ষষ্ঠ শ্রেণির সততার পুরস্কার গল্পের অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১০টি
![]() |
| সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর |
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা তোমরা প্রতিনিয়ত সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর গুলো খুজে থাকো কিন্তু ভালো কোন ওয়েবসাইটে ষষ্ঠ শ্রেণির সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো পাওনা তাই আমরা আজকে তোমাদের জন্য সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর সহ সাজিয়েছি।
সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ০১ বিষয়: আমানত ফিরিয়ে না দেওয়া।
বিজয় মনে আলী আবার নাজিমের কাছে গিয়ে মোহরগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল। নাজিম বিস্ময়ের ভান করে বলল, সে কী কথা! তুমি আমার কাছে জলপাই রেখে গেলে। এখন মোহর চাচ্ছ, ব্যাপার কী? আলী তখন বন্ধুর নিকট পুরো ঘটনা খুলে বলল এবং মোহরগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার তাকে অনুরোধ করল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। বহু অনুনয় করা সত্ত্বেও মোহরগুলো ফিরিয়ে দিতে নাজিম রাজি হলো না। অগত্যা আলী কাজির দরবারে গিয়ে মালিশ জানাল।
ক. কারা নূরের তৈরি?
খ. "এখন আল্লাহর দয়া ছাড়া আমার দেশে পৌঁছিবার আর কোনো উপায় নাই"— ফেরেশতা কেন একখাটি বলেন?
গ. উদ্দীপকের নাজিমের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবের ধারক নয়।"— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক. ফেরেশতারা নূরের তৈরি।
খ. অন্ধ ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য অসহায় পথিকরূপী ফেরেশতা তাকে উক্ত কথাটি বলেন। আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা অন্ধ রোগীর সততা পরীক্ষা করতে তাকে প্রথমে সুস্থ করে তোলেন এবং ধন-সম্পদের মালিক করে দেন। পরবর্তী সময়ে আবার তার কাছে গিয়ে ফেরেশতা নিজেকে অসহায় পথিক হিসেবে তার সামনে তুলে ধরে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
গ. উদ্দীপকের নাজিমের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তিটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে। মানুষের মহৎ গুণগুলোর মধ্যে সততা অন্যতম প্রধান গুণ। সৎ ব্যক্তিকে সবাই বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। তাই সৎ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সবার কাছে। আর যারা অসৎ, তাদের মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে।
উদ্দীপকের নাজিম একজন অসৎ ব্যক্তি। সে বন্ধুর গচ্ছিত আমানত ফেরত না দিয়ে অসততার পরিচয় দিয়েছে। অনেক অনুরোধ করার পরও সে বন্ধুর আমানত ফিরিয়ে দেয়নি। অন্যদিকে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তিটি মানুষরূপী ফেরেশতার কাছে আল্লাহর দয়ার কথা স্বীকার করেছে। এখানে আল্লাহর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। সেই সঙ্গে অতীত অবদানের কথা ভুলে না গিয়ে সে ফেরেশতাকে সাহায্য করতে চেয়েছে। উদ্দীপকের নাজিম ছিল অসৎ আর 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তিটি ছিল সৎ। এ কারণেই উদ্দীপকের নাজিমের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের নাজিমের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবের ধারক নয়"— মন্তব্যটি যথার্থ।
সৎ ব্যক্তিকে সবাই পছন্দ করে। সৎ ব্যক্তির সঙ্গে সৌভাগ্য এবং আল্লাহর করুণা থাকে। অন্যদিকে অসৎ ব্যক্তিকে প্রত্যেক মানুষই ঘৃণা করে, তারা কখনই জীবনে উন্নতি করতে পারে না।
'সততার পুরস্কার' গল্পে লেখক সৎ ও অসৎ ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে উভয় কাজের পুরস্কার ও পরিণতি বর্ণনা করেছেন। ধবলরোগী ও টাকওয়ালা আল্লাহর দানের কথা অস্বীকার করে অকৃতজ্ঞতা ও অসততার পরিচয় দিয়েছে। তাদের অসৎ আচরণের জন্য তারা শাস্তি পেয়েছে। অন্যদিকে সততার পরিচয় দিয়ে অন্ধ লোকটি পুরস্কার পেয়েছে। কারণ অন্ধ লোকটি কৃতজ্ঞতার সাথে আল্লাহর দানের কথা স্বীকার করেছে এবং অসহায়কে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে উদ্দীপকের নাজিম তার বন্ধুকে গচ্ছিত আমানত ফেরত না দিয়ে অসৎ আচরণের পরিচয় দিয়েছে। অনেক অনুরোধ করার পরও সে মোহরগুলো ফিরিয়ে দেয়নি।
'সততার পুরস্কার' গল্পে লেখক সৎ এবং অসৎ ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে সততার শিক্ষণীয় বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। আর উদ্দীপকে নাজিমের আচরণে অসততার পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে, যা ধবলরোগী ও টাকওয়ালার অসৎ আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্দীপকটি তাই আলোচ্য গল্পের মূলভাবের ধারক হয়ে উঠতে পারেনি। এসব বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০২ | গভ. ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী
এক কাঠুরিয়া বনে কাঠ কাটছিল। কাঠ কাটার সময় তার কুড়ালটি নদীতে পড়ে যায়। কাঠুরিয়া ছিল ভীষণ গরিব। তাই সে কুড়াল হারিয়ে কাঁদতে থাকে। এমন সময় একটি জলপরি একটি সোনার কুড়াল এনে জিজ্ঞেস করে কুড়ালটি তার কি না? কাঠুরিয়া 'না' জবাব দিলে জলপরি তার জন্য একটি রুপার কুড়াল আনলে কাঠুরিয়া বলে এটিও তার কুড়াল না। তৃতীয়বার জলপরি যখন তার লোহার পুরাতন কুড়ালটি এনে দেয় তখন কাঠুরিয়া সানন্দে বলে এটি তার কুড়াল। জলপরি তার সততায় মুগ্ধ হয়ে তাকে তিনটি কুড়ালই উপহার দেয়।
ক. 'সততার পুরস্কার' গল্পটির রচয়িতা কে?
খ. ফেরেশতা তিন ব্যক্তির দুঃখ কীভাবে দূর করলেন?
গ. উদ্দীপকের কাঠুরে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধি?
ঘ. "উদ্দীপকটি সততার পুরস্কার গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।"— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
২নং প্রশ্নের উত্তর
ক. 'সততার পুরস্কার' গল্পটির রচয়িতা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
খ. ফেরেশতা তিন ব্যক্তির রোগ সারিয়ে উট, গাভি, ছাগল উপহার দিয়ে তাদের দুঃখ দূর করলেন। আল্লাহ্ তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠান। ফেরেশতা এসে ধবল ব্যক্তির গায়ের রং ফিরিয়ে দেন। টাকওয়ালার মাথার চুল গজিয়ে দেন এবং অন্ধ লোকটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এছাড়া তিনি তাদের উট, গাভি ও ছাগল উপহার দিয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে দুঃখ দূর করেন।
গ. উদ্দীপকের কাঠুরে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তিটির প্রতিনিধি। সততা মানুষের জীবনে একটি মহৎ গুণ। সৎ ব্যক্তিকে সবাই বিশ্বাস করে এবং ভালোবাসে। সৃষ্টিকর্তার কাছেও তিনি সব সময় প্রিয় থাকেন। সৌভাগ্য সব সময় সৎলোকের সাথে থাকে।
উদ্দীপকের কাঠুরে একজন সৎ ব্যক্তি। সে বনে কাঠ কাটতে গিয়ে লোহার কুড়ালটি হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী হয়ে সোনা-রুপার কুড়াল পেয়েও নিতে চায়নি। তাই সে তার সততার পুরস্কার পেয়েছে। 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তিটির মধ্যেও এরূপ সততা লক্ষ করা যায়। সেও মানুষরূপী ফেরেশতার কাছে আল্লাহর দয়ার কথা স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। তাকে সাহায্য করতে চেয়েছে। এই অন্ধ ব্যক্তিটির প্রতিনিধিই উদ্দীপকের কাঠুরে।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।"— মন্তব্যটি যথার্থ।
সৎলোককে সবাই যেমন পছন্দ করে তেমনি অসৎ ব্যক্তিকে প্রত্যেকে ঘৃণা করে। অসৎ ব্যক্তি কখনই জীবনে উন্নতি করতে পারে না। অন্যদিকে সৎ ব্যক্তির সাথে সৌভাগ্য এবং আল্লাহর করুণা সব সময় বিরাজ করে।
উদ্দীপকে একজন কাঠুরের সততার কথা বর্ণিত হয়েছে। জলপরি তাকে সোনা-রুপার কুড়াল দিতে চাইলেও সে তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তার সততার পুরস্কারস্বরূপ জলপরি তাকে কুড়াল দুটি উপহার দেয়। 'সততার পুরস্কার' গল্পেও সৎ ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যা গল্পের মূল বিষয়।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহ তিন জন লোককে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠান। তিন জনের মধ্যে অন্ধ ব্যক্তিটিই শুধু আল্লাহর দয়ার কথা স্মরণে রেখেছে। কিন্তু ধবলরোগী ও টাকওয়ালা মিথ্যা কথা বলে এবং দয়ার কথা অস্বীকার করে। ফলে তারা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আর সৎ লোকটি ফেরেশতা কর্তৃক পুরস্কৃত হয়। গল্পের এই ভাবটি উদ্দীপকে উপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০৩ | বিষয় : সত্যবাদী মানুষের পরিচয় ও সততার পুরস্কার।
এক তাঁতির একটি কাপড়ের দোকান ছিল। একদিন জরুরি কাজে তিনি দোকানের বাইরে গেলেন, দোকানের দায়িত্ব দিয়ে গেলেন করিম বখশ নামের এক ছেলেকে। নানা দুর্বিপাকে পড়ে দোকানি দীর্ঘদিন ফিরে আসতে পারলেন না। করিম সততার সাথে কাজ করে দোকানের অনেক উন্নতি করল। ক্রমে এক দোকানের পরিবর্তে তিনটি দোকান স্থাপিত হল। প্রায় সাত বছর পরে হঠাৎ দোকানি ফিরে এলেন। করিম সাদরে তাঁকে বরণ করে দোকানের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিতে আগ্রহী হল। করিমের মহৎ প্রাণের পরিচয় পেয়ে বৃদ্ধ দোকানি অভিভূত হলেন। নিজের জন্য একটা মাসিক বন্দোবস্ত করে, করিমের হাতেই দোকান বুঝিয়ে দিয়ে তিনি তীর্থে চলে গেলেন। বালক তার সততার পুরস্কার পেল।
ক. ফেরেশতারা কার হুকুমে কাজ করেন?
খ. ফেরেশতা টাকওয়ালার মাথায় কেন হাত বুলিয়ে দিলেন?
গ. উদ্দীপকের করিমের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে?
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবের ধারক।"— মন্তব্যটি যথার্থতা নিরূপণ কর।
৩নং প্রশ্নের উত্তর
ক. ফেরেশতারা আল্লাহ্র হুকুমে কাজ করেন।
খ. টাকওয়ালার মাথায় চুল গজানোর জন্য ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহর হুকুমে জনৈক ফেরেশতা টাকওয়ালার কাছে গেলেন। ফেরেশতা জানতে চাইলেন সে কী সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। জবাবে টাকওয়ালা তার টাক সেরে গিয়ে মাথায় চুল গজানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করে। ফেরেশতা তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এতে তার টাক সেরে যায়। তার মাথায় চুল গজিয়ে ওঠে।
গ. উদ্দীপকের করিমের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির সাদৃশ্য রয়েছে। সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। সৎ ব্যক্তিকে সবাই বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন। আল্লাহর করুণাও তার ওপর বর্ষিত হয়। সৌভাগ্য সব সময় তার সাথে থাকে।
উদ্দীপকের করিম একজন সৎ ছেলে। এক ব্যবসায়ী বিশ্বাস করে তার ওপর দোকানের সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে যান। দুর্বিপাকে পড়ে তিনি সময়মতো আসতে না পারলেও করিম সততার সাথে তার ব্যবসা দেখাশোনা করে এবং লোকটি ফিরে এলে তাকে তার আমানত ফিরিয়ে দিতে চায়। 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটিও আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ রাখে এবং ফকিরবেশী ফেরেশতাকে সাহায্য করতে চায়। এই সৎ ব্যক্তির সাথেই উদ্দীপকের করিমের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবের ধারক।"— মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের বিভিন্ন গুণের মধ্যে সততা অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। যিনি সততার সাথে কাজ করেন তিনি জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন। তিনি মানুষের ভালোবাসা এবং সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ পান।
উদ্দীপকে সততার পুরস্কার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। করিম নামের এক বালককে এক ব্যবসায়ী দোকানের দায়িত্ব দিয়ে বাইরে যান এবং নানা দুর্বিপাকে পড়ে সময়মতো তিনি ফিরতে পারেন না। করিম সততার সাথে দীর্ঘদিন দোকান পরিচালনা করে এবং ব্যবসায়ী ফিরে এলে তাঁকে তার ব্যবসা ফিরিয়ে দিতে চায়। ব্যবসায়ী করিমের সততায় মুগ্ধ হয়ে সবকিছু তাকে দিয়ে তার সততার পুরস্কার দেন। 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবও একই ধরনের।
'সততার পুরস্কার' গল্পে দেখা যায় আরব দেশে তিন জন লোককে পরীক্ষার জন্য আল্লাহ ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যে ধবলরোগী ও টাকওয়ালা সততার পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেও অন্ধ লোকটি সততার পরিচয় দেয়। অপর দুজন তাদের লোভ ও অকৃতজ্ঞতার শাস্তি পায় এবং অন্ধ লোকটি তার সততার পুরস্কার পায়। গল্পের এই মূলভাবটিই উদ্দীপকটি ধারণ করেছে।
প্রশ্ন ০৪ | গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ময়মনসিংহ
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বললেন, যিনি তোমার উপকার করেছেন তার বিপদে সহযোগিতা করতে হবে। কখনও নিজের কিছু নিয়ে অহংকার করবে না। মনে রাখবে— 'দিয়ে ধন, দেখে মন, কেড়ে নিতে কতক্ষণ।'
ক. ফেরেশতা কী রূপ ধারণ করেন?
খ. তিন ব্যক্তি কারা ছিলেন?
গ. উদ্দীপকের শেষ দুই লাইনের বক্তব্য 'সততার পুরস্কার' গল্পের ঘটনাপ্রবাহের মাঝে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।"— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
৪নং প্রশ্নের উত্তর
ক. ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করেন।
খ. তিন ব্যক্তি ছিলেন আরব দেশের অধিবাসী। তাদের একজন ধবলরোগী, একজন টাকওয়ালা এবং অন্যজন অন্ধ ছিলেন।
সেকালে আরব দেশে তিনটি লোক ছিলেন। তাদের একজন ছিলেন ধবলরোগী। তার সর্বাঙ্গ ধবল ছিল। একজনের মাথায় ছিল টাক। আরেকজনের দুই চোখই ছিল অন্ধ। এই তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাদের কাছে এক ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন।
গ. উদ্দীপকের শেষ দুই লাইনের বক্তব্য 'সততার পুরস্কার' গল্পের ঘটনাপ্রবাহের মাঝে সম্পদ দিয়ে সততার পরীক্ষা করে তা কেড়ে নেওয়ার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আল্লাহ মানুষের অসহায় অবস্থায় বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। কিন্তু মানুষ অকৃতজ্ঞ চিত্তে সেই সাহায্যের কথা ভুলে যায়। আর এ কারণেই অনেকের জীবনে পুনরায় বিপর্যয় নেমে আসে।
উদ্দীপকের শেষ দুই লাইনের বক্তব্যে মানুষের নৈতিকতা পরীক্ষার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়ে মানুষের মন পরীক্ষা করেন। এই ধন-সম্পদ নিয়ে মানুষের অহংকার করার কিছুই নেই। কারণ যিনি ধন-সম্পদ দেন তিনি তা কেড়েও নিতে পারেন। 'সততার পুরস্কার' গল্পের ঘটনাপ্রবাহেও উদ্দীপকের বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহ পরীক্ষা করার জন্য অন্ধ, ধবলরোগী এবং টাকওয়ালার কষ্ট দূর করে দিয়ে তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলেন। কিন্তু ধবলরোগী ও টাকওয়ালা ব্যক্তি অহংকার থেকে নৈতিকতার প্রশ্নে হেরে যান। ফলে আল্লাহ তাদের ধন-সম্পদ কেড়ে নিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। আর এভাবেই উদ্দীপকের শেষ দুই লাইনের বক্তব্য 'সততার পুরস্কার' গল্পের ঘটনাপ্রবাহের মাঝে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।"— মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনে নৈতিকতা বড় একটি গুণ। উপকারীর উপকার স্বীকার করা এবং পরবর্তী সময়ে তার বিপদে সহযোগিতা করাই নৈতিকতা। আর অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে মানুষের নৈতিকতার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উপকারীর উপকার স্বীকার করে তার বিপদে সহযোগিতা করতে হবে। নিজের অহংকার পরিত্যাগ করতে হবে। ধন-সম্পদ দিয়ে মানুষের মন পরীক্ষা করা হয়। সততার পরিচয় না দিলে সেই ধন-সম্পদ কেড়ে নিতেও কিছু মাত্র সময় লাগে না। 'সততার পুরস্কার' গল্পে দেখা যায়, আরব দেশের তিন জন লোককে আল্লাহ পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যে অন্ধ লোকটি সততার পরিচয় দেন। কিন্তু ধবলরোগী ও টাকওয়ালা অসততার পরিচয় দেন। তাদের লোভ, অহংকার ও অকৃতজ্ঞতার শাস্তি তারা পান।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহ তিন জন লোককে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠান। শুধু অন্ধ ব্যক্তিই আল্লাহর অবদানের কথা স্মরণ রাখেন। আর বাকি দুজনকে তা অস্বীকার করলে আল্লাহ তাদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। গল্পটি সততার শিক্ষা দেয়। উদ্দীপকেও সততা ও নৈতিকতা শিক্ষার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০৫ | বিষয় : একজন সৎ ব্যক্তির সততা।
শিয়ালদহ স্টেশনে আসিয়া খাম খুলিয়া নোটগুলি কী ভাবিয়া একবার দেখিয়া লইতে গিয়া হরিপদ মাথা ঘুরিয়া সেখানে বসিয়া পড়িল। সর্বনাশ! সব কয়নাই একশো টাকার নোট, সর্বসুদ্ধ এগারো খানা। চল্লিশ টাকার জায়গায় এগারোশো টাকা! টাকা ফেরত দেওয়ার একটা প্রবল বাধা দাঁড়াইয়াছে হরিপদের স্ত্রী। সে যেদিন হইতে শুনিয়াছে স্বামী টাকা ফেরত দেওয়ার সঙ্কল্প করিতেছে, সেদিন হইতে সে কাঁদিয়া-কাটিয়া অনর্থ বাধাইয়াছে। হরিপদ তাহাকে বুঝাইয়া বলিল— দেখো, ফাঁকির টাকা তো... ওটা তাদের দিয়েই আসি।
ক. 'সততার পুরস্কার' গল্পে কৃতজ্ঞ ব্যক্তি কে?
খ. "সকলে যে আমাকে বড় ঘৃণা করে"— কথাটি কেন বলে?
গ. উদ্দীপকের হরিপদ 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন লোকটিকে নির্দেশ করে?
ঘ. হরিপদের স্ত্রী ও আলোচ্য গল্পের অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিরা একে অন্যের পরিপূরক— মন্তব্যটি বিচার কর।
৫নং প্রশ্নের উত্তর
ক. 'সততার পুরস্কার' গল্পে কৃতজ্ঞ ব্যক্তি অন্ধ লোকটি।
খ. ধবলরোগী ফেরেশতার কাছে তার রোগের কথা বলতে গিয়ে উক্ত কথাটি বলে। 'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা ধবলরোগীর কাছে গিয়ে জানতে চান সে কী সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। জবাবে সে বলে তার গায়ের ধবল রোগ যদি ভালো হয় তবে সে সবচেয়ে সুখী হবে। কারণ এই রোগকে সবাই খুব ঘৃণা করে।
গ. উদ্দীপকের হরিপদ 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ সৎ লোকটিকে নির্দেশ করে।
মানুষের অন্যতম গুণগুলোর মধ্যে একটি হলো সততা। সৎ ব্যক্তিকে সকলে ভালোবাসে। সৎ ব্যক্তি কখনো কারও সাথে অন্যায় করে না।
উদ্দীপকের হরিপদ স্টেশনে এসে খাম খুলে দেখে তার পাওনা চল্লিশ টাকার পরিবর্তে খামে রয়েছে এগারোশো টাকা। সে টাকাটি ফেরত দিতে চায়। কারণ এত টাকার মালিক সে নয়। স্ত্রী বাধা দিলে হরিপদ তাকে বোঝাতে চেষ্টা করে। 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটিও সৎ। ফেরেশতা তার পূর্বের অবস্থা স্মরণ করিয়ে সাহায্য চাইলে অন্ধ লোকটি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণে রেখেছে এবং ফেরেশতাকে সাহায্য করেছে। তাই বলা যায় যে, সৎ হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের হরিপদ আলোচ্য গল্পের অন্ধ সৎ লোকটিকে নির্দেশ করে।
ঘ. হরিপদের স্ত্রী ও আলোচ্য গল্পের অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিরা একে অন্যের পরিপূরক— মন্তব্যটি যথার্থ।
অসৎ ব্যক্তি দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সে শুধু তার নিজের কথাই চিন্তা করে। নিজের লাভের জন্য অন্যের ক্ষতি করতেও সে পিছপা হয় না।
উদ্দীপকে হরিপদের সততার কথা প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে তার স্ত্রীর অসৎ আচরণ। হরিপদ তার প্রাপ্য চল্লিশ টাকার জায়গায় এগারোশো টাকা পেলে সে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে চায়। কিন্তু তার স্ত্রী তা দিতে নারাজ। তার স্ত্রী চায় সেই টাকা তাদের কাছে থাকুক। অন্যদিকে 'সততার পুরস্কার' গল্পে এমনই দুজন অসৎ ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করেও তা অস্বীকার করেছে। ধবলরোগী ও টাকওয়ালা ব্যক্তি দুজন অসৎ ও অকৃতজ্ঞ। তারা ফেরেশতাকে সাহায্য করেনি।
উদ্দীপকের হরিপদের স্ত্রী এবং 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালা অসৎ ও লোভী। তারা স্বার্থপর ও খামখেয়ালি। নিজেদের স্বার্থ ছাড়া তারা অন্যের কথা চিন্তা করে না। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০৬ | বিষয় : বিশ্বাসঘাতকের পরিণতি।
পাখি শিকারির বাড়িতে অবেলায় মেহমান এসে হাজির। সে বেচারা কী আর করে? উপায়ান্তর না দেখে মেহমানদারির খাতিরে নিজের শিকারি কুড়াপাখি জবাই করেই মেহমানকে খাওয়াবে ভাবল সে। কুড়াপাখি তো বেঁকে বসল। বলল : কী! তোমার জন্য আমি আমার নিজের জাত-ভাইদের পর্যন্ত ভুলিয়ে এনে তোমার ফাঁদে ফেলি আর তুমি কি না আমাকে জবাই করে মেহমান খাওয়াবে? এত উপকারের বদলে এই প্রতিদান?
ক. 'অদৃশ্যলোকে' গ্রন্থখানি কে লিখেছেন?
খ. "তবে তুমি যেমন ছিলে আল্লাহ আবার তোমাকে তাহাই করিবেন"— একথা কেন বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "উদ্দীপক এবং 'সততার পুরস্কার' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিই গল্পের মূল বিষয়বস্তু।"— বিশ্লেষণ কর।
৬নং প্রশ্নের উত্তর
ক. 'অদৃশ্যলোকে' গল্পগ্রন্থটি বনফুল লিখেছেন।
খ. স্বর্গীয় দূত পুনরায় এলে যখন তাঁকে দান না করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তখন স্বর্গীয় দূত প্রশ্নোক্ত মন্তব্য করেছেন।
সেকালে আরব দেশে তিন জন লোক ছিল। যাদের মধ্যে একজন ছিল ধবলরোগী, একজনের মাথায় টাক, আর একজন অন্ধ। একদিন আল্লাহর আদেশে ফেরেশতা তাদের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা দূর করে দেন এবং ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রথম জনকে উট, দ্বিতীয় জনকে গাভি এবং তৃতীয় জনকে ছাগল দেন। অনেকদিন পরে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফেরেশতা আবার তাদের কাছে যান, তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। ফেরেশতা গিয়ে তাদের কাছে দানস্বরূপ কিছু চাইলে ধবলরোগী ও টাকওয়ালা তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। তখন ফেরেশতা এমন মন্তব্য করেন। কারণ তারা দুজন তাদের অতীত ভুলে গিয়ে বর্তমান জীবন নিয়ে অহংকারী।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের উপকার মনে না রাখার দিকে থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
কোনো মানুষই বিপদের ঊর্ধ্বে নয়। বিপদের সময় যে সাহায্য করে, তার সাহায্য সামান্য হলেও তাকে সারা জীবন মনে রাখা উচিত। কারণ একদিনের সামান্য উপকার অনেক সময় মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিকারির বাড়িতে অসময়ে মেহমান এলে সে কুড়াপাখি রান্না করে খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কুড়াপাখি তখন স্মরণ করিয়ে দেয় শিকারির উপকার করতে গিয়ে সে জাত-ভাইদেরও ভুলিয়ে তার কাছে এনেছে। আর আজ তাকেই জবাই করে সে মেহমানকে খাওয়াতে চায়। এখানে শিকারির কুড়াপাখির উপকার মনে না রাখার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'সততার পুরস্কার' গল্পে ফেরেশতা আল্লাহর হুকুমমতো তিন ব্যক্তির ইচ্ছা পূর্ণ করে দিলেও ধবলরোগী ও টাকওয়ালা পরবর্তী সময়ে তা ভুলে যায়। এখানে গল্পের ব্যক্তিদের উপকার ভুলে যাওয়ার সঙ্গে উদ্দীপকের শিকারির কুড়াপাখির উপকার ভুলে যাওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. "উদ্দীপক এবং 'সততার পুরস্কার' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিই গল্পের মূল বিষয়বস্তু।"— মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ যখন অসহায় হয়ে পড়ে তখন সে কারও না কারও সাহায্য বা সহযোগিতা কামনা করে। আর এমন সময় সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বিভিন্ন মাধ্যমে সাহায্য করে থাকেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সেই দান আমরা বেশিরভাগ সময়ই অস্বীকার করি অথবা ভুলে যাই। তাই বিপদ ও অসহায় মুহূর্ত মনে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
উদ্দীপকে শিকারির কুড়াপাখির প্রতি অবহেলা ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। একসময় কুড়াপাখি তাকে সাহায্য করার জন্য নিজের জাত-ভাইদের ভুলিয়ে তার কাছে আনত। আর শিকারি তার সব উপকার ভুলে তাকে জবাই করে আতিথেয়তা সম্পন্ন করতে চাইছে। 'সততার পুরস্কার' গল্পে তিন ব্যক্তিকে ফেরেশতা সাহায্য করলেও ধবলরোগী ও টাকওয়ালা তা ভুলে যায়। তারা আল্লাহর দান ভুলে গিয়ে ফেরেশতাকে ফিরিয়ে দেয় এবং নিজেদের পূর্বের অবস্থার কথাও অস্বীকার করে।
উদ্দীপকে শিকারির উপকারীর প্রতি অকৃতজ্ঞ মনোভাব ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার মধ্যেও এই অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। এদিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে আর এই সাদৃশ্যই গল্পের মূল বক্তব্য। তাই বলা যায়, উপকার অস্বীকার করার বিষয়ে উদ্দীপক এবং গল্পের মিল রয়েছে আর এই মিলই গল্পের মূল বিষয়বস্তু।
প্রশ্ন ০৭ | বিষয় : জীবনরক্ষাকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধের দৃষ্টান্ত।
খলিফা মামুনের সময়কালে দামেস্কের জনৈক শাসনকর্তা পদচ্যুত হন। নতুন শাসনকর্তা মামুনের একজন প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। তিনি স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় লাভ করে জীবন রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ঐ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহে তাকে অন্তরীণ করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে উপকারীর উপকারের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি গ্রহণ করেন এবং খলিফার কাছে তার মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। [তথ্যসূত্র : পাঠ-পরিচিতি— প্রত্যুপকার (নবম শ্রেণি)]
ক. স্বর্গীয় দূত সবশেষে কার কাছে গিয়েছিলেন?
খ. স্বর্গীয় দূত কেন পুনরায় তাদের কাছে গিয়েছিলেন? বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন দিকটির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট আলাদা।"— তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
৭নং প্রশ্নের উত্তর
ক. স্বর্গীয় দূত সবশেষে অন্ধ লোকটির কাছে গিয়েছিলেন।
খ. স্বর্গীয় দূত পরীক্ষা করার জন্য পুনরায় তাদের কাছে গিয়েছিলেন। সেকালে আরব দেশে একজন ধবলরোগী, একজন টাকওয়ালা এবং একজন অন্ধ লোক ছিল। এই শারীরিক ত্রুটির জন্য তাদের মনে দুঃখের অন্ত ছিল না। আল্লাহর হুকুমে তাদের কাছে ফেরেশতা বা স্বর্গীয় দূত এসে তাদের সমস্ত দুঃখ লাঘব করে দেন এবং তিন জনকে তিনটি প্রাণী দেন, যা দিয়ে তারা তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটায়। কিছুদিন পর পরীক্ষা করার জন্য পুনরায় তাদের কাছে স্বর্গীয় দূত গিয়েছিলেন।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের প্রতিদানের দিক দিয়ে মিল রয়েছে।
মানুষের জীবনে যেকোনো সময়ে বিপদ-আপদ আসতে পারে এবং সে অসহায় অবস্থায় পড়তে পারে। তখন আল্লাহ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন বিভিন্ন রূপে। কিন্তু মানুষ অনেক সময় সেই সাহায্যের কথা ভুলে যায়। আর তার ফলেই পুনরায় তার জীবনে বিপত্তি নেমে আসে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র আলী ইবনে আব্বাস একবার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় পান এবং তাঁর জীবন রক্ষা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি যখন ওই ব্যক্তিকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় পান তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। 'সততার পুরস্কার' গল্পে তিন জন লোককে স্বর্গীয় দূত এসে সুস্থ করেন এবং ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য তিন জনকে তিন ধরনের প্রাণী দিয়ে যান। কিছুদিন পরে স্বর্গীয় দূত তাদের কাছে পুনরায় আসেন তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। কিন্তু দুজন তাদের পূর্ব অবস্থার কথা ভুলে গেলেও শেষ ব্যক্তি নিজের আগের অবস্থার কথা মনে রেখে স্বর্গীয় দূতের চাহিদামতো তাকে সবকিছু দেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে গল্পের প্রতিদানের দিক দিয়ে মিল রয়েছে।
ঘ. "উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট আলাদা।"— মন্তব্যটি সার্থক।
মানুষের জীবনে সমস্যা যেমন আছে, তার সমাধানও তেমনই আছে। তাই কোনো সমস্যা হলে হাল না ছেড়ে দিয়ে ধৈর্য আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভরসা রেখে এগিয়ে যেতে হয়। কারণ সব সমস্যা মোকাবিলা করেই মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়।
উদ্দীপকে আলী ইবনে আব্বাস তার প্রাণরক্ষাকারী ব্যক্তিকে পরবর্তী সময়ে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এখানে তাঁর কৃতজ্ঞতার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'সততার পুরস্কার' গল্পে তিন জন শারীরিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ মানুষকে স্বর্গীয় দূত সুস্থ করে দেন এবং তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য তিনটি প্রাণী দিয়ে যান। কিছুদিন পর স্বর্গীয় দূত তাদের পরীক্ষা করার জন্য ফিরে এলে তিন জনের মধ্যে প্রথম দুজন তাকে ফিরিয়ে দিলেও তৃতীয় জন তাকে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে আলী ইবনে আব্বাস নিজের বিবেক থেকেই উপকারী ব্যক্তিকে সাহায্য করেছেন। অন্যদিকে গল্পের তিন জন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে এবং তৃতীয় জন পরীক্ষা সম্পর্কে না জানলেও নিজের অতীত মনে করে স্বর্গীয় দূতকে সাহায্য করেছে। তাই বলা যায়, উপকারের প্রতিদান দেওয়ার বিষয়ে উদ্দীপক ও গল্পের মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট আলাদা। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে সার্থক বলা যায়।
প্রশ্ন ০৮ | সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ
ওসমান চৌধুরী সততার জন্য বিশ্বব্যাপী আলোচিত। পাঁচ লাখ ডলার মূল্যের ডায়মন্ড পেয়েও তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন নিজ উদ্যোগে। বিনিময়ে তিনি কিছুই গ্রহণ করেননি। উপরন্তু বলেছেন, "আমি যা করেছি তার জন্য আমি গর্বিত। এর বিনিময়ে আমি কিছুই চাই না, কারণ আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।"
ক. স্বর্গীয় দূত কতজনকে পরীক্ষা করেছিলেন?
খ. স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরীর সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন কোন চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. "ওসমান চৌধুরীর কাজের মধ্যেই 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত।"— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
১০নং প্রশ্নের উত্তর
ক. স্বর্গীয় দূত তিন জনকে পরীক্ষা করেছিলেন।
খ. স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন তিন জন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য।
আরব দেশের তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাঁরা তিন জনই শারীরিকভাবে ত্রুটিযুক্ত ছিলেন। আল্লাহ তাঁদেরকে সুস্থ করে দেন এবং তাঁদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কিছু পশু দেন। পরবর্তীতে তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা ছদ্মবেশ ধারণ করে তাঁদের কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। মূলত তাঁরা আল্লাহর দেওয়া আশীর্বাদের কথা মনে রেখেছে নাকি ভুলে গেছে— সেই পরীক্ষা নেওয়ার জন্যই ফেরেশতা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
গ. উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরীর সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার নীতিগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
পৃথিবীতে ঈশ্বর মানুষকে আশীর্বাদস্বরূপ অনেক কিছু দান করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই মানুষ তা অনুধাবন করতে পারে না। ফলে নিজের ভাগ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরী পাঁচ লাখ ডলার মূল্যের হীরা পেয়েও তা নিজ দায়িত্বে ফেরত দেন। বিনিময়ে কোনো কিছু আশা না করে নিজের দায়িত্ব পালনে গর্ববোধ করেন। 'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহর আদেশে ফেরেশতা আরব দেশের তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করেন। পরবর্তী সময়ে আবার ফেরেশতা ছদ্মবেশে ফিরে এলে তাঁদের মধ্যে ধবলরোগী ও টাকওয়ালা সেই সাহায্যের কথা অস্বীকার করে। মূলত এখানেই উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরীর সঙ্গে গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার নীতিগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. "উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরীর কাজের মধ্যেই 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত।"— মন্তব্যটি যথার্থ।
সততা মানুষের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যে সৎ পথ অবলম্বন করে চলে, সে সারা জীবন শান্তিতে থাকে। আর যে অসৎ পথে জীবনযাপন করে সে সারা জীবন অশান্তি ভোগ করে।
উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরী অনেক দামি বস্তু হাতে পেয়েও তা আত্মসাৎ না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখানে তিনি সর্বোচ্চ সততার পরিচয় দিয়েছেন। 'সততার পুরস্কার' গল্পে তিন জনের মধ্যে দু'জনই অসততার পথ অবলম্বন করে এবং একজন সততার পরিচয় দেয়। যারা অসততার পরিচয় দেয় তারা শাস্তিস্বরূপ আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আর যে সততার পরিচয় দেয় সে পুরস্কৃত হয়।
উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরীকে সততার সর্বোচ্চ পরিচয় দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে 'সততার পুরস্কার' গল্পে অসৎ পথ অবলম্বনকারীদের পরিণতি এবং সততার পরিচয় অবলম্বনকারীর পুরস্কৃত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ মানুষের সৎভাবে জীবনযাপন করা উচিত— এই শিক্ষাই গল্পটিতে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ওসমান চৌধুরীর কাজের মধ্যেই 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত।
প্রশ্ন ০৯ | ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, লালমনিরহাট
একদিন এক বাঘের গলায় হাড় বিঁধে। বাঘ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এরপর বাঘ ঘোষণা করে যে, যে তার গলার হাড় বের করে দেবে, তাকে সে সোনার হার উপহার দিবে। পুরস্কারের লোভে এক বক তার লম্বা ঠোঁট বাঘের মুখে ঢুকিয়ে তার গলা থেকে হাড় বের করে আনে। এরপর বক তার পুরস্কার চাইলে, বাঘ তার পুরস্কার দিতে অস্বীকার করে।
ক. 'সততার পুরস্কার' গল্পটি কে লিখেছেন?
খ. ফেরেশতা অন্ধ লোকটির প্রতি খুশি হলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের মিল দেখাও।
ঘ. "উদ্দীপকের বাঘ ও 'সততার পুরস্কার' গল্পের টাক ও ধবলরোগী উভয়ই অকৃতজ্ঞ"— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
১১নং প্রশ্নের উত্তর
ক. 'সততার পুরস্কার' গল্পটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছেন।
খ. ফেরেশতা অন্ধ লোকটির সততা দেখে তাঁর প্রতি খুশি হলেন।
আরব দেশের তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাআলার হুকুমে ফেরেশতা তাঁদের কাছে যান। তাঁদেরকে যথাযথ সাহায্য করার পর ফেরেশতা চলে যান। অনেক দিন পরে ফেরেশতা পুনরায় তাঁদের কাছে গিয়ে তাঁদের অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং তাঁদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু শুধু অন্ধ লোকটি ছাড়া বাকি দু'জনই নিজেদের অতীত অবস্থা এবং খোদার রহমতের কথা অস্বীকার করে। অন্ধ লোকটি নিজের অতীত অবস্থা এবং আল্লাহর রহমতের কথা শুধু স্বীকারই না বরং ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে সাধ্যমতো সাহায্য করে। তাই ফেরেশতা অন্ধ লোকটির প্রতি খুশি হলেন।
গ. উদ্দীপকের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অতীতের উপকারের কথা ভুলে যাওয়ার দিকটির মিল রয়েছে।
দুঃসময়ে যে উপকার করে তাঁর উপকার কখনো ভুলে যেতে নেই। বরং কোনো কারণে সেই উপকারী বিপদ হলে অবশ্যই তাঁকে সর্বাত্মক সাহায্য করা উচিত। অন্যথায় যে মানুষ উপকারীর উপকার অস্বীকার করে সে অকৃতজ্ঞ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
উদ্দীপকে গলায় হাড় বিঁধে যাওয়ায় বাঘ যন্ত্রণায় ছটফট করে। বাঘ ঘোষণা করে যে, যে তার গলার হাড় বের করে দেবে তাকে পুরস্কার দিবে। পুরস্কারের লোভে বক তার গলার হাড় বের করে দিলে বাঘ পুরস্কার দেওয়ার কথা অস্বীকার করে। বাঘ তার অতীত কষ্টের কথা মনে রাখে না বলেই বককে পুরস্কার দিতে অস্বীকার করে। একইভাবে 'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা তিন ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলে এবং তাদের উন্নয়নের জন্য সাহায্য করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিন জনের মধ্যে দু'জনই ফেরেশতার দেওয়া আল্লাহর রহমত ও নিজেদের অতীত অস্বীকার করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অতীতের উপকারের কথা ভুলে যাওয়ার দিকটির মিল রয়েছে।
ঘ. "উদ্দীপকের বাঘ ও 'সততার পুরস্কার' গল্পের টাক ও ধবলরোগী উভয়ই অকৃতজ্ঞ"— মন্তব্যটি যথার্থ।
সততা মানুষের ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে। যে মানুষ সৎ, সে সবার কাছে সমাদৃত। অন্যদিকে অসৎ ব্যক্তি সবার কাছে নিন্দিত। তাই নিজেকে সঠিক পথে গড়ে তুলতে হলে সৎ পথে চলতে হয়।
উদ্দীপকে বাঘের গলায় হাড় বিঁধে যাওয়া থেকে বক বাঘকে উদ্ধার করে। যার বিনিময়ে বাঘ বককে পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বক বাঘের গলা থেকে হাড় বের করে দেওয়ার পরে বাঘ আগের সবকিছু অস্বীকার করে। 'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহর প্রেরিত ফেরেশতা তিনজন রুগ্ণ ব্যক্তিকে সুস্থ করেন এবং ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করেন। ফেরেশতা তাদের পরীক্ষা করার জন্য তাঁদের কাছে গেলে ধবলরোগী ও টাকওয়ালা আল্লাহর অবদান এবং তাদের অতীতের করুণ অবস্থার কথা অস্বীকার করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের বাঘ এবং গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা উভয়ই অকৃতজ্ঞ।
