বাঙালি আজন্ম দিব্যশক্তিসম্পন্ন। তাদের ক্ষাত্রশক্তি জাগল না বলে দিব্যশক্তি কোনো কাজে লাগল না।”-প্রাবন্ধিক কেন এমন বলেছেন?
বাঙালি আজন্ম দিব্যশক্তিসম্পন্ন। তাদের ক্ষাত্রশক্তি জাগল না বলে দিব্যশক্তি কোনো কাজে লাগল না।”-প্রাবন্ধিক কেন এমন বলেছেন?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম 'বাঙালির বাংলা' প্রবন্ধে এ বাঙালির ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখের সাথে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কথাও তুলে ধরেছেন- বাঙালির তেমনি একটি নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য অবিদ্যা।
এ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক অবিদ্যা বাঙালিকে কীভাবে পঙ্গু করে রেখেছে সে সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে- তম, তিমির এবং জড়ত্বই অবিদ্যা। অবিদ্যা শুধু অন্ধকার ও ভ্রান্তি র পথে নিয়ে যায় এবং দিব্যশক্তিকে নিস্তেজ এবং মৃতপ্রায় করে প রাখে।
যারা যত সাত্ত্বিক ভাবাপন্ন, এই অবিদ্যা তাদেরই তত ল বাধা দেয়- বিঘ্ন আনে। এই অবিদ্যা জড়ত্ব মানবকে মৃত্যুর পথে
নিয়ে যায় এবং কিছুতেই অমৃতের পানে-আনন্দের পথে যেতে দেয় না। প্রাবন্ধিক এ প্রবন্ধে আরো তিনটি গুণের কথা বলেছেন- এ তিনটি গুণ হচ্ছে সত্ত্ব, রজ এবং তম। তম হচ্ছে অবিদ্যা এই তমকে শাসন করতে পারে একমাত্র রজগুণ অর্থাৎ ক্ষাত্রশক্তি।
এই ক্ষাত্রশক্তিকে না জাগালে মানুষের মাঝে যে বিশ্ববিজয়ী ব্রহ্মশক্তি আছে, তা তাকে তমগুণের নরকে টেনে নিয়ে সংহার করে। বাঙালি আজন্ম দিব্যশক্তিসম্পন্ন- তাদের ক্ষাত্রশক্তি জাগলো না বলে দিব্যশক্তি কোনো কাজে লাগল না।
সুতরাং সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, বাঙালিকে সর্ববিজয়ী হতে হলে অবশ্যই তম শক্তিকে দূর করে ক্ষাত্রশক্তিকে জাগাতে হবে।
.png)