business loans, commercial loan, auto insurance quotes, motorcycle lawyer

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ জেনে নিবো। তোমরা যদি অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ টি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ  টি।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে 
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

ভাব-সম্প্রসারণঃ যে অন্যায় করে এবং যে সেই অন্যায় সহ্য করে, তারা উভয়ে সমান অপরাধী – উভয়ে সমান ঘৃণার পাত্র।

আইনের দৃষ্টিতে অন্যায়কারীকে অপরাধী মনে করা হয়। তাই তার জন্য শাস্তির বিধান থাকে। আবার অনেক মানুষ আছে তারা সরাসরি অন্যায় করে না, কিন্তু পেছনে থেকে অন্যায়কারীকে সহায়তা করে বা অন্যায় করতে উৎসাহিত করে। আইনের আওতায় এরাও কখনাে কখনাে অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়। আবার এমনও লোক থাকে - যারা প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে অন্যায় করে না, অন্যায় ঘটার সময়ে শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আইনের চোখে তাদের অপরাধী বলা যায় না। আইনের চোখে অপরাধী না হলেও এই নীরব দর্শকেরাও এক অর্থে অন্যায় ঘটাতে সহযােগিতা করে। কেননা, অন্যায় সংঘটিত হওয়ার সময়ে ওইসব দর্শক যদি সরব প্রতিবাদীর ভূমিকা পালন করত, তাহলে অন্যায় ঘটত না। আইনের চোখে এরা হয়তাে অপরাধী নয়, কিন্তু বিবেকের দায় থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া যায় না। সমাজ থেকে অন্যায়কে দূর করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিবেকের দায়সম্পন্ন সচেতন মানুষের উপস্থিতিও জরুরি, যারা অন্যায়ের প্রতিবাদে সব সময়ে সােচ্চার হবে, সরব হবে। অপরাধী যাতে অপরাধ করার সুযােগ না পায়, সবাইকে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

অন্যায়কারীকে যথাযথভাবে শান্তি দিলে অন্যায় প্রশ্রয় পায় না। আবার অন্যায় করতে না দিলে অন্যায়ের ঘটনা ঘটে না। তাতে সমাজ থেকে অন্যায় চিরতরে দূর হয়। তাই অন্যায়কারী এবং অন্যায়-সহকারী উভয়ই সমাজে নিন্দনীয়।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ

ভাব-সম্প্রসারণঃ এ সংসারে দুঃসময়ে যে ধৈর্য ধরে, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সুসময়ের অপেক্ষা করে, সে কখনাে পরাজিত হয় না। ধৈর্যশীলরাই জীবন-যুদ্ধে জয়ী হয়। পৃথিবীতে জীবন একদিকে যেমন পরম উপভােগ্য, অন্যদিকে পরাজয়, লাঞ্ছনা, হতাশা ও দুর্দশার কশাঘাতে জর্জরিত। রােগ-শােক ও অভাব-অভিযােগ সংসারের নিত্যদিনের চিত্র। তাই পীড়িত মানুষ যন্ত্রণায় অসহায়বােধ করে, আঘাতে-অপমানে জর্জরিত হয়, পরাজয়ের গ্লানিতে নিমগ্ন হয়ে হতাশায় মুষড়ে পড়ে। কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না। খারাপ সময়কে মােকাবেলা করতে হবে। জীবনে পরাজয় থাকে। সে পরাজয় মেনে। নিয়ে পরবর্তী যুদ্ধজয়ের সংকল্পে ব্ৰতী হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এজন্য দরকার অটল ধৈর্য, স্থির সংকল্প এবং যথাযথ পরিকল্পনা। এমন কিছু আঘাত আছে, যার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ধৈর্য ধরলেই ভালাে ফল পাওয়া যায়। কারণ, সময় সবচেয়ে বড়াে চিকিৎসক। নিজের করা ভুলেও সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে, অযােগ্যতার দায়ে ভােগ করতে হতে পারে কঠিন দণ্ড। তখন ভেঙে না পড়ে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবকিছু শুরু করতে হবে। তাহলেই মেচিন করা সম্ভব হবে পূর্কের গ্লানি। বিপদে অসহায়ত্বকে বরণ করে হাত-পা গুটিয়ে থাকার মধ্যে নয়, তাকে মােকাবিলা করার মধ্যেই মানুষের সংগ্রামশীলতার পরিচয়। 

জীবনে যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, তাকে ধৈর্যের সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টি দিয়ে মােকাবেলা করতে হয়। কারণ, জীবনে দুঃসময় না এলে লড়াই করা শেখা যায় না।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: অন্যায়কারী ও অন্যায়কে নতশিরে সহ্যকারী উভয়েই সমান অপরাধী। কেউ নিজে অন্যায় না করলেই তার কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। আপ্রাণ চেষ্টা করে অন্যায়কে প্রতিহত করাই সকলের কর্তব্য।

সম্প্রসারিত ভাব: প্রত্যেক মানুষেরই অন্তরে ন্যায়বোধের অস্তিত্ব রয়েছে। . প্রত্যেকের বিবেকের শুভ্র বেদিতে ন্যায়ের আসন পাতা। জগতের সকল কাজেই মানুষের অন্তরের এই বিবেক থেকে আসে অমোঘ নির্দেশ। মানুষকে সেই নির্দেশ পালন করতে হয় । কিন্তু ভীতি ও দুর্বলতার কারণে অনেক সময় মানুষ ন্যায়ের সেই অমোঘ নির্দেশ পালন করতে কুণ্ঠিত হয়। তাই মুষ্টিমেয় মানুষের অপরাধের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রয়েছে অন্যায়কে মানিয়ে চলার মানসিকতা। এ মানসিকতায় কতখানি ক্ষমাশীলতা, কতখানি ঔদার্য, কতখানি সহনশক্তি রয়েছে তা পরিমাপ করা দুঃসাধ্য। বস্তুত মানুষ শুধু তিতিক্ষা ও করুণাবশতই অন্যায়কারীকে ক্ষমা করে না; তার এ মানসিকতার নেপথ্যে রয়েছে এক আত্মপলায়নপর মনোভাব। নিজেকে অপরাধীর সংস্রব থেকে দূরে সরিয়ে রাখাকেই মানুষ নিরাপদ বলে মনে করে । ন্যায়ের নির্দেশ পালনে এ অক্ষমতার অর্থই অন্যায়কে প্রশ্রয়দান। তেমনই অন্যায়কে ক্ষমা করা বা উপেক্ষা করাও অন্যায়কে প্রশ্রয়দান করে। যার ফলে অন্যায়কারীরা আরও অন্যায় করার সাহস পায় এবং তাতে পৃথিবী থেকে ন্যায়বোধের ধারণা কমতে থাকে। কাজেই অন্যায়কারী এবং যে অন্যায় সহ্য করে তারা উভয়েই দোষী, উভয়েই শাস্তির যোগ্য। অন্যায় আচরণে কেউ কেউ নীরব উদাসীন দর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। তাতে প্রশ্রয় পেয়ে অন্যায়কারী হয়ে ওঠে দুর্নিবার ও শক্তিশালী। অন্যায়কারী তাতে প্রশ্রয় পেয়ে নিজের আরও ক্ষমতা প্রদর্শন করে। মানুষের প্রতি অন্যায়-অবিচার করে নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখতে চায়।

মন্তব্য: সমাজে, অন্যায়কারী ও অন্যায় সহ্যকারী দুজনই সমান অপরাধী। তাই সকলকে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ  টি। যদি তোমাদের আজকের এই অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ  টি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url