দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল দর্পণ' নাটকে কোন শ্রেণীর চরিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে এবং কেন
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল দর্পণ' নাটকে কোন শ্রেণীর চরিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে এবং কেন
![]() |
| দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল দর্পণ' নাটকে কোন শ্রেণীর চরিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে এবং কেন |
উত্তর দীনবন্ধুর মত সকল শ্রেণীর লোকের সাথে মেশার অসাধারণ ক্ষমতা আর কারো ছিল না, তাই তাঁর নাটকে বর্ণিত চরিত্রগুলো অধিকাংশই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা জাত। সব রকমের চরিত্র সম্পর্কে তাঁর ধারণা প্রত্যক্ষ হলেও সব রকম চরিত্রাঙ্কনে তিনি সমান পারঙ্গমতা দেখাতে পারেন নি
'নীল দর্পণ' নাটকের চরিত্রগুলো সুস্পষ্ট দুটি সীমারেখায় বিভক্ত- মধ্যবিত্ত ও বিত্তহীন মধ্যবিত্ত- গোলকবসুর পরিবারভুক্ত চরিত্রগুলো। নিম্ন মধ্যবিত্ত- আদুরী, সাধুচরণের পরিবার, তোরাপ। এক্ষেত্রে তিনি মধ্যবিত্ত চরিত্র নির্মাণে পারঙ্গমতা দেখাতে পারেন নি. কারণ এক্ষেত্রে তিনি শিল্পীর ধর্মকে ক্ষুণ্ন করে বিশেষ আদর্শে তাদের নির্মাণ করতে চেয়েছেন। গোলকবসুর সহজ বিশ্বাস, নবীনমাধবের কর্তব্যবোধ ও পিতৃভক্তি, সৈরিন্ধ্রীর পতিব্রতা, সাবিত্রীর অপত্যস্নেহ ইত্যাদি। সংস্কৃত নাটক অনুসরণে তাদের মুখে সংস্কৃতানুগ সাধুভাষা জুড়ে দেওয়ায় চরিত্রগুলো আড়ষ্ট হয়েছে। এ শ্রেণীর চরিত্রকে নাট্যক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিকশিত করেন নি। মূলত এদের সাথে নাট্যকারের পরিচয় ছিল স্বল্প।
পক্ষান্তরে বিত্তহীনদের চরিত্র সৃষ্টিতে তিনি দুর্লভ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সচক্ষে এদের দুর্ভাগ্য দেখেছেন, তাঁর সহজাত সহৃদয়তা ও সহানুভূতির প্রকাশ এদের বেলায় ঘটেছে। তাই তাদের ক্ষোভ-বিদ্রোহ সক্রিয়তায় পূর্ণ মাত্রায় তারা বিকশিত হয়েছে। তদুপরি এদের মুখের ভাষাও তিনি সহজে আয়ত্ত করতে পেরেছেন। এদের মুখে যে ভাষা দেওয়া হয়েছে তা ভিন্ন অন্য ভাষা প্রয়োগে চরিত্রগুলো অস্পষ্ট ও খণ্ডিত হয়ে পড়ত। এ শ্রেণী চরিত্রাঙ্কনে ভাষাকে চরিত্রের দ্যোতক হিসেবে ব্যবহার করে দুর্লভ নাটকীয় নির্লিপ্ততার পরিচয় দিয়েছেন। তাই তোরাপ, আদুরী, রাইচরণ, ক্ষেত্রমণি, রেবতী প্রভৃতি চরিত্রগুলো রক্তমাংসে গড়া জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
