আমি বালিকাকে বঞ্চিত করিব জীবন থাকিতে হইবে না কে কেন এ কথা বলেছে
আমি বালিকাকে বঞ্চিত করিব জীবন থাকিতে হইবে না কে, কেন এ কথা বলেছে
![]() |
| আমি বালিকাকে বঞ্চিত করিব জীবন থাকিতে হইবে না কে, কেন এ কথা বলেছে |
উত্তর: বাংলার বিভিন্ন স্থানে নীলকরেরা দোর্দণ্ড প্রতাপে কৃষককে নিংড়ে নীল চাষ করছে। স্বরপুর গ্রামেও নীলকরের অত্যাচারে কৃষক অতিষ্ঠ। গোলকবসু সম্পন্ন গৃহস্থ। গোলকবসুর বড় ছেলে নবীন মাধব কৃষকের প্রতি সহমর্মী।
সে কখনো কখনো নীলকরদের মুখের উপর প্রতিবাদ করে। পলাশপুরে কৃষকের ঘরে আগুন ধরানোর বিষয়টি নিয়ে নবীন মাধব নীলকরদের বিরুদ্ধে লড়েছে। নীলকরেরা অত্যাচারের পথ কণ্টকমুক্ত করতে নবীন মাধবকে জব্দ করতে তার বাবা গোলকবসুর নামে মামলা করেছে।
বাবার চিন্তায় নবীন মাধব অন্ন জল ছেড়ে দিয়েছে, পাঁচশ টাকার জন্য সে বিভিন্ন উপায় খুঁজছে। তার চোখে ঘুম নেই, বাবার চিন্তায় কান্নায় ভেজা দু'চোখ । নবীনমাধবের স্ত্রী সৈরিন্ধ্রী স্বামীর বিষণ্ণতা সহ্য করতে পারছে না।
তাছাড়া শ্বশুরকেও সে যারপরনাই ভালবাসে। তাই এ বিপদ হতে শ্বশুরকে উদ্ধার করতে নিজের এবং ছোট জা সরলার গয়না স্বামীর হাতে তুলে দিতে চায়। স্বামীরা স্ত্রীকে অলঙ্কারে ভূষিত করতে সমুদ্রের নিঝঝুম, পর্বতে আরোহণ থেকে বাঘেরমুখেও ঢুকে যেতে পারে, সেই স্বামী স্ত্রীকে বিভূষিতা করা যে কত কষ্টের তা সে তার স্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করছে।
তদুপরি কন্যা তুল্য ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর অঙ্গ হতে অলঙ্কার নেওয়ার মত নিষ্ঠুর কাজ সে করতে পারবে না। নীলকররা যে এমন নিষ্ঠুর, তারাও বোধ হয় তা পারে না, সুতরাং নবীন মাধব জীবন থাকতে এমন নির্মম কাজ করতে পারবে না। এর মধ্য দিয়ে স্ত্রীর প্রতি ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর প্রতি নবীনমাধবের প্রীতি ও স্নেহের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে।
