চন্দ্রবংশের রাজা শ্রী চন্দ্রের রাজত্বকাল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর
![]() |
| চন্দ্রবংশের রাজা শ্রী চন্দ্রের রাজত্বকাল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর |
চন্দ্রবংশের রাজা শ্রী চন্দ্রের রাজত্বকাল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর
- অথবা, শ্রী চন্দ্রের রাজ্য বিস্তার সম্পর্কে যা জান লিখ।
উত্তর : ভূমিকা : নবম শতাব্দীর শেষভাগ হতে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় চন্দ্রবংশ নামে একটি শক্তিশালী রাজবংশের উল্লেখ পাওয়া যায়।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রতিষ্ঠিত অন্য সকল রাজবংশের মধ্যে চন্দ্র রাজবংশই ছিল অত্যন্ত পরাক্রমশালী।
ত্রৈলোক্যচন্দ্র এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেও এ বংশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন রাজা শ্রী চন্দ্র।
→ রাজা শ্রী চন্দ্রের পরিচয় : ত্রৈলোক্যচন্দ্রের পুত্র ছিলেন রাজা শ্রী চন্দ্র। তিনি ত্রৈলোক্যচন্দ্রের পরবর্তীতে চন্দ্রবংশের রাজা হন এবং পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাজধিরাজ উপাধি ধারণ করেন।
তিনি আনুমানিক ৪৫ বছর পর্যন্ত শৌর্যবীর্যের সঙ্গে রাজত্ব করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন চন্দ্রবংশের শ্রেষ্ঠ নরপতি।
তার রাজধানী ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। তার রাজত্বকালের অদ্যাবধি আবিষ্কৃত মোট ছয়টি তাম্রশাসন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় তার শাসনের পরিচয় ফুটে উঠে।
→ শ্রী চন্দ্রের রাজ্য বিস্তার : শ্রী চন্দ্র তার রাজত্বকালে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা, কামরূপ, গৌড় বিজয় করেন। তিনি কম্বোজদের বিরুদ্ধেও সাফল্য অর্জন করেছিলেন। নিচে সে সম্বন্ধে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :
১. শ্রীহট্ট বা সিলেট অধিগ্রহণ : উত্তরা রধিকারসূত্রে শ্রী চন্দ্রে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার শাসনভার লাভ করেছিলেন। সিলেট বা শ্রীহট্ট অঞ্চলে তার শাসন বজায় ছিল। তার রাজত্বকালের পঞ্চম বছরে উৎকীর্ণ তাম্রশাসনে সিলেটে তার ভূমিদান সম্পর্কে পরিচয় পাওয়া যায়।
২. কামরূপ বিজয় : শ্রী চন্দ্র উত্তর-পূর্বে কামরূপ রাজ্যে বিজয়াভিযান পরিচালনা করেছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায় তার রাজত্বকালের পঞ্চম বৎসরে উৎকীর্ণ তাম্রশাসনে।
পার্শ্ববর্তী রাজ্য কামরূপ আক্রমণ ছিল তার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক, তবে কামরূপ রাজ্যের কোনো অংশ বাংলার শাসনাধীনে এসেছিল কিনা তা বলা কঠিন তদুপরি এ কথা বলা যায় যে, কামরূপের বিরুদ্ধে সাফল্যজনক অভিযান তার অধীনে বাংলার শক্তি, শৌর্য ও বীর্যের পরিচয় বহন করে।
৩. গৌড়ের বিরুদ্ধে সাফল্য লাভ : লহডচন্দ্রের ময়নামতি তাম্রশাসনে শ্রী চন্দ্রের গৌড়ের বিরুদ্ধে সাফল্য লাভের কথা বর্ণিত আছে। এ সময় গৌড় কম্বোজ বংশীয় গৌড়পতিদের অধীনে ছিল বলে মনে করা হয়।
সুতরাং শ্রী চন্দ্রের গৌড়ের বিরুদ্ধে সাফল্য লাভই কম্বোজদের বিরুদ্ধে সাফল্য লাভের ইঙ্গিত দেয়। কল্যাণচন্দ্রের তাম্রশাসনে উল্লেখ আছে যে, শ্রী গোপালকে সিংহাসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছিল ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বিভিন্ন উৎস থেকে শ্রী চন্দ্রের বিজয়াভিযানের যে সকল তথ্য পাওয়া যায় তা থেকে ধারণা করা যায় যে, তিনি চন্দ্রবংশের প্রসারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি যখন হুণ ও উৎকলদের বিরুদ্ধেও সাফল্য অর্জন করে তার সাম্রাজ্যকে শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
