খাইবারপাসের ভিতর পথের দৃশ্য তুলে ধর।
খাইবারপাসের ভিতর পথের দৃশ্য তুলে ধর।
![]() |
| খাইবারপাসের ভিতর পথের দৃশ্য তুলে ধর। |
উত্তর : দু'দিকে হাজার ফুট উঁচু পাথরের নেড়া পাহাড়। মাঝখানে খাইবারপাস। একজোড়া রাস্তা এঁকেবেঁকে অন্যের গা ঘেঁষে চলেছে কাবুলের দিকে।
এক রাস্তা মোটরের জন্য, অন্য রাস্তা উট খচ্চর ঘোড়ার পণ্যবাহিনী বা ক্যারাভ্যানের জন্য। সংকীর্ণতম স্থলে দুই রাস্তায় মিলে ত্রিশ হাতও হবে না। সে রাস্তা আবার মাতালের মতো টলতে টলতে এতই এঁকেবেঁকে গিয়েছে, যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালে চোখে পড়ে ডানে বামে পাহাড়, সামনে পিছনে পাহাড়।
এ গিরিসংকট আফগানের লক্ষ কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হয়ে কোটি কণ্ঠে পরিবর্তিত হতো। এ গিরিসংকটে এক মার্তণ্ডে ক্ষণে ক্ষণে লক্ষ মার্তণ্ডে পরিণত হন। তাদের কোটি কোটি অগ্নিজিহ্বা আমাদের সর্বাঙ্গ লেহন করে পরিতুষ্ট হন না, চোখের চর্ম পর্যন্ত অগ্নিশলাকা দিয়ে বিদ্ধ করে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নয়ান জুলিতে জল জমতে আরম্ভ করে। অক্টোবরে শীতের হাওয়ায় ঝরাপাতা কাবুল শহরে হাজারো রঙের গালিচা পেতে দেয়।
নভেম্বরে পুস্তিনের জোব্বা বের করা হয়। ডিসেম্বরে বরফ পড়তে শুরু করে। খাইবারপাসের ভিতর ছিল পিচ ঢালা রাস্তা তা সে সংকীর্ণই হোক আর প্রশস্তই হোক। হাজার বছরের লোক চলাচলের ফলে পাথর এবং অতি সামান্য মাটির উপর যে দাগ পড়েছে তারই উপর দিয়ে মোটর চলে। এ দাগের উপর দিয়ে পণ্যবাহিনীর যেতে আসতে কোনো অসুবিধা হয় না।
কিন্তু মোটর আরোহীর পক্ষে যে কতদূরজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়৩৭৫পীড়াদায়ক হতে পারে তার খানিকটা তুলনা হয় বীরভূম বাঁকুড়ায় ডাঙ্গা ও খোয়াইয়ে রাত্রিকালে গরুর গাড়ি চড়ার সঙ্গে যদি সে গাড়ি কুড়ি মাইল বেগে চলে, ভিতরে খড়ের পুরু তোষক না থাকে, এবং ছোটবড় নুড়ি দিয়ে ডাঙ্গা খোয়াই ছেয়েফেলা হয়।
সৈয়দ মুজতবা আলীর অসাধারণ গল্প বলার শক্তি। তাঁর অপরিসীম বর্ণনা দক্ষতায় আফগানিস্তান ভ্রমণের ঘটনা জীবন্ত হয়ে উঠেছে । বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে যাত্রীদের খাইবারপাস গিরিসংকট অতিক্রম করতে হয়।
