ব্রিন্দিসি কোথায় অবস্থিত? এ শহরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
ব্রিন্দিসি কোথায় অবস্থিত? এ শহরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।।
ব্রিন্দিসি কোথায় অবস্থিত? এ শহরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তর : ব্রিন্দিসি ইটালির একটি শহর। চার-পাঁচ দিনে লেখক ও তাঁর সহযাত্রীরা ইটালিতে গিয়ে পৌঁছলেন। তখন রাত একটা-দুটা হবে। গরম বিছানা ত্যাগ করে জিনিসপত্র নিয়ে তাঁরা জাহাজের ছাদে গিয়ে উঠলেন। জ্যোৎস্নারাত্রি, খুব শীত; লেখকের গায়ে কোন গরম কাপড় ছিল না, তাই ভারি শীত করছিল। তাঁদের সামনে নিস্তব্ধ শহর, বাড়িগুলোর জানালা-দরজা সমস্ত বন্ধ সমস্ত নিদ্রামগ্ন।
ছোটখাটো শহর যেমন হয়ে থাকে ব্রিন্দিসিও তাই। কতকগুলো কোঠাবাড়ি, দোকানবাজার, রাস্তাঘাট আছে। ভিক্ষুকেরা ভিক্ষা করে ফিরছে, দু-চার জন লোক মদের দোকানে বসে গল্পগুজব করছে, দু-চার জন রাস্তার কোণে দাঁড়িয়ে হাসিতামাশা করছে; লোকজনেরা অতি নিশ্চন্তমুখে গজেন্দ্রগমনে গমন করছে; যেন কারও কোন কাজ নেই, কারও কোনো ভাবনা নেই যেন শহরসুদ্ধ ছুটি। রাস্তার পাড়িঘোড়ার সমারোহ নেই, লোকজনের সমাগম নেই। অপরিচিত লোকের কাছ থেকে দু টাকা আয় করে নেয়ার বাসনা শহুরে ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এ শহরেও এমন লোকের দেখা লেখকের বর্ণনায় পাই :মেলে।
“আমরা খানিক দূর যেতেই একজন ছোকরা আমাদের গাড়ি থামিয়ে হাতে একটা তরমুজ নিয়ে গাড়োয়ানের পাশে গিয়ে বসল। ব মহাশয় বললেন, “বিনা আয়াসে এর কিছু রোজগার করবার বাসনা আছে।” লোকটা এসে হাত বাড়িয়ে মাঝে মাঝে আমাদের দেখিয়ে দিতে লাগল, “ঐটে চার্চ, ঐটে বাগান, এঁটে মাঠ” ইত্যাদি।
তার কথায় তাঁদের কিছুমাত্র জ্ঞানবৃদ্ধি হয় নি, আর তার টাকা না হলেও যাত্রীদের কিছুমাত্র জ্ঞানের ব্যাঘাত হতো না। তাকে কেউ গাড়িতে উঠতে বলে নি, কেউ তাকে কোনো বিষয় জিজ্ঞাসাও করে নি, কিন্তু তবু এ অযাচিত অনুগ্রহের জন্য তার অভিপ্রায় পূর্ণ করতে হলো। এ স্বেচ্ছা গাইড যাত্রীদের একটা ফলের বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে নানাপ্রকার ফলের গাছ।
চারদিকে থোকা থোকা আঙুর ফল রয়েছে। দু-রকম আঙুর আছে, কালো আর সাদা। তার মধ্যে কালোগুলোই বেশি মিষ্টি। বড় বড় আপেল পিচ প্রভৃতি অনেক প্রকার ফল ধরে আছে। একজন বুড়ি কতকগুলো ফলফুল নিয়ে উপস্থিত হলো। তাঁরা সেদিকে নজর না করলেও ফল বিক্রয়ের উপায় সে ঠিকই জানে। ইতস্তত ঘুরে বেড়ানোর সময় একটি সুন্দরী মেয়ে কতকগুলো ফল আর ফুলের তোড়া নিয়ে আমাদের সম্মুখে হাজির হলো, তখন আর কারো অগ্রাহ্য করবার সাধ্য রইল না। ব্রিন্দিসি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে সুখকরই ছিল। ব্রিদিসির মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা লেখককে মুগ্ধ করেছিল। মা পথের দু'ধারের মনোরম দৃশ্যের