ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজ ও ওলন্দাজদের আগমন সম্বন্ধে যা জান লিখ
![]() |
| ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজ ও ওলন্দাজদের আগমন সম্বন্ধে যা জান লিখ |
ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজ ও ওলন্দাজদের আগমন সম্বন্ধে যা জান লিখ
উত্তর : ভূমিকা : ভারতীয় উপমহাদেশের ধন সম্পদে মুগ্ধ হয়ে বিদেশি বণিকরা আগমন করেছিলেন। বিদেশি বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম পর্তুগিজরা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেছিলেন।
পর্তুগিজদের পর ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন ওলন্দাজ। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও শিল্পের উন্নয়নে বিদেশি বণিকদের অবদান অনেক।
→ ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমন : ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে পর্তুগিজরাই সর্বপ্রথম এদেশে আগমন করেন। নিম্নে ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমন সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো :
১. আগমনের প্রেক্ষাপট : পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে পর্তুগিজ বণিক ভাস্কো-দা-গামা আফ্রিকার পশ্চিম-পূর্ব উপকূল ঘুরে সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে আসার পথ আবিস্কার করেন।
২. ভাস্কো-দা-গামার আগমন : পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা- গামা ১৪৯৮ সালে তিনটি বাণিজ্য তরী নিয়ে উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে ভারতে পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে আসেন।
৩. ক্যাব্রালের আগমন : ক্যাব্রাল ১৫০০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে ত্রিশটি জাহাজ ও বারোশত সেনা নিয়ে আগমন করেন এবং কালিকটে পৌঁছেন।
৪. ফ্রান্সিসকো-ডি-আলমিডার আগমন : ১৫০৫ সালে ফ্রান্সিসকো আলমিডা ভারতে অবস্থিত পর্তুগিজ বাণিজ্য কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে আসেন।
৫. আল বুকার্কের আগমন : ১৫০৯ সালে আল বুকার্ক ভারতে আগমন করেন। ভারতের শাসনকর্তা হিসেবে তিনি নিয়োগ পান ।
৬. বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি : ১৫৩৫ সালে বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহ পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সমস্ত গ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন। এভাবেই বাংলায় পর্তুগিজরা বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ।
৭. দমন নীতি গ্রহণ : ১৫০৫ সালে তিন বছর মেয়াদে পর্তুগিজদের রাজপ্রতিনিধি হয়ে এলেন আলামডা। আল বুকার্ক প্রাচ্যে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ।
ওলন্দাজের আগমন : ভারতে পর্তুগিজদের বাণিজ্য সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ইউরোপের দেশ হল্যান্ডের অধিবাসী ওলন্দাজরা ভারতবর্ষে আগমন করে।
নিম্নে ভারতীয় উপমহাদেশে ওলন্দাজদের আগমন সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো :
১. আগমনের প্রেক্ষাপট : ওলন্দা রা হলেন নেদারল্যান্ডের অধিবাসী। ১৬০৭ সালে ওলন্দাজরা ব্যবসায় উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আসেন। ওলন্দাজরা সতেরো শতকের প্রথম দশকেই ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসেন।
২. বাণিজ্য কুঠির স্থাপন : ১৬২৫ সালে ওলন্দাজরা হুগলির নিকট চুঁচুড়ায় প্রথম বাণিজ্য কুঠির নির্মাণ করেন। ১৬৫৯ সালে কাসিমবাজার, পাটনা, নাগাপটম ইত্যাদি স্থানে ওলন্দাজ বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। ১৬৭৬ সালে চন্দননগর ও শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠির স্থাপন করেন।
৩. ব্যবসা-বাণিজ্য : ওলন্দাজরা ভারতীয় উপমহদেশে বাণিজ্য কুঠি থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। ভারত থেকে নীল, রেশম, পশমজাত বস্ত্রাদি আফিম ও সোরা ওলন্দাজরা রপ্তানি করত।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এই সম্পদের আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি পর্যটক ও বণিকরা এই উপমহাদেশে আগমন করেছিলেন।
ভারতীয় উপমহাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে বণিকদের অবদান অপরিসীম। বণিকরা এই উপমহাদেশে এসে প্রথমেই বাণিজ্য কুঠির স্থাপন করে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন।
