দু'দিনের অতিথিকে তোয়াজ করতে মহা কুঞ্জুসও রাজী হয়।”- লেখক কেন এ কথাটি বলেছেন?
দু'দিনের অতিথিকে তোয়াজ করতে মহা কুঞ্জুসও রাজী হয়।”- লেখক কেন এ কথাটি বলেছেন?
![]() |
দু'দিনের অতিথিকে তোয়াজ করতে মহা কুঞ্জুসও রাজী হয়।”- লেখক কেন এ কথাটি বলেছেন? |
উত্তর : যে সময়ের কথা হচ্ছে তখন আফগানিস্তানের কর্তা বা আমির ছিলেন হবীবউল্লা। তাঁর ভাই নসরউল্লা মোল্লাদের এমনি খাস-পেয়ারা ছিলেন যে, বড় ছেলে মুইন-উস-সুলতানে তাঁর মরার পর আমির হবেন এ-ঘোষণা হবীবউল্লা বুকে হিম্মত বেঁধে করতে পারেন নি।
বরঞ্চ দুই ভায়ে এ নিষ্পত্তিই হয়েছিল যে, হবীবউল্লা মরার পর নসরউল্লা আমির হবেন, আর তিনি মরে গেলে আমির হবেন মুইন-উস-সুলতানে। এ নিষ্পত্তি পাকাপোক্ত করার মতলবে হবীবউল্লা নসরউল্লা দুই ভাইয়ে মীমাংসা করলেন যে, মুইন-উস-সুলতানে নসরউল্লার মেয়েকে বিয়ে করবেন।
বাঙালি পাঠক এখানে একটু বিপদগ্রস্ত হবে। আমি জানি, বাঙালি তা তিনি হিন্দুই হোন আর মুসলমানই হোন- আরবি ফারসি মুসলমানি নাম মনে রাখতে বা বানান করতে অল্পবিস্তর কাতর হয়ে পড়েন।
একথা জানি বলেই যতদূর সম্ভব কম নাম নিয়েই নাড়াচাড়া করেছি বিশেষত আনাতোল ফ্রাঁসের মতো গুণী যখন বলেছেন, 'পাঠকের কাছ থেকে বড্ড বেশি মনোযোগ আশা করো না, আর যদি মনস্কামনা এ হয় যে, তোমার লেখা শত শত বৎসর পেরিয়ে গিয়ে পরবর্তী যুগে পৌঁছুক তাহলে হাল্কা হয়ে ভ্রমণ করো।"
আমার সে-বাসনা নেই, কারণ ভাষা এবং শৈলী বাবদে আমার অক্ষমতা সম্বন্ধে আমি যথেষ্ট সচেতন। কাজেই যখন ক্ষমতা নেই, বাসনাও নেই, তখন পাঠকের নিকট ঈষৎ মনোযোগ প্রত্যাশা করতে পারি। মৌসুমি ফুলই মনোযোগ চায় বেশি। দু'দিনের অতিথিকে তোয়াজ করতে মহা কুঞ্জুসও রাজী হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বড় লেখক হয়েও বিনয়ের সাথে বলেছেন যে তাঁর এমন গুরুত্বহীন, মূল্যহীন লেখা কেউ বেশিদিন ধরে রাখবেন না।
তিনি নিজেকে মৌসুমি ফুল এবং দু'দিনের অতিথি বলেছেন। তাই পাঠকের কাছ থেকে বেশি মনোযোগ প্রার্থনা করেছেন । সৈয়দ মুজতবা আলীর এ মন্তব্যে তাঁর বিরাটত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
.png)