আমি সত্যিকারের প্রাণ থেকে যতুটুক সাড়া পাই রবীন্দ্র, অরবিন্দ বা গান্ধীর বাণীর আহ্বান ঠিক ততটুকু মানবো।'- কে, কেন এমন বলেছেন?
আমি সত্যিকারের প্রাণ থেকে যতুটুক সাড়া পাই রবীন্দ্র, অরবিন্দ বা গান্ধীর বাণীর আহ্বান ঠিক ততটুকু মানবো।'- কে, কেন এমন বলেছেন?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক এমন বলেছে । মূলত মন থেকে কোনো কিছু সাড়া না দিলে কোনো কিছু মানা উচিত নয়- কিংবা মনে যতটুকু সাড়া দেয় ততটুকু মানার কথা বলা হয়েছে প্রদত্ত উক্তিতে।
প্রাবন্ধিক তাঁর এ প্রবন্ধে কোনো কিছু অন্ধভাবে অনুসরণ করার বিপক্ষে তিনি যদি মহামানবও হন- তাহলে অন্ধভাবে সমর্থন করা উচিত নয় বলে মনে করেন। প্রাবন্ধিক মতে প্রাণে যতটুকু সাড়া দেবে বা মন থেকে যতটুকু সমর্থন পাওয়া যাবে। ততটুকুই মানা উচিত।
অন্যের প্রশংসা লাভের জন্য- যদি বলা হয় আমি অমুকের ভক্ত; তাহলে হয়তো অন্যের নিকট থেকে ক্ষণিকের বাহবা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার মন তাকে স্বস্তি দেবে না। অন্যকে ফাঁকি দিয়ে প্রশংসা লাভ করার অর্থই নিজের অন্তরদেবতাকে ফাঁকি দেওয়া এবং অন্তরে পীড়ি বয়ে বেড়ানো।
অন্যের মতামত ঠিক না বুঝে বলার দরকার পড়ে না যে, 'আমি গান্ধী ভক্ত' বা 'আমি রবীন্দ্র ভক্ত। মূল কথা কারো মতামত নিজের মনের মতো না হলে সরাসরি বলা উচিত- এটা আমি বুঝি না বা আমি দ্বিমত আছে। এ বিষয়টি প্রাবন্ধিক 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে অত্যন্ত সচেতনভাবেই লিখেছেন।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, অন্যের মতো ঠিকভাবে না বুঝে তাকে সমর্থন করা উচিত নয়; বরং যতুটুক বুঝা যায় ততটুকুই সমর্থন করা উচিত।
.png)