সাহিত্য কীভাবে নিখিল সৃষ্টির একটা ভাগ? আলোচনা কর


সাহিত্য কীভাবে নিখিল সৃষ্টির একটা ভাগ? আলোচনা কর

উত্তর : বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্যে আকাশের উজ্জল নক্ষত্র। তাঁর উজ্জ্বল প্রতিভায় বাংলা সাহিত্যের অঙ্গন চির আলোকিত হয়ে উঠেছে। 

তিনি বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণ করেছেন। সমকালীন রাজনীতি তাঁর চিন্তাশীল ও ভাবুক মনকে চিরদিনই কমবেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছিলো। তিনি সাহিত্যের প্রকৃতি ও স্বরূপ বিশেষণ করে 'সাহিত্য' নামক প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেন।

'সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্যতম একটি প্রবন্ধ হলো 'সাহিত্য ও সৃষ্টি' । এ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্য সৃষ্টি প্রক্রিয়ার স্বরূপ বিশ্লেষণ করেছেন। লেখক বলেছেন মানুষের মনের ভাবনাগুলো সফলভ লাভের জন্য ভিতরে মানুষকে এতই প্রচণ্ড তাগিদ দিয়ে থাকে, মানুষকে একলা থাকতে দেয় না।

মানুষ এর তাড়নায় পৃথিবী জুড়ে সশব্দে ও নিঃশব্দে দিন-রাত কত বকুনিই যে বকছে তার কোনো ঠিকানা নেই। এ যে এক মনের ভাবনা আর এক মনের মধ্যে সার্থকতা লাভের চেষ্টা। মানবসমাজ জুড়ে চলছে, এ চেষ্টার বশে আমাদের ভাবগুলো স্বভাবতই এমন একটি আকার ধারণ করছে যাতে তারা ভাবুকের একার নয়। 

এজন্য সাহিত্যে লেখক যার কাছে নিজের লেখাটি তুলে ধরছে। অজ্ঞাতসারে তার প্রকৃতির সাথে নিজের লেখাটি মিলিয়ে নিচ্ছে। এমন করে লেখকেরা কেউবা বন্ধুকে, কেউবা সম্প্রদায়কে, কেউবা সমাজকে, কেউবা বিশ্বমানবকে নিজের কথা শুনাতে চাচ্ছে। 

যারা কৃতকার্য হয়েছেন তাদের লেখার মধ্যে বন্ধু, সম্প্রদায় ও সমাজ ও বিশ্বমানবের পরিচয় বহন করে। এই পৃথিবী সৃষ্টির মূলে রয়েছে। সৃষ্টিকর্তার বিরাট এক উদ্দেশ্য। ফলে বিশ্বজগতে নানা বিধিবিধান বিরাজ করে। সাহিত্যিকও সাহিত্য রচনা করেন মহৎ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে। 

বস্তু জগৎ কেবল নিজের পরিচয়ে টিকে থাকে না, সে তার চারদিকের পরিচয়ে টিকে থাকে। সাহিত্যের বেলায়ও সেই নিয়ম প্রযোজ্য। সাহিত্যও বস্তু সৃষ্টির মতো চিরাচরিত নিয়মের অধীন। 

সুতরাং সাহিত্যও প্রকৃতি ও জগৎ সৃষ্টির এক ভাগ হয়ে উঠেছে। লেখক বলেছেন-

"দেশের সাধারণ লোকের মধ্যে প্রথমে কতকগুলো ভাব টুকরো টুকরো কাব্য হইয়া চারিদিকে ঝাঁক বাঁধিয়া বেড়ায়। তার পরে একজন কবি সেই টুকরো কাব্যগুলোকে একটি বড়ো কাব্যের সূত্রে এক করিয়া একটি পিও করিয়া তোলেন।”

সবশেষে বলা যায়, একজন সাহিত্যিক অনেক বড় সৃষ্টিকর্তা। তাঁর সৃষ্টি বিশ্ব সৃষ্টির মতো অমোঘ নিয়মের অধীন বিশ্ব প্রকৃতিতে যে ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে, তা লেখকের হৃদয়ে নাড়া দেয়। 

ফলে লেখকের মনে যে ভাবনার সৃষ্টি হয়, তিনি সেগুলো আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি করেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ