চর্যাপদের পুথি নেপালের রাজদরবারে পাওয়ার কারণ কী
চর্যাপদের পুথি নেপালের রাজদরবারে পাওয়ার কারণ কী
![]() |
| চর্যাপদের পুথি নেপালের রাজদরবারে পাওয়ার কারণ কী |
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হলো চর্যাপদ। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরানো বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থ প্রকাশ করে । এখন প্রশ্ন হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনটি কেন নেপাল থেকে আবিষ্কৃত হলো এর ঐতিহাসিক কারণ বিদ্যমান ।
পালদের পূর্বে গুপ্ত সম্রাটদের শাসনকালে দেশে সাহিত্যচর্চা চলে মূলত সংস্কৃত ভাষায়। পরবর্তীতে পাল রাজাগণ যখন বাংলার শাসনক্ষমতা লাভ করেন তখন থেকেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার নিদর্শন মেলে। পাল শাসনকালের শেষভাগে, রাজ্যে নানারকম বিশৃঙ্খলা, আত্মকলহ এবং যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দুর্বল পাল রাজাদের পরাস্ত করে সেনরা রাজক্ষমতায় আরোহণ করে।
সেনরা সংস্কৃত ভাষাকে রাজভাষা হিসেবে চালু করে। অন্য কোনো ভাষাচর্চার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পাল শাসনামলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার যে সূত্রপাত হয়েছিল সেন আমলে পরিচর্যার অভাবে অঙ্কুরে তার বিলুপ্তি ঘটে। দীর্ঘদিন পালরা তাদের হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম করে ৷ কন্তু হেরে যাওয়ার ফলে তাদের উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন।
শেষ পর্যন্ত পালরা তাদের প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে নেপাল, তিব্বত প্রভৃতি প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। ফলে তাদের সাথে বাংলা ভাষায় রচিত গ্রন্থগুলোও বাংলার বাইরে চলে যায়। চর্যাপদের পুথি নেপাল রাজদরবারে পাওয়া তার বড়ো প্রমাণ ।
