দেশ উদ্ধারের জন্য যারা সৈনিক হতে চায় তাদের জন্য প্রাবন্ধিকের পরামর্শ কী?
দেশ উদ্ধারের জন্য যারা সৈনিক হতে চায় তাদের জন্য প্রাবন্ধিকের পরামর্শ কী?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সত্যিকারের দেশদরদি হওয়ার জন্য সৈনিকের যে যে বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত তা উল্লেখ করেছেন।
'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সৈনিকের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব প্রদান করেছেন। প্রাবন্ধিক স্পষ্ট করে বলেছেন অন্যের বাহবা লাভের লোভ সৈনিকদের সর্বাগ্রে হয়ে ত্যাগ করা উচিত। আর এই লোভটুকু জয় না করতে পারলে একজন সৈনিকও তার কর্মক্ষেত্রে জয়লাভ করতে পারবে না।
তাছাড়া প্রাবন্ধিক মনে করেন, এখন দেশে সেই সেবকের দরকার চাই যে সেবক সৈনিক হতে পারবে। দেশ এখন চায় মহাপুরুষ নয়। দেশ চায় সেই পুরুষ- যার ভালোবাসায় আঘাত আছে বিদ্রোহ আছে।
যে দেশকে ভালোবেসে শুধু চোখের জলই ফেলবে না, সে দরকার হলে আঘাতও করবে, প্রতিঘাতও বুক পেতে নেবে, ক বিদ্রোহ করবে।
রবীন্দ্রনাথ অরবিন্দ, প্রফুল্ল বাঙলার দেবতা, তাঁদের পূজার জন্য বাঙলার চোখের জল চির-নিবেদিত থাকবে। কিন্তু সেনাপতি কই? সৈনিক কোথায়? কোথায় আঘাতের দেবতা, প্রলয়ের মহারুদ্র? সে পুরুষ এসেছিল বিবেকানন্দ, সে সেনাপতির পৌরুষ হুংকার গর্জে উঠেছিল বিবেকানন্দের কণ্ঠে।
সুতরাং বলা যায়, প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার সংগ্রামে মহাপুরুষ, অপেক্ষা সৈনিকের প্রয়োজনের উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা ঋষি অরবিন্দ নয় স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি নজরুলের শ্রদ্ধা আরো একটি প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে বুঝা যায় স্বামী বিবেকানন্দকে নজরুল সেনাপতির আসনে বসিয়েছিলেন আর সৈনিকের আসন নিয়েছেন তিনি নিজে।
.png)