খুজে না পেলে সার্চ করো

সুরা আনফাল অবতীর্ণের কারণ বর্ণনা কর

সুরা আনফাল অবতীর্ণের কারণ বর্ণনা কর
সুরা আনফাল অবতীর্ণের কারণ বর্ণনা কর

উত্তর: ভূমিকা : رة الانقالِল (সূরাতুল আনফাল) মহাগ্রন্থ আল কুরআনের অষ্টম সূরা, যা মদিনায় অবতীর্ণ। এ সূরাটিতে মোট ৭৫টি আয়াত রয়েছে। যা বিভিন্ন কারণ, ঘটনা ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছে। তাই يَسْتَلُوْنَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَنْفَ আয়াতটি নাজিলেরও কয়েটি কারণ রয়েছে।

يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَلْقَالِ আয়াতের শানে নুযুল : يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ এ আয়াতটি নাজিলের কয়েকটি কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে, কতিপয় কারণ নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, বদর যুদ্ধের দিন রাসূল (সা.) ঘোষণা করলেন-مَنْ قَتِيل قتلا فَلَهُ كَذَا وَكَذَا وَمَنْ أَسر اسِيرًا فَلَهُ كَذَا وَكَذَا -অর্থাৎ "যে ব্যক্তি কোনো কাফিরকে হত্যা করতে পারবে, তার জন্য রয়েছে এই পুরস্কার। আর যে ব্যক্তি কোনো কাফরিকে বন্দী করতে পারবে, তার জন্যও রয়েছে এই এই পুরস্কার।"

এ ঘোষণার পরপরই কতিপয় যুবক কাফিরদের পশ্চাদ্ধাবন করে তাদেরকে হত্যা করে এবং গণিমতের মাল সংগ্রহের জন্য দ্রুত অগ্রসর হয়। কিন্তু বৃদ্ধরা পতাকাতলে অনড় অবস্থায় রইলেন। 

পরে তারা যুবকদেরকে বলল, আমাদেরকেও গণিমতের মালের অংশীদার কর। কারণ আমরা পিছনে তোমাদের আশ্রয় হিসেবে ছিলাম। কিন্তু তারা রাজি না হয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাসূল (সা.)-এর কাছে পেশ করলেন।

এ সময় আবু ইয়াসার নামক একজন মুজাহিদ দুজন কয়েদি নিয়ে রাসূল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের সাথে এ ওয়াদা করেছেন যে, যে ব্যক্তি কাফির থেকে কোনো মাল ছিনিয়ে আনবে, সে মাল তারই; অতএব এ মাল আমাদেরই।

তখন সা'দ ইববে মু'আয (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো তাদেরকেই সব মাল দিয়ে দিলেন, আপনার অন্যান্য সাহাবিদের জন্য তো কিছুই অবশিষ্ট রইলো না। তারা শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করে যে কাজের আঞ্জাম দিয়েছে, তা থেকে আমাদের বিরত থাকার কারণ হল আপনার সুরক্ষা। 

আমরা আপনাকে একাকী বিপদের মুখে ছেড়ে যেতে চাইনি। আপনার উপর পেছন থেকে শত্রুর আক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল ছিল। এভাবে পরস্পর কথোপকথন শু يَسْلُونكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَلْفَالُ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

২. হযরত উবাদা ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, "আমি বদরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে শরীক হয়েছিলাম। আল্লাহ শত্রুদেরকে পরাজিত করলেন। এখন একটি দল শত্রুদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং পলাতকদের হত্যা করল। আর একদল শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদেরকে পরিবেষ্টন করল। 

আর একটি দল নবি করীম (সা.)-কে ঘিরে রেখে তাঁর হিফাযত করতে থাকলো, যেন শত্রুরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে না পারে। যুদ্ধ শেষে রাসূল (সা.) গণিমতের মাল বণ্টন শুরু করলে, মাল সংগ্রহকারী দল বলল, 'এর হকদার আমরাই।"

যারা শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করেছিল, তারা বলল, "শত্রুকে পরাজিত করার কারণ আমরাই। কাজেই এর হকদার শুধু আমরাই।" আর যারা রাসূল (সা.)-এর রক্ষণাবেক্ষণ করছিল, তারা বলল, "আমাদের এই আশঙ্কা ছিল যে, না জানি রাসূললুল্লাহ (সা.) কোন বিপদে পতিত হন। সুতরাং আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ছিলাম। আর তখনই يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَلْقَالِ قُلِ الْأَلْقَالُ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, মূলত বদর যুদ্ধের পর গণিমতের মালের বণ্টন নিয়ে মুমিনদের মাঝে মতবিরোধ শুরু হলে, তা সমাধানকল্পে আল্লাহ আল্লাহ সূরা আনফালের উল্লিখিত আয়াত নাজিল করেন এবং গণিমতের মালের উপর রাসুল (সা.)-এর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ