চন্দ্রবংশের শাসক হিসেবে লডহচন্দ্রের রাজত্বকাল সংক্ষেপে আলোচনা কর
![]() |
| চন্দ্রবংশের শাসক হিসেবে লডহচন্দ্রের রাজত্বকাল সংক্ষেপে আলোচনা কর |
চন্দ্রবংশের শাসক হিসেবে লডহচন্দ্রের রাজত্বকাল সংক্ষেপে আলোচনা কর
- অথবা, চন্দ্রবংশের শাসক হিসেবে লডহচন্দ্রের শাসনকাল কেমন ছিল?
উত্তর : ভূমিকা : চন্দ্রবংশের অন্যতম একজন শক্তিশালী রাজা হলো লডহচন্দ্র। তার সময়ে চন্দ্রবংশ গৌরবময় অবস্থানে অধিষ্ঠিত ছিল। তিনি ছিলেন কল্যাণচন্দ্রের পুত্র।
ময়নামতিতে প্রাপ্ত তাম্রশাসন থেকে লডহচন্দ্র সম্পর্কে জানা যায়। তবে তার বা তার পুত্রের তাম্রশাসন থেকে তার রাজত্বকাল সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়। না। তিনি ১৮ বছর শাসন পরিচালনা করেছিলেন।
লডহচন্দ্রের রাজত্বকাল : কল্যাণচন্দ্রের উত্তরাধিকারী ছিলেন লডহচন্দ্র। ময়নামতিতে লডহচন্দ্রের দুইটি ও তার পুত্র গোবিন্দচন্দ্রের একটি তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হওয়ায় চন্দ্রবংশ তার অবস্থান নিয়ে কোন সংশয় নেই।
তিনি শান্তিকালীন 'কার্যকলাপে আত্মনিয়োগ করেছিলেন তার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় তার এবং তার সন্তানের তাম্রশাসনে।
এ প্রশাস্তিতে তাঁর 'বিদ্যানদী,' অতিক্রম, বারানসিতে ধর্মীয় স্নান এবং কবিত্ব ও পাণ্ডিত্য জনিত খ্যাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু বারানসিতে গানের প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করতেন। তাঁর ময়নামতি শাসনদ্বয়ে ভূমিদান করা হয়েছিল বাসুদেবের উদ্দেশ্যে।
সুতরাং বৌদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অন্য ধর্মের প্রতি তার উদার মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। লড়হচন্দ্র ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০২০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ২০ বছরকাল রাজত্ব করেছিলেন।
কুমিল্লা জেলার একটি গ্রামে লডহচন্দ্রের রাজত্বকালে একটি নটেশ্বর মূর্তি পাওয়া গেছে। এ মূর্তি দেখে অনুমান করা যায় যে, তার সময়ে এ আকৃতির শিবের পূজা বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, লডহচন্দ্র বাহ্যিক ভাবে সুহৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, তিনি তার নিজ ধর্মের প্রতি অনুরাগের পাশাপাশি অন্যধর্মের প্রতিও উদার ছিলেন।
