খলিফা আল মুইজের সাথে স্পেনের আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক আলোচনা কর
![]() |
| খলিফা আল মুইজের সাথে স্পেনের আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক আলোচনা কর |
খলিফা আল মুইজের সাথে স্পেনের আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক আলোচনা কর
- অথবা, খলিফা আল মুইজের সাথে স্পেনের আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক সংক্ষেপে বর্ণনা কর
উত্তর : ভূমিকা : ফাতেমীয় খলিফা আল মনসুরের মৃত্যুর পর তার পুত্র আল মুইজ ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খলিফা হবার পর তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র ভ্রমণ করে বিরাজমান অবস্থা সম্পর্কে সাম্যক ধারণা নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
আল মুইজ রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তার সমসাময়িক স্পেনের শাসনকর্তা আব্দুর রহমান আল নাসিরের সাথে চরম দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিল।
উভয় শাসকই ছিলেন মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শাসক। খলিফা আল মুইজের সাথে স্পেনের আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক আলোচনার পূর্বে এনাদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের সাম্যক জ্ঞান লাভ করা আবশ্যক।
আল মুইজের পরিচয় : খলিফা আল মুইজ ছিলেন ফাতেমীয় খিলাফতের চতুর্থ খলিফা। তিনি ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর মাহলীয়া নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ২১ ডিসেম্বর মিশরের কায়রো নগরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
তার পিতা ছিলেন আরেক ফাতেমীয় খলিফা আল মনসুর। আল মুইজ ৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মার্চ পিতার মৃত্যুর পর “আবু তামিম মা' আদ আল মুইজ লি-জ্বীন-ইল্লাহ” উপাধি নিয়ে ফাতেমীয় সিংহাসনে বসেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শাসন ক্ষমতায় থেকে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন ।
আব্দুর রহমান আল নাসিরের পরিচয় : আব্দুর রহমান আল নাসির ৮৯১ খ্রিস্টাব্দে ৭ জানুয়ারি স্পেনের কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম ছিল মাজনা।
তিনি ছিলেন কডোঙার উমাইয়া বংশীয় আমির ও খলিফা। আব্দুর রহমান ৯১২ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২১ বছর বয়সে স্পেনের উমাইয়া সিংহাসনে বসেন। মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
আল মুইজ ও আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক : খলিফা আল মুইজের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হলো দেশ জয়। আল মুইজ ১৫৫ খ্রিস্টাব্দে তার সুদক্ষ সেনাপতি জওহর আগ সিকিল্পিকে মরক্কো অভিযানের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেন।
স্পেনের উমাইয়াদের বাধা প্রতিহত করে আল জওহর মরক্কো অধিকার করেন। অতঃপর স্পেনের উমাইয়া খলিফা আব্দুর রহমানের সময়ে ফাতেমীয় নৌবহর ভূমধ্যসাগরের স্পেনীশ উপকূলে অবতরণ করে যুদ্ধাভিযান করেন।
ফাতেমীয়দের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আব্দুর রহমান আল নাসির তার নৌবাহিনীর প্রধান আল গালিবকে প্রেরণ করেন।
আল গালিব এ অভিযানে তেমন সফলতা অর্জন করতে পারেনি। এরপর আব্দুর রহমান ৭০টি যুদ্ধ জাহাজ দিয়ে আহমদ বিন ইয়ালিকে আফ্রিকার উপকূলীয় বন্দর আক্রমণ করার জন্য প্রেরণ করেন।
আহমদ বিন ইয়ালি আফ্রিকার বেশ কিছু স্থান দখল করলেও তেমন কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ফাতেমীয় খলিফা আল মুইয়া স্পেনের বিদ্রোহী নেতা ওমর বিন হাফসুনের সাথে হাত মিলিয়ে আব্দুর রহমানের ক্ষতি সাধন করতে থাকেন।
এই দুই শক্তিশালী শাসক নিজ নিজ পরীক্ষা দিতে গিয়ে জাতীয় সংহতি নষ্ট করেন। অর্থাৎ খলিফা আল মুইজ ও আব্দুর রহমান আল নাসিরের সম্পর্ক তেমন ভালো ছিলো না।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, খলিফা আল মুইজ ও স্পেনের শাসক আব্দুর রহমান আল নাসিরের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।
তাদের এ বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক মুসলিম জতির ঐক্য ও সংহতি বিপদের মুখে সম্মুখীন হয় এবং মুসলিম সাম্রাজ্যের আধিপত্য চরম হুমকির মুখে পড়ে।
তবে দু'জন শাসকই ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী মুসলিম শাসক। তাদের মধ্যে যদি সুসম্পর্ক থাকতো তাহলে ইসলামের পতাকা আরো বিস্মৃত হতো।
