযখের সৃষ্টিকর্তা! তােমারই কৃপা দ্বারা, হে সর্বজয়ী! হে অতি ক্ষমাশীল! হে মহান দয়ালু! হে বৃহৎ দোষ-আচ্ছাদনকারী! হে কৃপাময়! হে মহৎ শক্তিধর! হে মহান সৃষ্টিকর্তা! হে উপকারী! হে আল্লাহ্! আমাদিগকে দোযখ হইতে রক্ষা কর। হে মুক্তিদাতা! হে। ত্রাণকর্তা! হে রক্ষাকারী! হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু ! তােমারই আপন অনুগ্রহে আমাদিগকে | জাহান্নামের আগুন হইতে রক্ষা কর।

তারাবীহ নামাযের দোআ ও মুনাজাত জানা না থাকলে করণীয় 

এ দোয়া কোন ছহীহ্ হাদীসে উল্লেখ নেই। আবার এমন কিছু লােক আছে, যারা এই দোয়া না জানার কারণে তারাবীহর নামাযই আদায় করে না। এ সকল লােকদেরকে বুঝিয়ে দেয়া দরকার যে, এ দোয়া পাঠ না করলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না। নামায হয়ে যাবে। যদি পারে তাহলে শুধু  (সুবহানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লা-হিল আযীম)। পাঠ করবে। কিছু পাঠ না করে চুপ করে বসে থাকলেও নামাযের কোন ক্ষতি নেই। প্রতি চার রাক'আত পর মুনাজাত করা দুরস্ত আছে, কিন্তু বিশ রাক'আতের পর বের নামাযের পূর্বে মুনাজাত করাই উত্তম।

ইশার নামায অথবা তারাবীহ নামায ছুট গেলে করণীয়

তারাবীহ নামাযের পূর্বে ইশার নামায অবশ্যই আদায় করতে হবে। ভুলক্রমে। ইশার নামায আদায় না করে তারাবীহ ও বিতির নামায আদায় করে থাকলে পুনরায় ইশা, তারাবীহ ও বিতির নামায পর্যায়ক্রমে আদায় করতে হবে।

ইশার জামাআত হয়ে যাওয়ার পর কেউ মসজিদে এলে সে প্রথমে একাকী ইশার নামায আদায় করে নিবে এবং পরে তারাবীহর নামাযে জামাআতের সাথে অংশ নিবে। জামাআতে তারাবীহ নামায দু'চার রাকআত ছুটে গিয়ে থাকলে মুক্তাদী বিতির নামায ইমামের সাথে জামাআতে আদায় করার পর একাকী ছুটে যাওয়া তারাবীহ নামায আদায় করবে। তবে একাধিক ব্যক্তির এরূপ অবস্থা হয়ে থাকলে তারা বিতিরের পর স্বতন্ত্র জামাআত করেও ছুট যাওয়া তারাবীহ নামায আদায় করতে পারে। কেননা, তারাবীহ নামাযের ওয়াক্ত বিতিরের পরেও থাকে। তাই ছুট। যাওয়া তারাবীহর জন্য বিতিরের জামাআত ছেড়ে দেয়া উচিত নয়।

কোন কারণবশতঃ তারাবীহ নামায বাতিল হয়ে গেলে বা আদায় করতে না পারলে সুবহে সাদিক পর্যন্ত তা আদায় করার সময় থাকে।

সূরা তারাবীহ আদায়ের নিয়ম

০১। সূরা তারাবীহর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় রাকআতে কুরআনের যে কোন অংশ । বা যে কোন সূরা পড়তে পারবে অথবা দ্বিতীয় রাকআতে প্রতিবারই সূরা ইখলাছ । পড়লেও জায়েয আছে। (শামী ২/৪৭, দারুল উলুম ৪/২৫১) 

০২। সূরা ফীল হতে সূরা নাস পর্যন্ত দশটি সূরার দ্বারা দশ রাকআত পড়ে আবার সূরা ফীল হতে নাস পর্যন্ত বাকী দশ রাকআত পড়ে নিবে। (শামী ২/৪৭), | রমযানের চাঁদ উঠার পর হইতে শাওয়াল মাসের চাঁদ না উঠা পর্যন্ত ১ মাস এশার নামাযের পর বেতের নামাযের পূর্বে দুই দুই রাকআত করে ১০ সালামে ২০ রাকআত নামায আদায় করতে হয়। এই নামাযকে তারাবীর নামায বলা হয়। এই নামায জামাআতের সহিত পড়া সুন্নতে মােআক্কাদায়ে কেফায়া। ওরবশতঃ একাও। | পড়া চলে। তারাবীহ নামাযে সারা রমযান মাসে একবার কোরআন শরীফ খতম করা সুন্নত। যদি ইমাম হাফেয না হন তবে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহার পর সূরা এখলাস অথবা অন্য সূরা বা আয়াত পড়বে। এই নামায একা পড়লে বেতেরের নামাযও একা পড়বে। কিন্তু তারাবীর নামায জামাআতে পড়লে অধিক সওয়াব হবে।

তারাবীহ নামাযে পবিত্র কুরআন খতম করা 

রমযান মাসে তারাবীহ নামাযে একবার পবিত্র কুরআন খতম করা সুন্নত, দু'বার খতম করা ফযীলতের কাজ। মূলত পবিত্র কুরআন খতম করাই তারাবীহ নামাযের সুন্নত পদ্ধতি। মুসল্লীদের অলসতা বা অহেতুক অনীহার কারণে এ সুন্নাত। বর্জন করা যাবে না।

তারাবীহ নামাযের জামাআত

নবী করীম (সঃ) নিয়মিত তারাবীহ নামায জামাআতের সাথে আদায়। করতেন না। তিনি কয়েকদিন জামাআতের সাথে তারাবীহ নামায আদায় করেছিলেন, এ ছাড়া ঘরে তিনি একাকীও তা আদায় করতেন।

'মহানবী (সঃ) রমযান মাসের কয়েক রাতে বের হন এবং লােকদেরকে সাথে নিয়ে তারাবীহ নামায আদায় করেন। (বুখারী ও মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিয়মিত তারাবীহ নামায জামাআতের সাথে আদায় না করার কারণ ব্যক্ত করে বলেছেন, আমি নামাযের প্রতি এবং তা আমার সাথে জামাআতের সাথে আদায় করার প্রতি তােমাদের প্রচন্ড আগ্রহ লক্ষ্য করেছি, তবুও অন্যান্য রাতের মত আমি বের হই নি। আমার আশংকা হয় যে, তা তােমাদের প্রতি ফরয করে দেয়া হবে, আর ফরয করে দেয়া হলে তােমরা তা যথাযথভাবে আদায় করতে পারবে না। (মিশকাত)

পরবর্তীতে মহানবী (সঃ)-এর ওফাতের পর হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর খেলাফতের সময় এবং হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে লােকেরা রমযান মাসের রাতে একাকী এবং মসজিদে সমবেত হয়ে জামআতের সাথে তারাবীহ নামায আদায় করতেন। অতঃপর হযরত ওমর। ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাদের জন্য একজনকে ইমাম নির্ধারিত করে সকলকে এক জামাআতের সাথে তারাবীহ নামায আদায় করার ব্যবস্থা করে দিলেন। সে হলেন। সকলে এক জামাআতের সাথে বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতেন।

এ ঘটনা ছিল সকল সাহাবীর উপস্থিতিতে। কেউই এতে অসম্মতি প্রকাশ করেন নি। পরবর্তী যুগের তাবিয়ীগণ, তাবে-তাবিয়ীগণ, মুজতাহিদ ও ইমামগণসহ সকলেই তারাবীহ নামাযের এই পদ্ধতি মেনে নিয়েছেন এবং তদনুযায়ী আমল করেছেন । যেহেতু উম্মতের উপর ফরয হবার আশংকা আর নেই, তাই খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তারাবীহ নামায জামাআতের সাথে আদায় করার ব্যবস্থা করে দেন। সুতরাং এটা মহানবী (সঃ)-এর সুন্নতের পরিপন্থী নয়।।

ইমামে আজম হযরত আবু হানিফা (রহঃ) এবং ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) প্রমুখ ইমামদের নিকট তারাবীহ নামায ঘরে একাকী আদায় করা জায়েয আছে। তবে। জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম। হানাফী মতে তারাবীহ নামায জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ। | ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) তাঁর উস্তাদ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-কে তারাবীহ নামায এবং এ সম্পর্কে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কর্তৃক প্রবর্তিত ব্যবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বললেন, তারাবীহ নামায সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তারাবীহ নামায সম্পর্কে নিজের মনগড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি এবং তিনি বেদআতীও ছিলেন না অর্থাৎ দ্বীনের ব্যাপারে তিনি নতুন কোন কিছু আবিস্কার করেন নি। তিনি মূল দলীলের। ভিত্তিতে এবং মহানবী (সঃ)-এর নিকট হতে শিক্ষার প্রেক্ষিতেই তারাবীহ নামাযের জন্য এই জামাআতের ব্যবস্থা করেছিলেন।

তারাবীহ নামাযের ফযীলত 

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হযরত রাসূলে করীম (সঃ) রমযান মাসের নামায কায়েম করার জন্য উৎসাহ প্রদান। করতেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে খুব তাগিদ করতেন না বরং এরূপ বলতেন, যে । ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাসের সাথে রমযান মাসে কিয়াম করবে (অর্থাৎ তারাবীহ নামায আদায় করবে) তার পূর্ববর্তী (সগীরা) গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে।

অপর হাদীসে মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ পাক। তােমাদের উপর রমযান মাসে দিনের বেলায় রােযা ফরয করেছেন এবং রাতের বেলায় (তারাবীহ) নামায সুন্নত করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাসের। সাথে এ মাসে দিনের বেলায় রােযা রাখবে এবং রাতে কিয়াম করবে (অর্থাৎ তারাবীহ নামায আদায় করবে) তার পূর্বকৃত সমস্ত (সগীরা) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

খতম তারাবীহর কতিপয় মাসআলা 

রমযান মাসে তারাবীহর মধ্যে তারতীব অনুযায়ী একবার কুরআন শরীফ খতম। করা (পড়া/শুনা) সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। (শামী ২/৪৬) | তারাবীহর খতমের মধ্যে যে কোন একটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম জোরে পড়া চাই, নতুবা শ্রোতাদের খতম পূর্ণ হবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫১৯)।

নাবালেগের পিছনে ইত্তেদা করা জায়েয নয়, চাই ফরয নামাযে হােক বা তারাবীহর নামাযে হােক। (আলমগীরী ১/১১৭)।

ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল লােকমা দিয়ে হাফেজগণকে পেরেশান করা নিষিদ্ধ। (ফাতাওয়া দারুল উলুম ৪/২৫৮)।

তারাবীহতে এত দ্রুত তিলাওয়াত করা যা বুঝে আসে না এরূপ তেলাওয়াত সওয়াবের পরিবর্তে গােনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪/২৫৭) | হাফেজ সাহেব যদি আয়াত ভুলে গিয়ে চুপ-চাপ দাঁড়িয়ে অথবা বৈঠকে তাশাহহুদের আগে বা পরে চিন্তা করতে থাকেন এবং এর মধ্যে এক রুকন পরিমাণ (তিনবার সুবহানাল্লাহ বলার পরিমাণ) সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (ফাতাওয়া দারুল উলুম ৪/২৫৭)।

কোন আয়াত ভুলে থেকে গেলে বা ভুল পড়া হয়ে থাকলে পরবর্তী রাকআতে বা পরবর্তী তারাবীহ নামাযে অন্যান্য আয়াতের সাথে পড়ে নিতে হবে, নতুবা খতম পূর্ণ হবে না। (ফাতাওয়া দারুল উলুম ৪/২৯৪)

এমএ দিন তারাবাহর মধ্যেই খতম করার পর শেষ রাকআতে সরা কাবার শুরু থেকে ৬L পর্যন্ত পড়া মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া দারুল উলুম

তারাবীহর মধ্যে খতমের সময় সূরা এখলাছ তিনবার পড়া মাকরূহ। অর্থাৎ শ। তার বিশেষ নিয়ম মনে করে এরূপ আমল করা মাকরূহ। (হলাৰা, আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫০৯) | তারাবীহর মধ্যে সূরা ২-Jly থেকে শেষ পর্যন্ত সূরাগুলাের পর | '} বলা মাকরূহ। নামাযের বাইরে এরূপ আমল করা যায় । (দারুল উলুম ৪/২৫০)।

তারাবীহর বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেয়া-নেয়া জায়েয নয়, তবে হাফেজ সাহেবের যাতায়াত ভাড়া ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা বিধেয়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম ৪/২৬৩, ২৮৯)

বিশ রাকআত তারাবীহ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আট রাকআত নয়। (দারুল উলুম ৪/২৬৯, ২৮৯)

তারাবীহর নামায জামাআতের সাথে পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া। মহিলাদের তারাবীহ-র জামাআত করা মাকরূহ তাহরীমী। (দুররে মুখতার ৯৮. দারুল উলুম ৪/২৬৬)।

প্রতি চার রাকআত তারাবীহর পর এবং বিশ রাকআতের পর বিতরের পূর্বে চার রাকআত পরিমাণ বিশ্রাম করা মুস্তাহাব। জামাআতের লােকদের কষ্ট হওয়া বা জামাআতের লােক সংখ্যা কম হওয়ার আশংকা হলে এত সময় বিশ্রাম করবে না বরং কম করবে। (বেহেশতী গওহার)

এই বিশ্রামের সময় চুপ করে বসে থাকা, তাসবীহ তাহলীল, তিলাওয়াত, দুরূদ পড়া বা নফল নামায পড়া সবই জায়েয। আমাদের দেশে যে সােবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকৃতি তিনবার পড়ার প্রচলন আছে তাও জায়েয, তবে তাই পড়া জরুরী নয় বরং এই দুআ কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় ! এর চেয়ে বারবার পড়তে থাকা মুস্তাহাব। এবং এস, দু। চিৎকার করে নয় বরং নীরবে কিংবা গুনগুন শব্দ পড়া সমকাতাওয়ায়ে দারুল উলুম ৪/২৭১)

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Please do not enter any spam link in the comment box.

আরকে রায়হান নোটিফিকেশন