ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সম্পর্কের নজরুলের অভিমত কী?
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সম্পর্কের নজরুলের অভিমত কী?
উত্তর : 'ধূমকেতু' পত্রিকায় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন কেবল সাহসী নয় ঐতিহাসিক ঘটনাও বটে। প্রাবন্ধিক কথা এবং কাজের একাগ্রতায় দেশের স্বাধীনতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে।
তিনি বিদেশির অধীনতা, শাসন ক্ষমতা অস্বীকার করে দেশীয় মানুষের তত্ত্বাবধানে দেশ পরিচালনা এবং শাসিত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তিনি মনেপ্রাণে কামনা করতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে একসময় ইংরেজ এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে নিজের দেশে চলে যাবে এবং ভারতবাসীকে শৃঙ্খলতার যাতাকল থেকে মুক্ত করে যাবে।
আর যদিও এর মধ্যেও কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা না আসে তাহলে দেশবাসীকে বিদ্রোহ করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলামের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা :
“সর্বপ্রথম, 'ধূমকেতু' ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়। স্বারাজ-টরাজ বুঝি না, কেননা, ও কথাটার মানে এক এক মহারথী এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশির অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সম্পূর্ণ স্বাধীনতা-রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে।
সুতরাং আমরা সার্বিক আলোচনা থেকে বলতে পারি যে, কাজী নজরুল ইসলাম 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকে কামনা করেছেন এবং একই সাথে স্বাধীনতার প্রশ্নে বিদ্রোহের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
.png)