রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সাহিত্য' নামক প্রবন্ধের আলোকে ব্রহ্মের ন্যায় মানব আত্মার যে তিনটি রূপ আছে তার পরিচয় দাও

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সাহিত্য' নামক প্রবন্ধের আলোকে ব্রহ্মের ন্যায় মানব আত্মার যে তিনটি রূপ আছে তার পরিচয় দাও 

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের সব শাখাতেই সুদৃঢ় পদচারণা রেখেছেন। কাব্য, উপন্যাস, ছোটগল্পের ন্যায় প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। 

বিভিন্ন প্রবন্ধ গ্রন্থে তাঁর চিন্তাশীল ও ভাবুক মনের পরিচয় মেলে। তাঁর প্রবন্ধসমূহ বিষয়-বৈচিত্র্যে ভরপুর। তিনি সাহিত্যের নিগূঢ় তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে 'সাহিত্যের পথে' নামক প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন। এ প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্যতম একটি প্রবন্ধ হলো 'সাহিত্য'। 

এ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, ব্রহ্মের ন্যায় মানব আত্মার তিনটি রূপ আছে-যা নিম্নরূপ :

আমরা লক্ষ করি যে ব্রহ্মস্বরূপের সত্যম, জ্ঞানম এবং অনন্ত ম এর ন্যায় মানব-আত্মারও তিনটি রূপ আছে। তার একটি হলো- আমরা আছি, দ্বিতীয়টি হলো আমরা জানি, তৃতীয়টি হলো-আমরা ব্যক্ত করি। মানুষের এ তিন নিয়েই একটি অখণ্ড সত্য। 

সত্যের এ তিন ভাগ আমাদের নানা কাজে ও প্রবর্তনায় নিয়ত উদ্যত করে। 'আমি আছি' সত্যের এ ভাবটি তাকে নানা কাজ করায়। এ সঙ্গে 'আমি জানি' এরও তাগিদ কম নয়। 

মানুষের জানার আয়োজন অতি বিপুল, আর তা কেবল বেড়েই চলেছে, তার মূল্য মানুষের কাছে খুব বড়। এ সঙ্গে মানব সত্যের আর একটি দিক আছে 'আমি প্রকাশ করি'। 'আমি আছি' এটি ব্রহ্মের সত্য স্বরূপের অন্তর্গত; 'আমি জানি' এটি ব্রহ্মের - জ্ঞানস্বরূপের অন্তর্গত; 'আমি প্রকাশ করি' এটি ব্রহ্মের অনন্ত স্বরূপের অন্তর্গত।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ