বাক্যং রসাত্বং কাব্যম, আর সাহিত্য ব্যক্তিত্বের বাণীরূপ'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর
বাক্যং রসাত্বং কাব্যম, আর সাহিত্য ব্যক্তিত্বের বাণীরূপ'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর
উত্তর : কাজী আবদুল ওদুদ বাংলা সাহিত্যের একজন মননশীল, যুক্তিবাদী, বুদ্ধিদীপ্ত প্রাবন্ধিক ও সমালোচক। তাঁর প্রবন্ধসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো 'শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ।
তাঁর এ ধারার দ্বিতীয় প্রবন্ধের নাম “রস ও ব্যক্তিত্ব”। এ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের দুটি উপাদান অর্থাৎ রস ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটির অবতারণা করেছেন। তিনি বলেছেন, অ ব্যাপক অর্থে মানুষের সমস্ত লিপিবদ্ধ চিন্তাভাবনাকে সাহিত্য বলা যায়।
কিন্তু সংকীর্ণ অর্থে সাহিত্যের প্রচলিত নাম রস-সাহিত্য। এ সংকীর্ণ অর্থে সত্যকার সাহিত্য তাই যা রসোত্তীর্ণ। মানুষের মনের বিশেষ ও গভীর অনুভূতিকে রস বলা হয়। এ সাহিত্যের যে গুণের কারণে কাব্য পাঠে পাঠক তন্ময় হয়ে পড়ে, সেটায় কাব্যের রস।
কাব্যরস মানুষের অন্তরের চিরন্তন সৌন্দর্য তৃষ্ণা মেটায়। কাব্যে যে ভাব স্থান লাভ করে তা পাঠক হৃদয়ে প্রবাহিত হয় রসের মাধ্যমে। অর্থাৎ মানব-অনুভূতির বিশেষ নান্দনিক রূপই হলো রস। সাহিত্যের রস কাব্য তথা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
আমাদের দেশের প্রাচীন সাহিত্যে এই রস বা অনুভূতিকে নয় ভাগে ভাগ করে দেখা হয়েছে, যথা : শৃঙ্গার, হাস্য, করুণ, রৌদ্র, বীর, ভয়ানক, বীভৎস, অদ্ভুত, শান্ত। আর ব্যক্তিত্ব হচ্ছে শিল্পীর মহৎ মানবিক গুণাবলি ও বিচারবোধ সম্পন্ন নিজস্ব অনুভূতি।
লেখকের ব্যক্তিত্বের গুণেই পাঠকের চিত্তের উৎকর্ষ সাধিত হয়। তাই সাহিত্যে শিল্পীর ব্যক্তিত্ববোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাবন্ধিকের মতে, একালে প্রাচীন আলঙ্কারিকদের সেই রসের নয় বিভাগ যে একালে আমাদের খুশি করতে অক্ষম তা বলাই বাহুল্য, কেননা, মানুষের মন অত্যন্ত জটিল, তার অনুভূতিও বিচিত্র, এ বিষয়ে আমরা সচেতন।
তবে রস যে সাহিত্যের বড় একটি ব্যাপার সে বিষয়ে প্রাচীনদের নির্দেশ । শিরোধার্য। কিন্তু একালে আমাদের সাহিত্যিক চিন্তা-ভাবনাই রস যেমন মূল্যবান তেমনি মূল্যবান আর একটি ব্যাপার তা হলো, সাহিত্যিকের ব্যক্তিত্ব।
নানা কালের নানা দেশের সাহিত্যের সঙ্গে পা পরিচিত হয়ে আমরা বুঝেছি সাহিত্যে সাহিত্যস্রষ্টার এই ব্যক্তিত্বের মর্যাদা। 'বাক্যম রসাত্মকং কাব্যম' আর সাহিত্য ব ব্যক্তিত্বের বাণীরূপ সাহিত্যের এই দুই সংজ্ঞাই আজ আমাদের র জন্য মহামূল্য ।
.png)