ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 নীলনদ আর পিরামিডের দেশ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর : আমরা আজকের পোস্টে খুব সুন্দর করে ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর সহ তুলে ধরেছি। আমরা খুবই আশা বাদী যে তোমাদের এই আর্টিকেল টি পছন্দ হবে। তোমরা খুব মনোযোগ সহকারে ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর গুলো পড়ে নিবা।

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

চলুন জেনে নেওয়া যাক নীলনদ আর পিরামিডের দেশ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর গুলোঃ

প্রশ্ন ০২ বিষয় : রাঁচির পথ এবং ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ।

রামগড়ের পর ১০/১২ মাইল পথ অত্যন্ত বিপদ-সঙ্কুল। রাস্তা হেয়ার-পিনের মতো এঁকেবেঁকে উপরের দিকে উঠেছে। রাস্তার মুখেই একটি সাইন বোর্ডে লেখা আছে, 'রাস্তা বড় বিপদসঙ্কুল- মোটরের গতি পাঁচ মাইলের বেশি না হয়'। আমরা সকলে সাবধান হয়ে বসলুম। সমশের আলি পাহাড়ের পথ দিয়ে মোটর চালাতে সিদ্ধহস্ত। শিলংয়ের রাস্তায় সে যথেষ্ট মোটর চালিয়েছে। এখানে মোটর চালাবার ভার সে-ই গ্রহণ করল। অবিরামভাবে হর্ন বাজাতে বাজাতে এঁকেবেঁকে আমরা সেই পার্বত্য পথে আরোহণ করতে লাগলাম। সৌন্দর্যের হিসাবে এই পথটা শিলং গৌহাটি রোডের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। একদিকে উচ্চ জঙ্গল-সমাকীর্ণ পাহাড়, আর অপরদিকে সুগভীর খাদ— তার পাদদেশে সুদূর সমতল ভূমি — তাকে বেষ্টিত করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য শৈলশ্রেণি। স্থানটি যেন প্রকৃতির লীলাক্ষেত্র ।

ক. সন্ধ্যের দিকে জাহাজ কোন বন্দরে পৌঁছল?

খ. সে দৃশ্য বাংলাদেশের সবুজ শ্যামলিমার মাঝখানে দেখা যায় না'- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সাথে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার কোন বিষয়ের বৈষাদৃশ্য চোখে পড়ে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার সমগ্র বিষয়কে উপস্থাপন করেছে।”- মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত উপস্থাপন কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক. সন্ধ্যের দিকে জাহাজ সুয়েজ বন্দরে পৌঁছল।

খ. মরুভূমির প্রাকৃতিক দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক উল্লিখিত উক্তিটি করেছেন। লেখক মিশর ভ্রমণকালে মরুভূমির পথে চলতে গিয়ে দেখেন তার অপরূপ সৌন্দর্য। মরুভূমির ওপর চাঁদের আলো পড়লে যে অপূর্ব মায়াময় শোভা ধারণ করে সেটি সবুজ-শ্যামল বাংলার কোথাও দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে লেখক উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। আমাদের এ পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। একেক জায়গায় একেক ধরনের বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। কোথাও সমতল, কোথাও মরুভূমি, আবার কোথাওবা পাহাড়-পর্বত ।

উদ্দীপকে পাহাড়ি প্রকৃতির বর্ণনা করা হয়েছে। শিলংয়ের পাহাড়ি জঙ্গল, সুউচ্চ পর্বতমালা, গভীর খাদ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা রয়েছে। অন্যদিকে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায় রয়েছে মরুভূমির বর্ণনা। সেখানে বালুর ওপর সূর্যকিরণ প্রতিফলিত হয়ে ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। চাঁদের আলোয় সেখানে মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার সমগ্র বিষয়কে উপস্থাপন করেছে।”- মন্তব্যটির সাথে আমি একমত নই । কেননা আলোচ্য রচনায় উদ্দীপকের বিষয় ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় ।

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের ভূ-বৈচিত্র্য রয়েছে। এর প্রতিটি দৃশ্যই মনোরম ও মায়াময়। সবুজ প্রকৃতির যেমন সৌন্দর্য রয়েছে তেমনই সৌন্দর্য রয়েছে মরুভূমিরও।

উদ্দীপকে পাহাড়ি পরিবেশ বর্ণনা করা হয়েছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর জঙ্গলময় পাহাড়ের দৃশ্য লেখক তুলে ধরেছেন। এই যাত্রাপথের বর্ণনা 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায়ও রয়েছে, তবে এটিই রচনার সমগ্র বিষয় নয়। এছাড়াও আলোচ্য রচনাটিতে অন্যান্য বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে।

“নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায় মরুভূমি ঘেরা ঐতিহাসিক কায়রো শহর, সপ্তাশ্চর্য পিরামিড, ভুবনবিখ্যাত মসজিদ, সেখানকার লোকজন, খাবার-দাবার প্রভৃতি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সাথে আমি একমত নই ।

প্রশ্ন ০৩ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, লালমনিরহাট

ফ্রান্সকে বলা হয় ছবি ও কবিতার দেশ। এদেশের নগরীর রূপসৌন্দর্য অতুলনীয়। এর মোহে বহু পর্যটক ভিড় করে সেখানে। রাজধানী প্যারিসকে অর্ধেক নগরী ও অর্ধেক কল্পনার শহর বলা হয় শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অন্যতম পাদপীঠ এ প্যারিস নগরী। এখানের রেস্তোরাঁগুলোতে স্বল্পমূল্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া যায়। সুগন্ধি শিল্পের জন্যও প্যারিসের সুনাম জগৎজোড়া। 

ক. 'গণ্ডা' শব্দের অর্থ কী?

খ. 'মমি' বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকের সাথে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনির মিল দেখাও ।

ঘ. “রূপসৌন্দর্যের কারণে ফ্রান্স ও মিশরে পর্যটকরা ভিড় করে”-মতামত দাও ।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক.'গণ্ডা' শব্দের অর্থ চারটি

খ.'মমি' হলো কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত মৃতদেহ। ফারাওরা বিশ্বাস করতেন, মৃত্যুর পরে যদি তাদের শরীর পচে যায় অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে তারা পরকালে অনন্ত জীবন পাবে না । তাই তারা তাদের মৃতদেহ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করার জন্য মমি তৈরি করত। এই মমির মধ্যে মৃতদেহ রেখে মৃতদেহ পচে যাওয়া বা যেকোনো আঘাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম হতো। কৃত্রিমভাবে মৃতদেহ সংরক্ষণের এই পদ্ধতিকে 'মমি' বলা হয়।

গ. উদ্দীপকের সাথে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ ভ্রমণকাহিনির স্থানের সৌন্দর্যের দিক থেকে মিল রয়েছে।

পৃথিবীতে বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এই স্থানগুলো পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে আমরা বিভিন্ন জ্ঞান লাভ করি। একই সঙ্গে আমাদের অনেক রকমের মানসিক বিকাশ সাধনও হয়। নিজেদের সত্তাকে পরিপূর্ণ করতে দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণের বিকল্প নেই।

উদ্দীপকে ফ্রান্সের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। ফ্রান্সের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য একদিকে মানুষের হৃদয় হরণ করে, অন্যদিকে শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধ এই দেশ মানুষের মনকে আপ্লুত করে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসকে কল্পনার শহর বলা হয়েছে। 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ ভ্রমণকাহিনিতেও মিশরের সৌন্দর্য ও কায়রো শহরের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মিশরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সেখানকার প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে রচনায়। পাশাপাশি মিশরে নানা রকমের মানুষের বসবাস এবং সেখানকার প্রকৃতির বর্ণনাও দেখা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ ভ্রমণকাহিনির স্থানের সৌন্দর্যের দিক থেকে মিল রয়েছে।

ঘ • “রূপসৌন্দর্যের কারণে ফ্রান্স ও মিশরে পর্যটকেরা ভিড় করে”- মন্তব্যটি যথার্থ। ভৌগোলিক কারণে পৃথিবীর একেক দেশের সৌন্দর্য একেক রকম হয়। দেশগুলোর সৌন্দর্যের বিভিন্নতার কারণেই সেগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ জন্মায়। সেজন্যই মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যায় ভ্রমণের নেশায়।

উদ্দীপকে ফ্রান্স এবং এর রাজধানী প্যারিসের সৌন্দর্যের বর্ণনা ফুটে উঠেছে। সৌন্দর্য ও শিল্পসাহিত্যের অনন্য এক নগরী প্যারিস। নগরীর রূপ, সেখানকার সুগন্ধি শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি সবকিছু মিলিয়ে ফ্রান্স পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনিতেও মিশর এবং এর রাজধানী কায়রোর বর্ণনা উঠে এসেছে। পিরামিড ও নীল নদ মিশরের সৌন্দর্যের প্রধান উৎস। এছাড়াও সেখানকার মরুভূমি ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের যে খেলা দেখা যায় তা মানুষকে বিমোহিত করে।

উদ্দীপকে ফ্রান্সের সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের আকর্ষিত হওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনিতেও মিশরের সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় দিকগুলো উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, ফ্রান্স ও মিশরের সৌন্দর্যই পর্যটকদের আকর্ষিত করে এবং তারা এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য ভিড় করে।

প্রশ্ন ০৪ বিষয় : বৈচিত্র্যময় বাঙালি খাবার।

নীরেন হাত-পা ধুইয়া ঠাণ্ডা হইয়া বসিল। বুড়ির রান্না শেষ হইতে রাত দশটা বাজিল। রাঙা আউশ চালের ভাত, পেঁপের ডালনা, সোনা মুগের ডাল, উচ্ছেভাজা, আলুভাতে, ঘন আটানো সরপড়া দুধ, দুটি পাকা কলা, একদলা আখের গুড়ের পাটালি। অদ্ভুত রান্না বুড়ির হাতের। উচ্ছ্বসিত প্রশংসার সুরে বলিল- এমন রান্না কখনো খাইনি দিদিমা। শুনতাম বটে বাংলাদেশের পাড়াগায়ের রান্নার কথা— কিন্তু এ যে এমন চমৎকার তা ভাবিনি

ক. কীসের জল দিয়ে মিশরের চাষ হয়?

খ. ফারাওদের লাশ মমি করা হতো কেন?

গ. উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনির কোন বিষয়টির কথা মনে করিয়ে দেয়?

ঘ. যে খাবারগুলোর জন্য আলোচ্য রচনার লেখকের প্রাণ কাঁদছিল তা উদ্দীপকের নীরেনের জন্য বুড়ি রেঁধেছে— মন্তব্যটি বিচার কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক. নীলের জল দিয়ে মিশরের চাষ হয়।

খ • লাশকে পচে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ফারাওদের লাশ মমি করা হতো। ফারাওরা বিশ্বাস করতেন মৃত্যুর পর তাদের শরীর পড়ে গেছে। আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাঁরা পরলোকে অনন্ত জীবন পাবেন না। তাই প পর দেহকে 'মমি' বানিয়ে সেটাকে শক্ত পিরামিডের ভিতরে হতো। মূলত ফারাওদের লাশ অক্ষত রাখতে মমি করা হতো।

গ. উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনির বা ও খাবারের বিষয়টির কথা মনে করিয়ে দেয়। ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। প্ররি দেশের খাবারের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে, যা থেকে মানুষের জী বৈচিত্র্য সম্পর্কেও জানা যায়।

উদ্দীপকে বাংলার রন্ধনশিল্প ও খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে যেখানে বাংলাদেশের এক গ্রামে বেড়াতে গেলে নীরেনকে যে দেওয়া হয় বৈচিত্র্যময় বাহারি সব খাবার। যেমন— আউশ চালে ভাত, পেঁপের ডালনা, সোনামুগের ডাল, উচ্ছেভাজি, আলুভাতে, দুধ, পাকা কলা ও আখের গুড়। নীরেনের কাছে অদ্ভুত সুন্দর না এসব খাবার। 

'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক মিশরে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার খাবারের কথা তা ধরেছেন। যেমন— মুরগি মুসল্লাম, শিক কাবাব, শামি কাবাব। আ অনেক অজানা জিনিস। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলো রচনার রান্না ও খাবারের বিষয়টির কথা মনে করিয়ে দেয়।

ঘ. যে খাবারগুলোর জন্য আলোচ্য রচনার লেখকের প্রাণ কাঁদ তা উদ্দীপকের নীরেনের জন্য বুড়ি রেঁধেছে— মন্তব্যটি যথার্থ। • ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিচিত্র বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। বিঘ্নি এসব বিষয়ের মধ্যে থাকে কোনো একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ সংস্কৃতি। মানুষ জানতে পারে সেই দেশের খাদ্য ও খাদ্য সম্পর্কি বিভিন্ন তথ্য।

'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায় লেখক মিশরীয় খাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় লেখকরা নিকটতা রেস্তোরায় যান। সেখানে নানা রকম মিশরীয় খাবার খান তারা। অথ লেখকের প্রাণ কেঁদেছিল আতপ চালের ভাত, উচ্ছেভাজা, সোনামুগের ডাল, পটোলভাজা ও মাছের ঝোলের মতো দেশি খাবারের জন্য। খাবারগুলোই উদ্দীপকের নীরেনকে খেতে দেয় বুড়ি। বাংলাদেশে রাঙা আউশ চালের ভাত, সোনামুগের ডাল, উচ্ছেভাজা, দুধ, কলা, গুড় খেয়ে পরিতৃপ্ত ও চমৎকৃত হয় উদ্দীপকের নীরেন।

উদ্দীপকের নীরেন বাংলাদেশের চালের ভাত, সোনামুগ ডাল উচ্ছেভাজার মতো সুস্বাদু যে খাবারগুলোর কথা বলেছে আলোর রচনার লেখকের সেই খাবারগুলোর জন্যই প্রাণ কাঁদে। সুদূর বিদেশে বসে তিনি এই দেশি খাবারগুলোই যেন খেতে চেয়েছেন। তাই বল যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ০৫ বিষয় : ভ্রমণের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা অর্জন। 

কত দেশের কত রকমের লোক পণ্যবাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। কত ঢঙের টুপি, কত রঙের পাগড়ি, কত যুগের অস্ত্র-গাদাবন্দুক থেকে আরম্ভ করে আধুনিকতম জর্মন মাউজার। দামেস্কের বিখ্যাত সুদর্শন তরবারি, সুপারি কাটার জাতির মতো ‘জামধর' মোগল ছবিতে দেখেছিলুম, বাস্তবে দেখলুম হুবহু সেই রকম গোলাপি সিল্কের কোমরবন্ধে গোজা। কারো হাতে কানজোখা পেতলে বাঁধানো লাঠি, কারো হাতে লম্বা ঝকঝকে বর্শা। উটের পিঠে পশষে রেশমে বোনা কত রঙের কার্পেট, কত আকারের সামোভার। বস্তা পেস্তা বাদাম আখরোট কিসমিস আলুবুখারা চলেছে হিন্দুস্থানের বিরিয়ানি পোলাওয়ের জৌলুস বাড়াবার জন্য। আরও চলেছে, শুনতে পেলুম, কোমরবন্ধের নিচে, ইজেরের ভাঁজে, পুস্তিনের লাইনিংয়ের ভিতরে আফিং আর হাসিস না ককেনই, না আরও কিছু।

ক. মিশর কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে?

খ. “ঝিনুকের মতো দাঁত আর কালো চামড়ার কী অসীম সৌন্দর্য।”- লেখক কোন প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করেছেন?

গ. উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?

ঘ. “উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর ।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক. মিশর নীল নদের তীরে গড়ে উঠেছে।

খ. নিগ্রোদের দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনায় লেখক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন । • লেখক মিশর ভ্রমণকালে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ দেখতে পান। তাদের মধ্যে নিগ্রো ও সুদানি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিগ্রোদের দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভেড়ার লোমের মতো কোঁকড়া চুল, লাল লাল পুরু দুখানা ঠোঁট, বোঁচা নাক, ঝিনুকের মতো দাঁত আর কালো চামড়ার কী অসীম সৌন্দর্য।

গ • উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার বিভিন্ন জাতির মানুষের জীবনাচরণ, অভ্যাস ও দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনার বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ।আমাদের এ পৃথিবীতে নানা জাতির লোক বাস করে। কেউ কালো, আবার কেউবা সাদা। কিন্তু সবাই আমরা মানুষ। এই রং কেবল তার বাইরের সৌন্দর্য, ভেতরে সবাই এক।

উদ্দীপকে কাবুলের পাঠানদের জীবনাচরণ এবং সেখানকার মানুষের কাজকর্ম, সাজগোজ, কাজের ধরন প্রভৃতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায়ও লেখক মিশরীয়, নিগ্রো, সুদানি প্রভৃতি জাতির কার্যক্রম ও জীবনধারার বর্ণনা করেছেন। আলোচ্য রচনার এই বিষয়টির সঙ্গেই উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ ।

ঘ • “উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।” মন্তব্যটি যথার্থ। ভ্রমণকাহিনি পড়লে বিভিন্ন দেশ, সেই দেশের অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লোকজন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার পরিপূর্ণ করতে ভ্রমণ এবং ভ্রমণকাহিনি পড়া অতি জরুরি।

উদ্দীপকে কাবুলবাসীর জীবনধারা, সেখানকার লোকজন এবং বিভিন্ন ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারি। এ বিষয়টি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার একটি বিষয় ধারণ করেছে, সম্পূর্ণ বিষয় ধারণ করতে পারেনি। কেননা আলোচ্য রচনায় অন্যান্য বিষয়ও বর্ণিত

হয়েছে।'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায় লেখক মিশর ভ্রমণকালে তার দেখা মরুভূমির সৌন্দর্য, নীল নদ, পিরামিড, সে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রাচীনকালের জীবনধারা, জনগণ প্রভৃতি বিষয় অনুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকে কাবুলবাসীর জীবনধারা, সেখানকার লোকজন ও ঐতিহ্য ছাড়া আলোচ্য রচনার অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ০৬ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী

আহার সম্বন্ধে এদের মোগলাই রুচি, গোপালের মতো যা পায় তা যায় না, রন্ধনশিল্প ইউরোপের কোথাও থাকে যদি তা পারীতে। এত দুনিয়ার সব দেশের খানার এরা সমঝদার, সেই জন্য যেকোনো রেস্তোরাঁয় সব নেশনের খাদ্যের একটা না একটা নমুনা পাওয়া যাবেই। সবচেয়ে আশ্চর্য এই যে, পারীতে অল্প খরচে অনেকখানি তৃপ্তির সাথে খেতে পারা যায়। রান্নাটা উঁচুদের তো বটেই, রান্নাটা টাটকা। শাকসবৃদ্ধি ও মাংসের জন্য ইংল্যান্ড অন্য দেশের মুখাপেক্ষী, ফ্রান্স তেমন নয় 

ক. কোন শহরকে নিশাচর বলা হয়েছে? খ: মিশরে গিয়ে লেখকের প্রাণ কেন কাঁদছিল?

গ. উদ্দীপকের সাথে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটি 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার একটি বিশেষ অংশ উপস্থাপন করেছে মাত্র, সম্পূর্ণ বিষয় নয়।”- মন্তব্যটি যাচাই কর।

৬নং প্রশ্নের উত্তর

ক • কায়রো শহরকে নিশাচর বলা হয়েছে।

খ • বাঙালি খাবারের জন্য মিশরে গিয়ে লেখকের প্রাণ কেঁদেছিল। মিশর ভ্রমণকালে লেখক সেখানকার এক রেস্তোরায় খাবার খেতে যান। সেখানে মুরগি মুসল্লম, শিক কাবাব, শামি কাবাব ইত্যাদি খাবার সাজানো দেখেন। তখন লেখকের প্রাণ বাঙালি খাবার অর্থাৎ আতপ চালের ভাত, উচ্ছে ভাজা, সোনা মুগের ডাল, পটোলভাজা আর মাছের ঝোলের জন্য কেঁদে উঠেছিল।

গ. 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার রান্না ও খাবারের বৈচিত্র্যময় আয়োজনের সাথে উদ্দীপকের বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি হয়। অন্যান্য বিষয়ের মতো খাবার বা রান্নাবান্না সে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরে । • উদ্দীপকে ফ্রান্সের পারী নগরীর রন্ধনশিল্পের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়টি 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায়ও লক্ষ করা যায়। এখানে মিশরীয় রান্না সম্পর্কে আলোচনা করেছেন লেখক। তাঁর মতে মিশরীয় রান্না ভারতীয় রান্নার মামাতো বোন। উদ্দীপকেও পারী নগরীর রান্নার কথা, স্বল্প খরচে খাদ্য প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে। আর এখানেই উভয়ের সাদৃশ্য বিদ্যমান ।

ঘ • “উদ্দীপকটি 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায় 'একটি বিশেষ অংশ উপস্থাপন করেছে মাত্র, সম্পূর্ণ বিষয় নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ । ভ্রমণ জ্ঞানার্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এর মাধ্যমে নানা দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ধরন উপলব্ধি করা যায়।

উদ্দীপকে ফ্রান্সের পারী নগরীর রন্ধনশিল্প তথা রান্না-বান্না ও খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এ বিষয়টি 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছে মাত্র। কারণ আলোচ্য রচনায় উক্ত বিষয় ছাড়াও মিশরের বিভিন্ন দিক লেখক তুলে ধরেছেন।

লেখক মিশর ভ্রমণাভিজ্ঞতা নিয়ে রচনা করেছেন 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' ভ্রমণকাহিনিটি। এ রচনায় তিনি মিশরের ভূপ্রকৃতি, সে দেশের জনগণ, রান্না, খাওয়াদাওয়া, পিরামিড, ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রভৃতি বিষয় উপস্থাপন করেছেন, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ০৭।  নদীমাতৃক বাংলাদেশে

নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রধান নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা অন্যতম। এ নদীর বুকে বয়ে আসা পলিমাটি এদেশের মাটিকে করে তোলে উর্বর। নদীর অববাহিকায় ফলে সোনালি ফসল। পদ্মার বুকের পালতোলা নৌকা প্রকৃতির শোভা অনেকখানি বাড়িয়ে দেয় এ নদীর মৎস্য সম্পদের ওপর অনেকের জীবন-জীবিকাও নির্ভর করে। সব মিলিয়ে পদ্মা বাংলাদেশের জন্য এক আশীর্বাদ । 

ক. 'নাইল' অর্থ কী?

খ. 'সে এক অদ্ভুত দৃশ্য'— উক্তিটি লেখক কেন করেছেন? 

গ. উদ্দীপকের পদ্মা নদী 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার কোনটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ রচনার সম্পূর্ণ ভাবের ধারক নয়।” যথার্থতা নিরূপণ কর।

৭নং প্রশ্নের উত্তর

ক. 'নাইল' অর্থ নীল নদ ।

খ. চাঁদনি রাতের মরুভূমির দৃশ্য দেখে লেখক উক্তিটি করেছেন । • লেখক সুয়েজ বন্দর ছেড়ে শহরের দিকে রওয়ানা করেছেন বিশাল মরুভূমির মধ্য দিয়ে। তখন আকাশে চাঁদ উঠেছে। এই চাঁদের আলোয় মরুভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে লেখক মন্তব্য করেন- সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। সেই দৃশ্য বাংলাদেশের সবুজ শ্যামলিমার মধ্যে দেখা যায় না।

গ. উদ্দীপকের পদ্মা নদী নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার নীল নদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কোনো দেশকে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা করতে নদীর প্রবাহ এক ঐশ্বরিক আশীর্বাদ। নদীর বুকের অগাধ জলরাশি সেই দেশের জলবায়ু ও মাটিকে সজল ও উর্বর করে তোলে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের জনজীবন, আবহাওয়া ও জলবায়ুতে পদ্মা নদীর অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ নদী দেশের মাটিকে করেছে উর্বর। এর বুকের মৎস্য সম্পদ মানুষের জীবিকার মাধ্যম। এই পদ্মা নদীর সাথে সাদৃশ্য রয়েছে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ রচনার নীল নদের। কারণ নীল নদও মিশরের প্রাণ। তার বুকের জল দ্বারা সেদেশে চাষাবাদ হয় এবং সে চাষের ফসল সমগ্র মিশরে খাদ্যের চাহিদা মেটায়। এভাবেই পদ্মা নদী আলোচ্য রচনার নীল নদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ রচনার সম্পূর্ণ ভাবের ধারক নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ। ভ্রমণ মানুষকে অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। কোনো দেশ, সেদেশের প্রকৃতি, লোকজন, ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রভৃতি জানা যায় সেই দেশ ভ্রমণ করলে। উদ্দীপকে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনার একটি মাত্র বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে পদ্মা নদী এবং বাংলাদেশের জনজীবনে এ নদীর অবদান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা আলোচ্য রচনার একটিমাত্র বিষয়। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়েছে 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ' রচনায়। আলোচ্য রচনায় মিশরের পিরামিড, নীল নদের অবদান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মরুভূমির সৌন্দর্য, বিভিন্ন জাতির মানুষ, কায়রোর রান্নাবান্না, লেখকের অনুভূতি প্রভৃতি বিষয় বর্ণিত হয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, শুধু নদীর অবদানের সাথে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি আলোচ্য রচনার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

তোমরা উপরে ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর সহ জেনে নিয়েছো। নীলনদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের যদি অন্য প্রশ্নের উত্তর জানতে চাও তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট সার্চ করো শোব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ