সীতার পরিচয় দাও

  সীতার পরিচয় দাও
সীতার পরিচয় দাও

সীতার পরিচয় দাও

উত্তর সীতা মধুসূদনের চরিত্র সৃষ্টিতে পরম বিস্ময়কর। এ সৃষ্টি উপাদানগত নয়, কারণ উপাদানে নতুনত্ব কিছু নেই। 

ভক্ত কবির অন্তরের আরতি আলোকে উদ্ভাসিত হওয়ায় চরিত্রটি চির পুরাতনে পূর্ণনবীন হয়ে উঠেছে1বাল্মীকির সীতা মানবী হয়েও দেবী, কিন্তু মধুসূদনের সীতা দেবী হয়েও মানবী।সীতা-বা,বা,‘খনির তিমির গর্ভে সূর্যকান্ত মণি, ' ‘অম্বুরাশিতলে বিম্বাধরা রমা, '“তমোময় ধামে আভাময়ী প্রভা।'যাই হোক, 'এয়ো তুমি তোমার কি সাজে এ বেশ?' সরমার এ কথাটির মধ্য দিয়ে কবি সীতা চরিত্রের আরতি করেছেন। 

অনেক দিনের অযত্নরক্ষিত সীতার ললাটে কবি সিঁদুরের ফোঁটার অভাব অনুভব করেছেন। দেবী হলে এ চিহ্নের প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু মর্ত্যের মানবীর তা না থাকলে অন্তর খাঁখাঁ করে।সীতা কখনও চিরনবীন কিশলয় মাত্র, আবার কখনও চিরজাগ্রত বনদেবী। 

সে কখনও শিশুর সারল্যে বেঁচেছে, কখনও বা পতিপ্রেমের মাহাত্ম্যে অবগাহন করেছে। মনের এই পেলবতার কারণেই রাজনন্দিনী, রঘুকুলবধূ হয়েও সে পঞ্চবটী বনে সুখে কাটিয়েছে। 

যা শুনে মার রাজসুখে গণ নন্ম।সর্বজীবে দয়া, গ্রীল, সেবা, সমবেদনা, কৃতজ্ঞতা, আতিথ্য ইত্যাদিতে প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণী মুগ্ধ, তৃপ্ত ও ধন্য । 

তরুলতা ও পশুপক্ষী নিয়ে তার সোনার সংসার“নব লতিকার, সতী, দিতাম বিবাহ তরুসহ; চুম্বিতাম, মঞ্জরিত যবে দম্পতি, মঞ্জরীবৃন্দে, আনন্দে সম্ভাসি নাতিনী বলিয়া সবে।

গুঞ্জরিলে অলি, নাতিনী জামাই বলি বরিতাম তারে।"জন্মদুঃখিনী সীতা তার দুঃখের অগ্নিশিখায় কাকেও উত্তপ্ত করতে চান নি । “এ অভাগী, হায়, লো সুভগে, যদি না কাঁদিবেতবে কে আর কাঁদিবে এ জগতে?”সর্বংসহা সীতাই সীতার তুলনীয়া। 

অকুণ্ঠ পতিপ্রেম থেকে তার অন্তরে জেগেছে অপূর্ব জ্যোতি, দুঃখের আগুনে যতই জ্বলেছে, ততই তার জ্যোতি উজ্জ্বল হয়েছে। 

অন্তর তার সুউচ্চ সুখ স্মৃতিতে ভরা, ফলে পার্থিব নির্যাতনে তার কী ক্ষতি? মর্ত্যে জন্মেও তার মধ্যে রয়েছে অপার্থিবতা। কবি দেখিয়েছেন সীতা চরিত্রে স্বর্গ-মর্ত্যের রাখিবন্ধন। 

তাই কবি তাকে কাঁদিয়ে, হাসিয়ে কৌতুকে সমস্ত কান্না আড়াল করে বাঙালি ঘরের এক সতী সাধ্বী নারীরূপে চিত্রণ করেছেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ