বৌদ্ধ ধর্মের সাথে চর্যার সম্পর্ক কীরূপ হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর

বৌদ্ধ ধর্মের সাথে চর্যার সম্পর্ক কীরূপ হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর

অথবা, বৌদ্ধ ধর্মের সাথে চর্যার সম্পর্ক নিরূপণ কর ৷
বৌদ্ধ ধর্মের সাথে চর্যার সম্পর্ক কীরূপ হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর
বৌদ্ধ ধর্মের সাথে চর্যার সম্পর্ক কীরূপ হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর
উত্তর : বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন যানের সাথে চর্যাপদের সম্পর্ক রয়েছে। তবে মহাযান শাখার বিবর্তিত রূপের সাথে চর্যাপদে বিধৃত ধর্মমতের অনেক মিল আছে। সহজযান, মন্ত্রযান, বজ্রযান কিংবা কালচক্রযান-সব ধরনের যানের কথাই চর্যাগীতিতে আছে। চর্যাগীতিগুলোকে বৌদ্ধ সহজিয়া মতের বাংলা গান বলে উল্লেখ করেছেন আচার্য হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 

অধ্যাপক মণীন্দ্রমোহন বসু অধিকাংশ চর্যাকে সহজিয়া মতের বাহক বলে উল্লেখ করেছেন। বজ্রযান মতের প্রতিফলন দেখা যায় লুইপা, কুক্কুরীপা, কানুপা ও বিরূপা রচিত চর্যায়। চর্যাকারগণ লৌকিক জগতের বস্তুকে ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে গুহ্য গুঢ় সংকেত দ্বারা তাঁদের সাধনপদ্ধতির কথা ব্যক্ত করেছেন। 

চর্যাপদে বিশেষ কোনো যানের সাধন পদ্ধতিকেই বড়ো করে দেখানো হয়নি। মহাজন পন্থার বিভিন্ন বিবর্তিত রূপের পরিচয় চর্যায় পাওয়া যায়। কোনো চর্যায় দেহবাদ বা দেহতত্ত্বের আলোচনা আছে আবার কোনো চর্যায় মন্ত্র সাধনা এবং বজ্রযোগের কথা আছে ।

পরিশেষে বলা যায় যে, সাধনা মনোময় এবং অনুভূতিপ্রধান এবং সে জন্যই তা রহস্যময়। সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে তা বুঝা যায় না। তাই চর্যাকারগণ ধর্মের লৌকিক উপাদান বাদ দিয়ে এর মনোময় উপাদানের উপরই অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ