সতেরো ও আঠারো শতকে ইউরোপীয় শক্তির ক্রমবিকাশের কারণসমূহ আলোচনা কর
![]() |
| সতেরো ও আঠারো শতকে ইউরোপীয় শক্তির ক্রমবিকাশের কারণসমূহ আলোচনা কর |
সতেরো ও আঠারো শতকে ইউরোপীয় শক্তির ক্রমবিকাশের কারণসমূহ আলোচনা কর
উত্তর : ভূমিকা : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ধনসম্পদে পরিপূর্ণ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশ। ইউরোপীয় পর্যটক ও বণিকগণ সমুদ্রপথে পথে বিভিন্ন দেশে আগমন করেছিলেন সতেরো ও আঠারো শতকে ইউরোপীয় পর্যটক, বণিকরা সমুদ্রপথে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেছিলেন।
→ সতেরো-আঠারো শতকে ইউরোপীয় শক্তির ক্রমবিকাশ : ভারতীয় উপমহাদেশে তথা বাংলার ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নিম্নে সতেরো ও আঠারো শতকে ইউরোপীয় শক্তির ক্রমবিকাশ বর্ণনা করা হলো :
১. পর্তুগিজদের ক্রমবিকাশ : ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম পর্তুগিজরা বাংলায় আগমন করেন। পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারতবর্ষে আসার পথ আবিস্কার করেন। পর্তুগিজরা ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক জায়গা দখল করেন।
২. ওলন্দাজদের ক্রমবিকাশ : ওলন্দাজরা নেদারল্যান্ডের অধিবাসী। ১৬০২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার করেন।
১৬১৫ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করেন। ১৬৫৩ সালে চুঁচুড়া, ১৬৫৯ সালে কাসিমবাজার, পাটনা ইত্যাদি স্থানে কুঠি স্থাপন করেন ।
৩. দিনেমারদের ক্রমবিকাশ : দিনেমারগণ ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন। ১৬১৬ সালে তারা ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় কুঠি স্থাপন করেন।
৪. ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি : ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজগণ বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। নিম্নে ইংরেজদের ক্রমবিকাশের কারণসমূহ তুলে ধরা হলো :
(ক) কোম্পানি গঠন : ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা- বাণিজ্য করার জন্য ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ ১৫০০ সালে বাকিদের একত্রিত করে British East India Company গঠন করেন। এই কোম্পানি সম্রাট আকবরের নিকট থেকে ব্যবসার অনুমতি সনদ নেন।
(খ) জাহাঙ্গীরের অনুমতি লাভ : সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৯ সালে সুরাটে ক্যাপ্টেন হকিন্সের অনুরোধে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনে অনুমতি দেন।
(গ) স্যার টমাস রো-এর চুক্তি : স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট হতে আসা, আহমেদাবাদ, ভারুব ইত্যাদি স্থানে বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপনের অনুমতি লাভ করেন।
(ঘ) মাদ্রাজ ও মুম্বাই ইজারা : ইংরেজরা মাদ্রাজ ও মুম্বাই ইজারা নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে থাকেন। মাদ্রাজ ও মুম্বাইতে বাণিজ্যিক কুঠির স্থাপন করেন।
(ঙ) বাংলায় আধিপত্য বিস্তার : ১৬৩২ সালে ইংরেজরা পর্তুগিজদের স্থলে বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি পান। ইংরেজগণ ১৬৫১ সালে বাংলার সুবাদার শাহ সুজার নিকট থেকে বাণিজ্য ৩০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি নেন।
(চ) কলকাতায় দুর্গ স্থাপন : ১৬৮৭ সালে জব চার্নক আওরঙ্গজেবের অনুমতি নিয়ে কলকাতায় সুতানটি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন।
(ছ) পলাশির যুদ্ধ : ইংরেজরা ক্ষমতা দখলের জন্য নবাব আলীবর্দী খানের সময় থেকে ষড়যন্ত্র করেন। শেষ নবাব সিরাজ-উদ- দৌলার সময় ইংরেজরা যুদ্ধে নবাবকে পরাজিত করে বাংলার ক্ষমতা দখল করেন। ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন বাংলার ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে যায়।
(জ) বক্সারের যুদ্ধ : ১৬৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজগণ নবাব মীর কাসেমকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হলো।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ইউরোপীয় সামুদ্রিক বণিক শ্রেণি ও বাণিজ্য করতে বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। ইউরোপীয় বণিকগণ সমুদ্র পথে ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করতে আসে না।
তারপর ভারতীয় উপমহাদেশে নিজস্ব শক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। তারা বিভিন্ন জায়গা দখল করেছিলেন। ভারতীয় ইতিহাসে ইউরোপীয় বণিকদের গুরুত্ব অনেক।
