বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধ রচনার কারণ উল্লেখ কর

 বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধ রচনার কারণ উল্লেখ কর।

বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধ রচনার কারণ উল্লেখ কর।
 বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধ রচনার কারণ উল্লেখ কর।

উত্তর : শিল্প সমালোচনার চারিত্র্য এবং বৈজ্ঞানিক বিচারে শিল্পের জটিল রূপটির প্রতি সতর্ক সচেতনতা সমুন্নত রাখা একজন গবেষকের জন্য অবশ্যকর্তব্য। মানবের সংঘবদ্ধ বিকাশমান জীবন এ প্রয়োজনকে করে তোলে অপরিহার্য।

কারণ মানুষের চেতনা তাদের অস্তিত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে না; বরং তার সামাজিক অস্তিত্বই তাদের চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। সৃজন ক্ষমতা অর্জনের এ যুদ্ধে বঙ্কিমচন্দ্র অবতীর্ণ হয়েছিলেন কাব্য নির্মাণ প্রয়াসের মাধ্যমে। কিন্তু তিনি শিল্পকে জানা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি সৃষ্টি করার কৃতিত্বটা অর্জন করেছেন উপন্যাস বা কথাসাহিত্যের উচ্চারণ বচন বন্ধুর পথ বেয়ে ।

 বঙ্কিমচন্দ্রের শিল্পী সত্তা প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর অতিক্রান্তের পর অর্থাৎ সংগ্রাম ও সাফল্যের পর পরিণতির হিরন্ময় দিগন্তে পথ খুঁজে পেয়েছে প্রবন্ধ সাহিত্যের প্রশস্ততায় ।

আদর্শবান শিল্পী ও উদ্দেশ্যমূলক রোমান্টিক উপন্যাস রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র প্রবন্ধ সাহিত্যে নতুন মাত্রা সংযোগের প্রয়াসী বলে ধারণা করা হয়। এতদ্ব্যতীত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র অপেক্ষা প্রবন্ধ রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র অনেক বেশি প্রাজ্ঞ ও পরিণত।

বিশেষত হাস্যরসাত্মক রচনায় বঙ্কিমচন্দ্রের সাফল্য কারো কারো মতে তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই কেবল শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার নয়, বাংলা সাহিত্যেও অনন্য।

প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের আত্মপ্রকাশ সামাজিক দায়বোধপ্রসূত। 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার মাধ্যমে শিক্ষিত বাঙালির হিন্দু জাতীয়তাবোধের জাগরণ প্রত্যাশা ছিল এর উদ্ভবের মূল উৎস। কারণ পত্রিকার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ধর্ম, সৃষ্টিতে নিমগ্ন থাকেন -

উপরোক্ত গুরুগম্ভীর বিষয়ে রচিত প্রবন্ধকে সকলের বোধগম্য এবং বঙ্গদর্শনকে সকল শ্রেণির পাঠকের উপযোগী যোগ্যতা দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা ইত্যাকার বিষয়ে বাঙালির সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র প্রবন্ধের পর প্রবন্ধ জাতির চিত্তে এ কূপমণ্ডূকতা দূরীকরণে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজন বোধ করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র।

এর জন্য ঐক্যের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কিন্তু বর্ণ-শ্রেণি বিভক্ত সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বসংকুল ভারতবর্ষে তা ছিল সম্পূর্ণই অসম্ভব। দানের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই তিনি হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। উনিশ শতকের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় সত্য

উপন্যাসের শৈল্পিক অবয়বে রূপক; প্রতীক বা সৃষ্ট চরিত্রের মানস দর্শনের ফাঁকফোকর দিয়ে পরোক্ষভাবে জীবন প্রকাশ অপেক্ষা প্রবন্ধ সাহিত্যের বিশেষত হাস্যরসাত্মক রচনার মধ্য দিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন অধিকতর শ্রেয় এবং কার্যকরী মনে করেছেন তিনি। উপরোল্লিখিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর পরিবর্তন করতে হয়েছে, পরিবর্তন ঘটেছে তার আঙ্গিকেরও।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ