business loans, commercial loan, auto insurance quotes, motorcycle lawyer

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি জেনে নিবো। তোমরা যদি পড়াটি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি  টি।

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি
খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি

উত্তর : ভূমিকা : মহানবি (সা.)-এর মৃত্যুর পর থেকে খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ শুরু হয়। মহানবি (সা.) ইন্তেকালের পর ইসলামি সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য মুসলিম বিশ্বে এক জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আনসার মুহাজির সকলে ছাকিকা-বানি-সায়িদা নামক মিলনায়তনে মিলিত হন। সেখানে ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) কে খলিফা হিসেবে মনোনীত করা হয় ।

→ খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি : খেলাফত উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রাজতন্ত্র নয়। ঐশীতন্ত্রভিত্তিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত খিলাফতে খলিফা নির্বাচিত হতেন। নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচকমণ্ডলী বা 'আহল-আল-ইমামাহ' সৃষ্টি করা হতো। নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যগণকে অবশ্যক মেধাবী, ন্যায়পরায়ণ, চরিত্রবান, শিক্ষিত ও প্রভাবশালী হতে হতো। নির্বাচকমণ্ডলীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব ছিল অপরিসীম। তারা যাকে নির্বাচন করতেন তাকে সে দায়িত্ব পালন করতে হতো।

→ খলিফার মধ্যে যেসব গুণ থাকতে হবে : ঐতিহাসিক আল মাওয়ার্দীর মতে, খলিফা পদের জন্য কোন প্রার্থীকে ৭টি গুণের অধিকারী হতে হতো। নির্দিষ্ট এ গুণগুলো হলো তাকে কুরাইশ বংশোদ্ভূত, মুসলমান, পুরুষ, প্রাপ্তবয়স্ক, চরিত্রবান, শারীরিক ও মানসিক ব্যাধিমুক্ত এবং শাসনকার্য পরিচালনার উপযোগী কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। উপরন্তু তাকে মুসলিম রাষ্ট্রের রক্ষার জন্য উপযুক্ত সাহসের অধিকারী হতে হবে।

১. হজরত আবু বকর (রা.)-এর নির্বাচন : প্রথম খলিফা নির্বাচনের সময় চারটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয়। দলগুলোর মধ্যে আনসার ও মুহাজিরগণ প্রধান। আনসার ও মুহাজির উভয়ই তাদের মধ্যে থেকে খলিফা নির্বাচনের দাবি করেছিলেন। আনসারদের কথা ছিল খেলাফত তাদের প্রাপ্য যেহেতু তারা নবি (সা.) কে আশ্রয় দিয়েছিল এবং সাহায্য করেছিল। আর মুহাজিরদের কথা ছিল খেলাফত তাদের প্রাপ্য। যেহেতু তারা পরিবার পরিজন ত্যাগ করে নবির সাথে হিজরত করে। তৃতীয় দলটি ছিল হজরত আলী (রা.)-এর সমর্থক। তারা মনে করতো নবি করীম (সা.)-এর জামাতা হিসেবে হজরত আলী (রা.)-এর দাবিই অগ্রগণ্য। খলিফা নির্বাচন নিয়ে বাকবিভণ্ডা চরমে পৌঁছলে হজরত ওমর (রা.) আবুবকর (রা.) কে নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। নেতা ঘোষণা করে তিনি আবু বকর (রা.)-এর হাত চুম্বন করে বাইআত গ্রহণ করেন। সেখানে উপস্থিত মুহাজির, আনসার, আউস ও আবু বকর (রা.) মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন।

২. খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর নির্বাচন : খিলাফত নিয়ে যাতে দ্বন্দের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর অন্তিমকাল ঘনিয়ে আসলে আবদুর রহমান, ওসমান (রা.), সাঈদ-বিন-যায়েদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট সাহাবির সাথে আলাপ- আলোচনা করে ওমর (রা.) তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান। ওমর (রা.)-এর রুক্ষ স্বভাবের জন্য তালহা তাঁর সম্মতি জ্ঞাপনে ইতস্তত করলে আবু বকর (রা.)-এর তিরোধানের পর খলিফা হিসেবে তাঁর মনোনয়ন ঘোষণা করা হলে জনসাধারণ তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। এভাবে হযরত ওমর (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে অধিষ্ঠিত হন।

৩. খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর নির্বাচন : হযরত ওমর (রা.) খিলাফতে থাকাকালীন খলিফা নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের ছয়জন সদস্য সকলেই সমব্যক্তি সম্পন্ন ও প্রভাবশালী ছিলেন। ফলে খলিফা নির্বাচনের জটিলতা দেখা দেয়। বহু আলোচনার পর আব্দুর রহমান খিলাফতের স্বীয় দাবি প্রত্যাহার করলে যুবাইর ওসমান (রা.) ও আলীকে সমর্থন করেন। সাদ ওসমানকে (রা.), ওসমান আলী (রা.) কে এবং আলী (রা.) ওসমান (রা.) কে সমর্থন করেন। আব্দুর রহমান ভোটদান থেকে বিরত থাকলে ওসমান (রা.)-এর পক্ষে একটি ভোট বেশি পড়ে। ফলে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে বয়োজ্যেষ্ঠতা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, ন্যায়পরায়ণতা, বিচক্ষণতা ও বদান্যতার বিবেচনায় হজরত ওসমান (রা.) ইসলামের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।৪. হযরত আলী (রা.)-এর খলিফা নির্বাচন : হযরত ওসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের পর (১৭ই জুন, ৬৫৬ খ্রি.) খিলাফতের পবিত্রতা ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়া ছাড়াও খিলাফতের সর্বত্র অরাজকতা, অশান্তি ও বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ সময় তিনটি দলে বিভক্ত বিদ্রোহিগণ স্ব স্ব দলের মনোনীত ব্যক্তিকে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। এরূপ সন্ত্রাসপূর্ণ পরিস্থিতিতে হযরত ওসমান (রা.)-এর উত্তরাধিকারী খলিফা নির্বাচন অত্যন্ত দুরূহ ও জটিল হয়ে পড়ে। বিদ্রোহী কুফাবাসীরা যুবাইর, বসরাবাসীরা তালহা এবং মিশরবাসীরা ইবনে সাবার নেতৃত্বে আলী (রা.) কে সমর্থন করে। অবশেষে ওসমান (রা.)-এর হত্যার পঞ্চম দিবসে শক্তিশালী মিশরীয় বিদ্রোহীরা মহানবির ন্যায্য উত্তরাধিকারী হিসেবে আলী (রা.)-এর নাম প্রস্তাব” করলে কুফা ও বসরার বিদ্রোহীরাও আলী (রা.) কে সমর্থন দিলে এবং পরিশেষে মদিনার প্রভাবশালী নাগরিকবৃন্দের অনুরোধে আলী (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মত হস ৷ জনগণও তাঁর প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলে হযরত আলী (রা.) ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন (২৩ শে জুন, ৬৫৬ খ্রি.)

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি ছিল গণতান্ত্রিক। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সরাসরি সমর্থনের ভিত্তিতে অথবা নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক তারা নির্বাচিত হতেন। তাদের নির্বাচন পদ্ধতি জনগণ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য ছিল।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি  টি। যদি তোমাদের আজকের এই পড়াটিটি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Google News এ আমাদের ফলো করুন