ফাতেমীয় খলিফাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি বলতে কী বুঝ
![]() |
| ফাতেমীয় খলিফাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি বলতে কী বুঝ |
ফাতেমীয় খলিফাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি বলতে কী বুঝ
- অথবা, ফাতেমীয় খলিফাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি কী?
উত্তর : ভূমিকা : ফাতেমীয় শাসনব্যবস্থা মিশরের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় যুগ। ফাতেমীয় খিলাফতের শাসনামলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
ফাতেমীয় খলিফাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি : ফাতেমীয় শাসনামলে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. খলিফা আল আজিজ : শিক্ষা বিস্তারের অতুলনীয় উন্নয়নের জন্য ফাতেমীয় ইতিহাসে আল আজিজ অন্যতম। তিনি একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং এর জন্য মাসে ১০০০ দিনার ব্যয় করতেন।
২. কাজী নোমান : ফাতেমীয় খিলাফতে জ্ঞান বিজ্ঞানের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিল কাজী নোমান। তিনি ও তার পরিবার জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য চল্লিশ বছর যাবৎ ধর্মীয় কার্যালয়ে বহাল ছিলেন।
৩. আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় : বিশ্বের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ফাতেমীয় খিলাফতের সময়। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ফাতেমীয়দের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার প্রসার ঘটানোর জন্য ।
৪. আল হাকিম : আল হাকিম শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিস্তারের জন্য “দারুল হিকমা” প্রতিষ্ঠিত করেন। যা ছিল জ্ঞান চর্চার অন্যতম কেন্দ্র ।
৫. গ্রন্থাগার ও পাঠাগার : খলিফা আল হাকিমের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দারুল হিকমায় একটি গ্রন্থাগার ও পাঠাগার সংযুক্ত করেন। যার ফলে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ এবং নতুন গ্রন্থ প্রণয়ন উভয় কাজ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে সম্পাদিত হতো।
৬. মানমন্দির : আল হাকিম কায়রোর নিকটবর্তী মুকাত্তাম পর্বতের উপরে একটি মানমন্দির স্থাপন করেছিল। এই সময়ে জ্যোতির্বিদ্যা অনুশীলনের জন্য বিভিন্ন স্থানে মানমন্দির নির্মিত হয়েছিল।
মিশরের বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ আলী বিন ইউনুস আল হাকামের রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন। এছাড়াও আবু আলী হাসান বিভিন্ন শাস্ত্রের উপর অনেক বই লিখেছিলেন এবং তাঁর অন্যতম প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো “কিতাব আল-মানাজির" ।
৭. পাণ্ডুলিপি লিখন : ফাতেমীয় খলিফাদের অপ্রাণ প্রচেষ্টায় পাণ্ডুলিপির উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছিল। এই সময়ে সুযত্ন ও সুচারুভাবে পাণ্ডুলিপির কাজ করা হতো। এই সময়ের পাণ্ডুলিপিতে ভাবতত্ত্ব, ধর্ম, আইনতত্ত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা লিখে রাখা হতো ৷
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ফাতেমীয় শাসনব্যবস্থায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়। ফাতেমীয় শাসনামলে জ্ঞান-বিজ্ঞানেও প্রভূত উন্নয়ন ঘটে। খলিফাকে প্রায় সকলেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করতেন ।
