খুজে না পেলে সার্চ করো

ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের কার্যকলাপ সম্পর্কে যা জান লেখ


ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের কার্যকলাপ সম্পর্কে যা জান লেখ
ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের কার্যকলাপ সম্পর্কে যা জান লেখ

ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের কার্যকলাপ সম্পর্কে যা জান লেখ

উত্তর : ভূমিকা : ভারতবর্ষে ইউরোপীয় শক্তির আগমন একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আগমনের এ ধারায় ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই সর্বপ্রথম এসেছিল। 

এখানকার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থে হাসিল করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে অনুসরণ করে ইউরোপীয় অন্যান্য শক্তিও এখানে আগমন করে ।

ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজনের কার্যকলাপ : পর্তুগিজদের ভারতবর্ষে আগমনের প্রধান কারণ ব্যবসা হলেও অস্কো-দা-গামা ভারতে আমার জলপথের আবিষ্কারসহ খ্রিষ্টধর্মের প্রচারের উদ্দেশ্যেও ভারবর্ষে আগমন করেন। নিয়ে ভারতবর্ষের পর্তুগিজদের কার্যকলাপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো :

১. বাণি স্থাপন : পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা র্তৃক ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কারের পর থেকে পর্তুগিজরা এ সমুদ্রপথে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায় এবং তারা ভারতীয় উপকূল অঞ্চলগুলোতে বাণিজ্য কুঠিও নির্মাণ করে। 

পর্তুগিজ বাণিজ্য কুঠিগুলো ছিল- দিউ, দমন, মলসেট, বেসিন, চৌল, কালিকট, চট্টগ্রাম, সাতগাঁও ও সন্দ্বীপসহ ঢাকা, যশোর, নোয়াখালী প্রভৃতি অঞ্চলে।

২. সমুদ্র বন্দরগুলোতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা : নৌশক্তিতে বদীয়ানে পর্তুগিজরা ভারতে সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলো দখল করে আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াস চালায়। 

তবে তাদের এখানে সাম্রাজ্য বিস্তারের তেমন কোনো আশা ছিল না। মূলত সমুদ্রের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

৩. গোয়া দখল ও প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা : ভারতবর্ষে পর্তুগিজ আধিপত্যের প্রতিষ্ঠাতা আলবুকার্ক ১৫১০ খ্রিষ্টাব্দে বিজাপুরের সুলতানের নিকট থেকে গোয়া বন্দর জয় করেন এবং এটাকে পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত করেন। এখানে তারা তাদের প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

৪. ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা : পর্তুগিজরা ভারতবর্ষে বাণিজ্য করতে এসে তারা আমদানি-রপ্তানি নীতি অনুসরণ করেন। 

তারা চীন থেকে কারুকার্যখচিত রেশমি কাপড়, মালাক্কা দ্বীপপুঞ্জ থেকে লবঙ্গ, এলাচি, দারুচিনি, গরম মশলা, বর্নিও থেকে কপূর, সিংহল থেকে চীনাবাদাম, মালাবার থেকে গোলমরিচ ও মালদ্বীপ থেকে গাড়ি প্রভৃতি আমদানি করতো। 

অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যে সকল দ্রব্য রপ্তানি করতো সেগুলো হলো- ডাল, তৈল, ঘি, মোম ও মধু প্রভৃতি দ্রব্য।

৫. দাস ব্যবসা পরিচালনা : পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের মধ্যে অন্যতম ছিল দাস ব্যবসা। তারা বাংলার বিভিন্ন নিম্নাবল থেকে প্রতি বছর বহুসংখ্যক নর-নারীকে জোরপূর্বক করা ও যদি করে আরাকানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করতো।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতের ধন-সম্পদের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে পর্তুগিজরা এখানে ব্যবসা করতে আসে এবং তারা বিভিন্ন বাণিজ্যকুঠি নির্মাণসহ রাজধানী স্থাপন করে এখানে। 

তারা চীন, মালাবার ও বর্নিও থেকে দ্রব্য জনা করে এখানে বিক্রি করতো এবং এখানকার বিভিন্ন দ্রব্যসহ দাস-দাসী ইউরোপের দেশগুলোতে বিক্রির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা করতো। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ