আত্মার তৃপ্তিই স্বর্গসুখ, আর আত্ম প্রবঞ্চনার পীড়াই নরক যন্ত্রণা। 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর
আত্মার তৃপ্তিই স্বর্গসুখ, আর আত্ম প্রবঞ্চনার পীড়াই নরক যন্ত্রণা। 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ধূমকেতুর পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মনে করেন আত্মার সাথে বিশ্বাস স্থাপনে পাওয়া স্বর্গসুখ এবং আত্মার বিপরীতে কাজ করে পাওয়া যায় নরকযন্ত্রণা।
প্রাবন্ধিক তাঁর এ প্রবন্ধে কোনো কিছু অন্ধভাবে অনুসরণ করার বিপক্ষে তিনি যদি মহামানবও হন- তাহলে অন্ধভাবে সমর্থন করা উচিত নয় বলে মনে করেন। প্রাবন্ধিক মনেপ্রাণে যতটুকু সাড়া দেবে বা মন থেকে যতটুকু সমর্থন পাওয়া যাবে ততটুকুই মানা উচিত।
অন্যের প্রশংসা লাভের জন্য যদি বলা হয় আমি অমুকের ভক্ত; তাহলে হয়তো অন্যের নিকট থেকে ক্ষণিকে বাহবা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার মন তাকে স্বস্তি দেবে না। অন্যকে ফাঁকি দিয়ে প্রশংসা লাভ করার অর্থই নিজের অন্তরদেবতাকে ফাঁকি দেওয়া এবং অন্তরে পীড়ি বয়ে বেড়ানো।
অন্যের মতামত ঠিক না বুঝে বলার দরকার পড়ে না যে 'আমি গান্ধী ভক্ত' বা 'আমি রবীন্দ্র ভক্ত'। প্রাবন্ধিকের মতে, যখন কেউ ফাঁকি দিয়ে লোকের কাছে বাহবা নিয়ে ঘরে ফিরে, তখন তার বাহবা অর্জনের ফাঁকির কথা মনে হয়ে প্রাণে কেমন এক অসোয়াস্তি কাঁটার মতো বিধতে থাকে।
ঐ অসোয়ান্তিই হচ্ছে অনুশোচনা। যাকে সর্বদা এ জাতীয় অনুশোচনায় ভুগতে হয় তাকে দিয়ে বাস্তবে কিছুই হয় না- সে আসলে ক্রমেই ভীরু, কাপুরুষ, বাকসর্বস্ব হয়ে পড়ে।
যে লোক তার নিজের কাজের জন্য নিজের কাছে লজ্জিত হয়, সে ক্রমেই উচ্চ হতে উচ্চতর স্তরে স্বর্গের পথে উঠে চলবেই চলবে। আর যাকে পদে পদে ফাঁকি আর মিথ্যার জন্য কুণ্ঠিত হয়ে চলতে হয়, সে ক্রমেই নিচের দিকে নামতে থাকে এটাই নরকযন্ত্রণা।
প্রাবন্ধিক বিশ্বাস করেন আত্মার তৃপ্তিই স্বর্গসুখ, আর আত্মপ্রবঞ্চনার পীড়াই নরকা স্ত্রেণা।
.png)