খুজে না পেলে সার্চ করো

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাংলায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল


ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাংলায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাংলায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাংলায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল

  • অথবা, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলায় আধিপত্য বিস্তার সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : ভূমিকা : মধ্যযুগে ইউরোপে শাসক ও শোষিত শ্রেণির মাঝখানে অবস্থিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে গড়ে উঠা মনোবিপ্লবের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে রেনেসাঁর। 

সে সময় বাংলা ছিল ধন ঐশ্বর্যে ভরপুর। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে বণিকরা আসত । তারা বাণিজ্য করার জন্য আসত। 

ঠিক এভাবেই এসেছিল ইংরেজ বণিকরা। যারা প্রতিষ্ঠা করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কিন্তু পরবর্তীতে এ কোম্পানি বাংলায় আধিপত্য বিস্তার করে ।

→ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য বিস্তার : নিম্নে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য বিস্তার তুলে ধরা হলো :

১. তাদের আগমন : ১৫৮০ সালে সর্বপ্রথম বাণিজ্য করার জন্য একজন নাবিক আসেন। অতঃপর ১৫৯৯ সালে ডনমেনডেন হল স্থলপথে ভারতবর্ষে আসেন এবং ৭ বছর অবস্থান করেন। তিনি রানি এলিজাবেথের একটি অনুমতিপত্র মুঘল সম্রাট আব্বরের নিকট পেশ করেন।

২. কোম্পানি গঠন : ১৬০০ সালে সকল বণিকদের একত্রিত করে British East India Company গঠন করা হয়। এবং এ কোম্পানি ১৫ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য একটি সনদপত্র লাভ করে।

৩. ফররুখশিয়ারের ফরমান : কোম্পানি ফররুখশিয়ারের চিকিৎসার জন্য তাদের একজন ডাক্তার পাঠান। এ চিকিৎসায় ফররুখ সুস্থ হলে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে ১৭১৭ সালে কোম্পানির নামে একটি ফরমান জারি করেন। এতে বলা হয়-

(ক) কোম্পানি বার্ষিক ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্য করতে পারবে।

(খ) ক্রয়কৃত শহরগুলো কোম্পানির অধীনে থাকবে। 

(গ) মুর্শিদাবাদ টাকশালে কোম্পানি তার নিজস্ব মুদ্রা তৈরি করবে। 

(ঘ) কোম্পানির নৌকা বা জাহাজ কোনো রকম অজুহাতে আটক করা যাবে না।

৪. পলাশির যুদ্ধে জয়লাভ : ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজ ক্ষমতায় আরোহণ করলে ইংরেজরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। যার ফলে ১৭৫৭ সালে নবাবের সাথে ইংরেজদের পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইংরেজরা জয়লাভ করে । 

এ জয়ের ফলে বাংলায় ইংরেজদের প্রভাব বাড়তে থাকে। R.C মজুমদার বলেছেন, “এ যুদ্ধে জয়ের ফলে ইংরেজগণ বাংলা বিজয় এবং ঘটনা পরম্পরায় ভারত বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে ফেলে।”

৫. বক্সারের যুদ্ধে জয় : কোম্পানি পলাশির যুদ্ধে জয়লাভ করে পরোক্ষভাবে এদেশে শাসন পরিচালনা করেছিল। আর ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিমকে পরাজিত করে তাদের -সাম্রাজ্যবাদী নীতি শুরু করে।

৬. দেওয়ানি লাভ : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভ করে কোম্পানি ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাটের নিকট থেকে বাংলা, বিহার ও "উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। এক পর্যায়ে সমস্ত ভারতের সার্বভৌম ইংরেজদের হাতে চলে যায়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে ইংরেজরা বাংলা তথা ভারতবর্ষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। 

যা নিরবিচ্ছিন্নভাবে ১৯৪৭ সালে ভারত ত্যাগ করা পর্যন্ত চলে । একেই বলে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের ক্ষেত্রে ইংরেজ প্রতিভা ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ