business loans, commercial loan, auto insurance quotes, motorcycle lawyer

ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল জেনে নিবো। তোমরা যদি পড়াটি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল।

ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল
ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল

ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল

উত্তর : ভূমিকা : উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে প্রতিষ্ঠিত হয় ফাতেমীয় রাজবংশ যারা ছিল শিয়া মতালম্বী। এই রাজবংশ ৯০৯-১১৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তারা প্রায় দুই শতাব্দী পর্যন্ত রাজত্ব করেন। 

এক শতাব্দী পর্যন্ত তারা শৌর্যবির্যের সাথে রাজত্ব করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে এই রাজ্য বংশ পতনের দিকে ধাবিত হয় । ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে সালাউদ্দিন আইয়ুবী ক্রুসেডের এর মাধ্যমে ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজকে সিংহাসনচ্যুত করার মধ্য দিয়ে ফাতেমীয় খেলাফতের সমাপ্তি ঘটে ।

→ ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের কারণ : বিভিন্ন কারণে ফাতেমীয় রাজবংশের পতন ত্বরান্বিত হয়। নিম্নে সে সকল কারণগুলো আলোচনা করা হলো :

১. ঐতিহাসিক কারণ : পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি হলে ধ্বংস হয় এই নিয়মের বাইরে কোনো কিছুই নয়। তাই ইবনে খালদুন বলেছেন যে কোনো রাজবংশ ১০০ বছরের বেশি তার গৌরব ধরে রাখতে পারে না ফাতেমীয় রাজবংশ এর বাইরে নয় ।

২. বার্বার বিদ্রোহ : বার্বারগণ মনে করতেন যে তারা একটি ধর্মীয় আদর্শে ফাতেমীয়দের সাথে থেকে আব্বাসীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাদের যদি এই উদ্দেশ্য সফল হয় তবে আব্বাসীয়দের পরাজয় হবে এবং বার্বার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু তা না হয়ে যখন ফাতেমীয় রাজবংশ প্রতিষ্ঠা হলো তখন তারা খলিফাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

৩. সেনাবাহিনীর দুর্বলতা : ফাতেমীয় খলিফাগণ যে সকল সেনাবাহিনী গঠন করেন তা ছিল বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে। যেমন- বার্বার, তাডার, আরব, তুর্কি ইত্যাদি। যার ফলে তাদের মধ্যে কোন জাতীয়তা বোধ ছিল না। এর ফলে ফাতেমীয়দের পতনকে ত্বরান্বিত করে ।

৪. তুর্কি বাহিনী গঠন : তুর্কি দলপতি ইফতাকীনের দ্বারা খলিফা আল আজিজ তুর্কি বাহিনী গঠন করেন । এই বাহিনী গঠন করা হয় বার্বার ও ফাতেমি গোত্রের সদস্যের দ্বারা। যার জন্য তাদেরকে দেহরক্ষীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরাই পরবর্তীতে ফাতেমীয়দের পতনের ধারা বয়ে আনে।

৫. দুর্বল উত্তরাধিকারী : দুর্বল উত্তরাধিকারী শাসকগণ ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের পতনের জন্য অনেকখানি দায়ী। খলিফা আল আজিজের এর আর কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। যার ফলে ফাতেমীয় খিলাফত পতনের দিকে ধাবিত হয় ।

৬. 'খলিফাদের দুর্বলতা ও নিষ্ঠুরতা : মাহদীর পর মুইজ, আল আজিজ ও মুস্তানসির ছাড়া বাকি সকল খলিফা ছিল অযোগ্য। যোগ্যতার দিক দিয়ে হাকিমও কম ছিলেন না কিন্তু তিনি ছিলেন খামখেয়ালি। তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সেনাপতি ও মন্ত্রিদের হত্যা করে ভীতির সঞ্চার করেন যার জন্য প্রজা সাধারণ তার প্রতি ছিল অসন্তুষ্ট। 

৭. ক্রুসেডের আক্রমণ : ক্রুসেডারগণ জেরুজালেম আক্রমণ করে ফাতেমীয়দের বিতাড়িত করার পর জেরুজালেম দখল করে এবং মিশর পর্যন্ত আক্রমণের হুমকি দেয়। এই সময় শিয়া ও -সুন্নি বিরোধ চললে সুন্নিগণ শিয়াদের বিপদে এগিয়ে আসেনি।

৮. আইয়ুবীদের উত্থান : আইয়ুবী বংশের উত্থানের মাধ্যমে ফাতেীয়দের পতন হয়। আদিদের আমলে সিরিয়ার তুর্কি সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গির আদেশক্রমে শিরকোহ কায়রো অধিকার করেন ও মিশরকে ক্রুসেডারদের হাত থেকে মুক্ত করে মিশরের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। 

এটা ছিল প্রকৃতপক্ষে ফাতেমীয় খলিফার পতন। ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে আদিদ মৃত্যুবরণ করলে ফাতেমীয় খেলাফতের অবসান হয় এবং সালাউদ্দিন আইয়ুবী মিশরে আইয়ুবী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ফাতেমীয় খলিফাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন শাসক যোগ্যতা বলে এই শাসনব্যবস্থাকে টিকে ছিল। কিন্তু পরবর্তী শাসকরা ছিল হেরেম "মগ্ন। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ফাতেমীয় রাজবংশের "অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। 

অপরদিকে তারা অযোগ্য হওয়ার জন্য সকল শাসনভার মন্ত্রী ও সেনাপতিদের হাতে অর্পণ করেছিলেন মার জন্য তারা নিজেদের খেয়াল খুশিমত শাসন পরিচালনা করে যার ফলে ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় রাজবংশের পতন ঘটে।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম ফাতেমীয় খিলাফতের পতন কেন হয়েছিল । যদি তোমাদের আজকের এই পড়াটিটি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Google News এ আমাদের ফলো করুন