আমরা প্রত্যেকে নির্জন গিরিশৃঙ্গে একাকী দণ্ডায় হইয়া উত্তরমুখে চাহিয়া আছি”- উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর
আমরা প্রত্যেকে নির্জন গিরিশৃঙ্গে একাকী দণ্ডায় হইয়া উত্তরমুখে চাহিয়া আছি”- উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর
উত্তর : বাংলা সাহিত্যে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) একজন অতি বিখ্যাত কবি। কবি পরিচয়েই তিনি সমগ্র বিশ্বে বিশ্ব নন্দিত হয়ে আছেন।
তাঁর কবি মনীষার উজ্জ্বল দীপ্তিতে অন্যান্য সাহিত্যকর্ম অপেক্ষাকৃত শান হলেও বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ এক আসনে অধিষ্ঠিত। তাঁর বিখ্যাত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো 'প্রাচীন সাহিত্য'।
সংস্কৃত সাহিত্যের মহাকবি কালিদাসের বহুল জনপ্রিয় কাব্য 'মেঘদূত'। রবীন্দ্রনাথ কালিদাসের 'মেঘদূতম' কাব্য অবলম্বনে 'মেঘদূত' প্রবন্ধটি রচনা করেন। 'মেঘদূত' কাব্যে প্রভুশাপে যক্ষ এক বছরের জন্যে নির্বাসিত হয় অলকাপুরী থেকে সুদূর রামগিরি পর্বতে।
নির্বাসিত যক্ষ পত্নী বিরহে কাতর হয়ে এবং আষাঢ়ের প্রথম দিবসে কালো মেঘ দেখে তার মন চঞ্চল হয়ে উঠে। তখন যক্ষ আষাঢ়ের প্রথম মেঘকে দূত করে পাঠায় অলকাপুরীতে। যক্ষের এ বিরহ প্রতিটি মানুষের বিরহ। তাই প্রতি মানুষের মধ্যে অ অতলস্পর্শ বিরহ।
আমরা যার সাথে মিলিত হতে চাই সে নিজের মানস সরোবরের অগম তীরে বাস করছে। সেখানে শুধু কল্পনাকে ত পাঠানো যায়, সশীরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। কোনো সুযোগই নেই অনন্তের কেন্দ্রবর্তী সেই প্রিয়তমার সাথে সাক্ষাতের।
আজ কেবল ভাষায় ভাবে আভাসে ইঙ্গিতে ভুল ভ্রান্তিতে আলো আঁধারে ছি দেহে মনে তার একটু বাতাস পাওয়া যায় মাত্র। প্রিয়ার কাছ থেকে স্বা দক্ষিণের হাওয়া এসে পৌঁছলে সে-ই যথেষ্ট তার অধিক নে বিরহলোকে আশা করা যায় না। কেননা আমরা প্রত্যেকে নির্জন পর্বত শিরে একাকী দাঁড়িয়ে আছি উত্তরমুখে। লেখক বলেছেন-
"আমরা প্রত্যেকে নির্জন গিরিশৃঙ্গে একাকী দণ্ডায়মান হইয়া সে উত্তরমুখে চাহিয়া আছি, মাঝখানে আকাশ, মেঘ এবং সুন্দরী অ পৃথিবীর রেবা, সিল্লা, অবন্তী, উজ্জয়িনী বিধ্যমান।”
অবশেষে বলা যায়, কালিদাসের 'মেঘদূতম' কাব্যে যক্ষের কি যে বিরহ, তা পৃথিবীর সকল মানুষের বিরহ। বিরহ চির পুরাতন প্রে হয়ে চির নতুন।
যুগে যুগে মানুষের এই বিরহ বেদনা মানুষকে পা অসীমের পথে টেনে নিয়ে যায়। তাই মানুষ চিরকাল প্রিয়ার জন্য মা এক বুক বিরহ নিয়ে অনন্তের পথে চেয়ে থাকে।
.png)