শেষ প্রস্তুতির জন্য ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর গাইড

শেষ প্রস্তুতির জন্য ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর গাইড
শেষ প্রস্তুতির জন্য ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর গাইড

শেষ প্রস্তুতির জন্য ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর গাইড

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক আপনদের জন্য আজকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর সহ নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেল টি তোমাদের শেষ প্রস্তুতির জন্য ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর গুলো আনেক উপকারি করবেন।

 প্রশ্ন-১। কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশকে দাস বংশ বলা হয় কেন?

উত্তর : মুহাম্মদ ঘুরির মৃত্যুর পর ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের গোড়াপত্তন করেন। 

তিনি ছিলেন তুর্কি এবং এই তুর্কিদের রাজত্ব চলে ১২৯০ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত। এই সময়কালের উল্লেখযোগ্য তিনজন সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক, ইলতুৎমিশ ও গিয়াসউদ্দিন বলবন প্রথম জীবনে ক্রীতদাস ছিলেন বলে তাদের শাসনকালকে দাস বংশ বা মামলুক বংশ বলা হয়। 

উল্লেখিত সুলতানত্রয় প্রথম জীবনে দাস থাকলেও ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে তারা প্রত্যেকেই দাসত্বমুক্ত হয়েছিলেন। তাছাড়া এ সময়ের শাসকরা সবাই একই বংশের বা গোত্রের ছিলেন না, তাই এই যুগকে দাস বংশ বা মামলুক বংশের যুগ বলার যৌক্তিকতা নেই।

প্রশ্ন-২। 'কুতুবউদ্দিন আইবেক ধর্মান্ধ ছিলেন না'- ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : কুতুবউদ্দিন আইবেক একজন খাঁটি মুসলমান ছিলেন এবং ধর্ম প্রচারে তার অদম্য উৎসাহ ছিল। তবে তিনি ধর্মান্ধ ছিলেন না। আলেম-উলামা ও মুসলিম বিদ্বান ব্যক্তিদের তিনি যেমন সম্মান করতেন, তেমনি তিনি হিন্দুদের প্রতিও ছিলেন সদাশয়। 

ড. ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, 'যদিও কুতুবউদ্দিন আইবেক ধর্মের পথে একজন বড় যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধের সময় অগণিত লোককে দাস হিসেবে বন্দি করেছিলেন, তবুও তিনি তাদের প্রতি উদার ব্যবহার করতেন। বহু হিন্দুকে তিনি সামরিক বাহিনী ও রাজস্ব বিভাগে নিযুক্ত করেন।

' প্রশ্ন-৩। ইলতুৎমিশ দিল্লির সিংহাসন লাভ করেন কীভাবে?

উত্তর : ইলতুৎমিশ ছিলেন সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের ক্রীতদাস। তিনি স্বীয় যোগ্যতা ও গুণাবলির দ্বারা কুতুবউদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন এবং প্রথমে দেহরক্ষী, পরে ক্রমান্বয়ে আমির-ই- শিকার ও বদাউনের শাসনকর্তা পদে উন্নীত হন। 

তার গুণাবলির কারণে আইবেক তার কন্যার সাথে তার বিবাহ দেন এবং খোকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযানকালে তার বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে দাসমুক্ত করে তাকে আমির-উল-উমারার মর্যাদা দান করেন । 

কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর পর আরাম শাহ সিংহাসনে আরোহণ করার পর আমির ও মালিকগণ তার অকর্মণ্যতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে ইলতুৎমিশকে ক্ষমতা গ্রহণের অনুরোধ করেন। ইলতুৎমিশ এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১২১১ খ্রিষ্টাব্দে আরাম শাহকে বিতাড়িত করে দিল্লির সিংহাসনে উপবিষ্ট হন।

প্রশ্ন-৪ । গিয়াসউদ্দিন বলবন চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা বিলোপ করেন কীভাবে?

উত্তর : সুলতান ইলতুৎমিশ কর্তৃক গঠিত চল্লিশ চক্র তার মৃত্যুর পর পরবর্তী শাসকদের আমলে সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে। 

গিয়াসউদ্দিন বলবন তাদের ক্ষমতা খর্ব, করার উদ্দেশ্যে তাদের বিশেষ সুবিধা বাতিল করেন। রাজদরবারে অবাধে যাতায়াত ও হাসিঠাট্টার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। 

জনগণের মন থেকে চল্লিশ গোষ্ঠীর প্রভাব দূর করার জন্য তিনি সামান্য অপরাধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। তাদের জায়গিরদারিও বাতিল করে দেন। এভাবে বলবন চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা বিলোপ করেন।

প্রশ্ন-৫। মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আলাউদ্দিন খলজি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন?

উত্তর : মোঙ্গলদের উপর্যুপরি আক্রমণ ও দিল্লি দখলের চেষ্টাকে চিরতরে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আলাউদ্দিন খলজি সকল পুরাতন দুর্গ সংস্কার ও নতুন দুর্গ স্থাপন করেন। তিনি একটি সুসজ্জিত ও অভিজ্ঞ সেনাদল গঠন করেন এবং অনেক অস্ত্র কারখানা নির্মাণ করেন । 

সামানা, মুলতান ও দিপালপুরে শক্তিশালী সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। গাজি মালিক ও অন্য সুদক্ষ কর্মচারীদের উপর সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেন। 

আলাউদ্দিন খলজির এরূপ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে মোঙ্গল আক্রমণের তীব্রতা কমে যায় এবং তারা উৎসাহহীন হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন-৬। আলাউদ্দিনের সার্বভৌমত্বের ধারণা- ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : আলাউদ্দিন খলজি রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে একচ্ছত্র স্বৈরতন্ত্র ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় বিশ্বাস করতেন। প্রজাদের থেকে সুলতানের ক্ষমতা অনেক ঊর্ধ্বে বলেও তিনি মনে করতেন। তার মতে, Kingship knows no Kinship. তার শাসন পদ্ধতির মূলকথা ছিল সুলতানের প্রাধান্য সর্বময় করে তোলা। 

ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই-এর ন্যায় তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমিই রাষ্ট্র' (I am the state)। এভাবে তিনি একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। স্বীয় রাজনৈতিক বিবেচনা দ্বারা তিনি শাসকার্য পরিচালনা করতেন এবং শাসনকাজে কাজি বা উলামাদের প্রভাব তিনি পছন্দ করতেন না ।

প্রশ্ন-৭। ফিরোজশাহ তুঘলকের শাসনব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার ঘটে কীভাবে?

উত্তর : ফিরোজশাহ তুঘলক পূর্ববর্তী সুলতানদের আমলে দুর্ভিক্ষের সময় যে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তা মওকুফ করেন এবং কুরআনের | নির্দেশ অনুযায়ী চার প্রকারের কর ধার্য করেন, যথা– জাকাত, জিজিয়া, খারাজ, খুমস্। 

সকল প্রকার অবৈধ কর তিনি রহিত করেন। ফতুহাত- ই-ফিরোজশাহির মতে, তিনি তেইশ প্রকারের কর বিলুপ্ত করেন। 

ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য নানা প্রান্তিক কর রহিত করেন এবং আন্তঃপ্রাদেশিক শুল্ক উঠিয়ে দেন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল বিস্তার ঘটে এবং জনগণের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসে।

প্রশ্ন-৮। দিল্লি সালতানাতের সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দুর্বলতার সৃষ্টি হয় কেন ?

উত্তর : সুলতানি শাসন সামন্তপ্রথা অনুসরণ করে চলত। যার কারণে কেন্দ্রীয় শাসনে দুর্বলতা দেখা দিলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ স্বাধীন হয়ে পড়ত। ফলে সুলতানদের বিদ্রোহ দমনেই সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হতো । 

রাজ কর্মচারীবর্গ, সামরিক নেতৃবর্গ ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণের ক্ষমতালিপ্সা ও স্বার্থপরতা এবং কেন্দ্রীয় শাসনের প্রতি অখণ্ড আনুগত্যের অভাবে সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দুর্বলতার সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন-৯। বাহুলুল লোদি মসনদ-ই-আলা উপাধি লাভ করেন কীভাবে?

উত্তর : বাহলুল লোদি ১৪৫১ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে বসেন এবং নিজ নামে খুতবা পাঠ করেন। রাজ্য জয় অপেক্ষা রাজ্য' পুনর্গঠনের প্রতি তিনি বেশি উৎসাহী ছিলেন। 

নিজের শক্তি বাড়ানোর জন্য তিনি আফগান সেনাপতি ও অভিজাতদের বহু জায়গির প্রদান করেন এবং তাদের আনুগত্য লাভের জন্য তারিখ-ই-দাউদির বিবরণ অনুসারে দিল্লিতে একটি সুশোভিত মঞ্চ তৈরি করেন। এই মঞ্চেই বাহলুল লোদি মসনদ-ই-আলা উপাধি লাভ করেন ।

প্রশ্ন-১০। বলবনের 'চল্লিশের ক্ষমতা ধ্বংস' সমালোচিত হয় কেন?

উত্তর : ইলতুৎমিশ যে দাসগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন তাতে যোগ্য ব্যক্তির সিংহাসন লাভের পথ উন্মুক্ত ছিল। যে চল্লিশের কাঁধে ভর করে বলবন সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, সে চল্লিশের ক্ষমতা ধ্বংস করে তিনি মামলুক শাসন পদ্ধতির অবসান ঘটিয়েছিলেন।

 কিন্তু তিনি কোনো বিকল্প শাসন পদ্ধতি গড়ে তোলেননি। তিনি অনুধাবন করতে পারেননি যে, ভারতবর্ষে তুর্কিদের বংশগত প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখার দিন শেষ হয়ে এসেছে। এ কারণেই তার 'চল্লিশের ক্ষমতা ধ্বংস' সমালোচিত হয়।

প্রশ্ন-১১। বিজেতা আলাউদ্দিনের পরিচয় দাও ।

উত্তর : আলাউদ্দিন খলজি একজন বিজেতা হিসেবে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ।

কারণ আলাউদ্দিন খলজি প্রায় ১৭ বার মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করে দেশকে রক্ষা করেছেন এবং তার সামরিক দক্ষতায় ভীত হয়ে, পরে কখনো মোঙ্গলরা আর ভারত আক্রমণ করেনি। 

মোঙ্গল হামলা প্রতিহত করে তিনি রণথম্বোর এবং চিতোরের রাজপুতদের আধিপত্যকে খর্ব করেন এবং একই সাথে তিনি তার সুযোগ্য সেনাপতি মালিক কাফুরের নেতৃত্বে দাক্ষিণাত্যের গুজরাট, দেবগিরি, দ্বার সমুদ্র, মারুদা ও করমণ্ডল অধিকার করে উত্তর ভারতের সাথে দাক্ষিণাত্যের সংযুক্তিসাধন করেন। 

অসীম সাহস ও সামরিক শক্তি দ্বারা তিনি সিন্ধু নদ থেকে করমণ্ডল পর্যন্ত এক বিশাল এলাকায় মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। 

তার বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য মধ্যযুগের মুসলিম ভারতের ইতিহাসে তিনি একজন পরাক্রমশালী যোদ্ধা এবং শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।

প্রশ্ন-১২। কুতুবউদ্দিন আইবেককে 'লাখবকস' বলা হতো কেন?

উত্তর : কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন একজন মহানুভব দানশীল সুলতান। তার বদান্যতা কিংবদন্তির পর্যায়ভুক্ত ছিল। প্রতিদিন তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা দান করতেন বলে তাকে 'লাখবকস' বা লক্ষ টাকা দানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। 

বদান্যতায় তিনি ছিলেন দ্বিতীয় হাতেম তাঈ। স্মিথের ভাষায়, 'তার তেজস্বিতা এবং সহকর্মীদের প্রতি তার অফুরন্ত দান বৈরী মনোভাবাপন্ন ঐতিহাসিকদের এরূপ আকর্ষণ করে যে, তারা তাকে মহানুভব ও বিজয়ী নৃপতি হিসেবে প্রশংসা না করে পারেননি।'

প্রশ্ন-১৩। আরাম শাহের পরিচয় দাও।

উত্তর : সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের আকস্মিক মৃত্যু হলে লাহোরের আমির ও মালিকরা আরাম বখসকে আরাম শাহ উপাধি দিয়ে দিল্লির সিংহাসনে বসান। 

কোনো কোনো সূত্রমতে, আরাম শাহ কুতুবউদ্দিন আইবেকের পালিত পুত্র ছিলেন। ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাকে আইবেকের ভাই বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু আধুনিক ঐতিহাসিকদের

মতে, তিনি আইবেকের কোনো আত্মীয়ই ছিলেন না। যা হোক, রাজ্য পরিচালনায় অদক্ষতা ও অযোগ্যতার ফলে দিল্লির আমির-ওমরাহগণ কুতুবউদ্দিন আইবেকের জামাতা বদাউনের শাসনকর্তা ইলতুৎমিশকে ক্ষমতা গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। ইলতুৎমিশ তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জুদ প্রান্তরে আরাম শাহকে পরাজিত করে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

প্রশ্ন-১৪ । শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশকে তার ভাইয়েরা বিক্রি করে দেয় কেন?

উত্তর : শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ তুর্কিস্তানের ইলবারিতুর্কি বংশোদ্ভূত ছিলেন। অত্যন্ত অভিজাত পরিবারে তার জন্ম। তরুণ বয়সেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন। তার বুদ্ধিমত্তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভাইয়েরা তাকে বোখারার কাজির নিকট বিক্রি করে দেয়।

প্রশ্ন-১৫। ইলতুৎমিশ বাংলার বিদ্রোহ দমন করেন কীভাবে?

উত্তর : বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর খলজি মালিকরা দিল্লির আনুগত্য অস্বীকার করে নিজেদের নামে মুদ্রা প্রচলন ও খুতবা পাঠ শুরু করেন। 

১২২৫ খ্রিষ্টাব্দে ইলতুৎমিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযান করলে তারা আত্মসমর্পণে বাধ্য হন; কিন্তু ইলতুৎমিশের প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথেই “তারা পুনরায় বিদ্রোহ করেন। 

এবার ইলতুৎমিশ তার পুত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে যুদ্ধাভিযান চালালে বাংলার শাসনকর্তা গিয়াসউদ্দিন পরাজিত হন। এর পরও বাংলায় বিদ্রোহ চলতে থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত ১২৩০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এ বিদ্রোহ চূড়ান্তভাবে দমন করা হয়।

প্রশ্ন-১৬। সুলতান ইলতুৎমিশের উত্তরাধিকার প্রশ্নে জটিলতা দেখা দেয় কেন?

উত্তর : ইলতুৎমিশের সুযোগ্য জ্যেষ্ঠপুত্রনাসিরউদ্দিন মাহমুদ পূর্বেই পরলোকগমন করেছিলেন। দ্বিতীয় পুত্র রুকনউদ্দিন ফিরোজ ছিলেন অকর্মণ্য ও সিংহাসনের জন্য অযোগ্য। 

তাই ইলতুৎমিশের মৃত্যুশয্যায় তার সুযোগ্য কন্যা সুলতান রাজিয়াকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। 

তারা ইলতুৎমিশের মনোনয়নকে অগ্রাহ্য করে রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে বসান। কিন্তু তার কুশাসনে অল্প দিনের মধ্যে সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সুলতানের উচ্চাভিলাষী মাতা শাহ তুরকান শাসনক্ষমতা হস্তগত করেন। কিন্তু তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। এভাবেই ইলতুৎমিশের উত্তরাধিকার প্রশ্নে জটিলতা দেখা দেয়।

প্রশ্ন-১৭। সুলতান রাজিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয় কীভাবে?

উত্তর : সুলতান রাজিয়া সিংহাসনে আরোহণের পরপরই নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। তিনি পর্দাপ্রথা বর্জন করে পুরুষের পোশাক পরে দরবার পরিচালনা করতেন বলে অনেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। 

জালালউদ্দিন ইয়াকুত নামের একজন হাবসী অনুচরের প্রতি তিনি বিশেষ অনুগ্রহ প্রকাশ করলে তুর্কিগণ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। 

অন্যদিকে তুর্কি আমিররা আমির-ই-হাজিব আইডিগিনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়। গোঁড়া আলেমরাও রাজিয়ার পর্দা বর্জন করে দরবার পরিচালনার বিরোধিতা করেন।

প্রশ্ন-১৮। দিল্লি দরবার খলজি ও তুর্কি দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে কেন?

উত্তর : বুঘরা খানের পুত্র কায়কোবাদ ১৭ বছর বয়সেদিল্লির সিংহাসন লাভ করে আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত হয়ে পড়েন। তিনি মদ ও নারীতে এতই আসক্ত ছিলেন যে, শাসনকার্যে মনোযোগ দিতে পারতেন না। এ অবস্থায় দিল্লির কোতোয়াল ফখরুদ্দিনের হাতে শাসনভার ন্যস্ত করে। 

তিনি বিলাসিতায় মগ্ন থাকেন। কিন্তু ফখরুদ্দিনের বার্ধক্যের সুযোগে তার জামাতা নিজামুদ্দিন সমুদয় ক্ষমতা হস্তগত করেন এবং সিংহাসন লাভের উচ্চাশা পোষণ করেন। ফলে বুঘরা খানের পরামর্শে নিজামউদ্দিনকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। 

অন্যদিকে অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে কায়কোবাদও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং দিল্লি দরবার খলজি ও তুর্কি দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন-১৯। জালালউদ্দিনের মৃত্যু মর্মান্তিক কেন?

উত্তর : জালালউদ্দিন খলজি ১২৯০ খ্রিষ্টাব্দে রণথম্ভোর দুর্গ অভিযান করেও বহু প্রাণহানির আশঙ্কায় তা তুলে নেন। তবে সুলতানের ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা এবং কারা প্রদেশের শাসনকর্তা আলাউদ্দিন খলজি সুলতানের অনুমতি নিয়ে ১২৯২ খ্রিষ্টাব্দে কৃতকার্যতার সাথে ভিলসা অধিকার করেন এবং দেবগিরির দিকে অগ্রসর হন। 

বেরার ও খান্দেশ অতিক্রম করে তিনি দেবগিরির রাজা রামচন্দ্রকে আক্রমণ করেন। রাজা পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য হন। 

এর ফলে দাক্ষিণাত্যে মুসলিম বিজয়ের পথ সুগম হয়। ভ্রাতুষ্পুত্রের এই সাফল্যে উৎফুর সুলতান তাকে অভিনন্দিত করতে গিয়ে তাকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় বিশ্বাসঘাতকদের হাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।

প্রশ্ন-২০। আলাউদ্দিন খলজি দিল্লির সিংহাসনারোহণ করেন কীভাবে? 

উত্তর : দেবগিরিতে আলাউদ্দিন সাফল্যজনক অভিযান পরিচালনা করেন। এতে সন্তুষ্ট হয়ে সুলতান জালালউদ্দিন খলজি তাকে অভিনন্দিত করার জন্য কারায় উপস্থিত হন। 

ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা আলাউদ্দিনকে আলিঙ্গন করার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আলাউদ্দিনের অনুচররা সুলতানকে হত্যা করে। অতঃপর আলাউদ্দিন খলজি ১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে নিজেকে দিল্লির সুলতান হিসেবে ঘোষণা দেন।

প্রশ্ন-২১। আলাউদ্দিন খলজি নতুন ধর্মমত প্রবর্তনের পরিকল্পনা বাদ দেন কেন?

উত্তর : সুলতান আলাউদ্দিন খলজি একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সুলতান মনে করেন, আল্লাহর প্রেরিত রাসুল যদি চারজন খলিফার সাহায্যে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে পারেন, তবে তিনিও তার চারজন মন্ত্রী উলুঘ খান, জাফর খান, নসরত খান ও আলপ খানের সাহায্যে এক নতুন ধর্ম প্রবর্তন করতে পারবেন। 

এ  বিষয়ে কোতোয়াল আলাউল মূলকের পরামর্শ চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আল্লাহর প্রেরিত নবী ও ঐশী কিতাব ছাড়া ধর্ম প্রবর্তন সম্ভব নয়। 

চেঙ্গিস খান রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েও মুসলমানদের মধ্যে মোঙ্গল धर्म প্রচার করতে পারেননি।' এ বক্তব্যের পর সুলতান নতুন প্রবর্তনের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন।

প্রশ্ন-২২। আলাউদ্দিন খলজি শ্রেষ্ঠ সংগঠক ও পরিচালকের মর্যাদা পান কীভাবে?

উত্তর : আলাউদ্দিন খলজি তার শাসননীতির মধ্যে এমন যোগ্যতা | অন্তর্দৃষ্টি আনয়ন করেন, যা সচরাচর একজন সমরকুশলীর মধ্যে দেখা যায় না। 

তিনি তার সরকারের রাজনৈতিক হিতাহিতের ব্যাপারে আলেমদের পরামর্শ উপেক্ষা করেন। তার শাসনকার্যের প্রভাব ইচ্ছেমতো দেশ শাসনের জন্য আবিষ্কৃত হলেও তার বিভিন্ন মহৎ পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রকাশ পায়। 

নতুন সেনাদল গঠন, মূল্য নিয় রেশনিং ব্যবস্থা, অশ্ব চিহ্নিতকরণ, ব্যবসায়ীদের নাম রেজিস্ট্রি এরূপ নতুন নতুন প্রথার জন্য আলাউদ্দিন খলজি একজন শ্রেষ্ঠ সংগঠক ও পরিচালকের মর্যাদা পান।

প্রশ্ন-২৩। দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় কেন?

উত্তর : দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ছিল দাক্ষিণাত্যের হিন্দুদের বিদ্রোহাত্মক মনোভাব লক্ষ করে তাদের উপর আধিপত্য ও কর্তৃত্ব বজায় রাখা। দিল্লি থেকে সীমান্ত নিকটবর্তী হওয়ায় সদা-সর্বদা মোঙ্গল আক্রমণের আশঙ্কা ছিল। 

এই আশঙ্কা দূর করার জন্য এবং রাজধানী নিরাপদ রাখার জন্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেবগিরিই ছিল উপযুক্ত স্থান। দাক্ষিণাত্যের প্রাচুর্য ও সম্পদের অধিকতর সদ্ব্যবহারের জন্য দেবগিরিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উপস্থিতি সমীচীন হবে মনে করে দাক্ষিণাত্যে রাজধানী স্থানান্তর করেন। 

ইবনে বক্তৃতা বলেন, দিল্লির জনগণ সুলতানকে একটি অপমানকর পত্র লেখেন, এর ফলে তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তিনি রাজধানী দেবগিরিতে স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-২৪। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় কেন?

উত্তর : বিভিন্ন কারণে 'সুলতানের রাজধানী স্থানান্তরের পকিল্পনা ব্যর্থ হয়, যেমন- 

১। দিল্লির জনগণ নতুন পরিবেশে ও দেবগিরির আবহাওয়ার সাথে খাপখাওয়াতে পারেনি ।

২। দিল্লির মুসলমানদের হিন্দু-অধ্যুষিত দেবগিরিতে বসবাসে অসম্মতি। 

৩। মোঙ্গল আক্রমণের আশঙ্কায় উত্তর ভারতে সুলতানের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা এবং এ অঞ্চলের উপর সুলতানের আধিপত্যের শিথিলতা ইত্যাদি কারণে তার এ পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

প্রশ্ন ২৫। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি করেন কেন?

উত্তর : সুলতান ক্ষমতালাভের পর রাজস্ব বিভাগের কিছু সংস্কার করেন। দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি ছিল তারই অংশবিশেষ। 

গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চলে কর বৃদ্ধি করার পেছনে সুলতানের উদ্দেশ্য ছিল সে অঞ্চলের বিদ্রোহী প্রজাদের শাস্তি প্রদান করা। হেগের মতে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও শাসনব্যবস্থাকে কার্যক্ষম করার উদ্দেশ্যে দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি করা হয়। 

এ ছাড়া রাজধানী স্থানান্তর, খোরাসান ও কারাচিল অভিযান এবং মুদ্রা প্রবর্তনের ফলে রাজকোষ অর্থশূন্য হয়ে পড়লে তিনি দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি করেন।

প্রশ্ন-২৬। মুহাম্মদ বিন তুলঘক তাম্রমুদ্রা প্রবর্তন করেন কেন?

উত্তর : মুহাম্মদ বিন তুঘলকের তাম্রমুদ্রা প্রবর্তনের কারণ হলো— 

১। নতুনত্বের আনন্দ উপভোগের জন্য তিনি তাম্রমুদ্রা প্রবর্তন করেন। ২। বারানীর মতে, সুলতানের মুক্তহস্তে দান, খোরাসান জয়ের পরিকল্পনার দরুন রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়লে শূন্য রাজকোষ পূর্ণ করার জন্য তিনি এই পকিল্পনা গ্রহণ করেন।

৩। গার্ডনার ব্রাউনের মতে, বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দুষ্প্রাপ্যতার দরুন তিনি এর বিকল্প হিসেবে তাম্রমুদ্রা প্রবর্তন করেন।

৪ । ইতিপূর্বে চীনে কুবলাই খান কাগজের নোট এবং পারস্যে গাইকাতু খান প্রতীক মুদ্রা প্রচলন করেন। মুহাম্মদও তদ্রূপ মুদ্রা চালু করেন। মোট কথা, সোনা ও রূপার সরবরাহ কম থাকায় তিনি এর বিকল্প হিসেবে তামার মুদ্রা প্রচলন করেন।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ