বিশুদ্ধ আনন্দ রসটি নানা রচনায় সাহিত্য ও আর্টে প্রকাশ পায়”- কীভাবে? আলোচনা কর
বিশুদ্ধ আনন্দ রসটি নানা রচনায় সাহিত্য ও আর্টে প্রকাশ পায়”- কীভাবে? আলোচনা কর
উত্তর : নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় সুদৃঢ় পদচারণা রেখেছেন। কাব্য, উপন্যাস, নাটক ও ছোট গল্পের ন্যায় প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রেও তিনি অসাধারণ সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। প্রবন্ধ সাহিত্যে তাঁর চিন্তাশীল ও ভাবুক মনের পরিচয় পাওয়া যায়।
তিনি সাহিত্যের নিগুঢ় তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে 'সাহিত্যের পথে' নামক প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেন।
'সাহিত্যের পথে' প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্যতম একটি প্রবন্ধ হলো 'সাহিত্য'। এ প্রবন্ধে লেখক প্রকাশধর্মী তার অন্যতম বাহন হিসেবে সাহিত্যকে বিবেচনা করে মানুষের প্রকাশ করার প্রবণতার স্বরূপ বিশ্লেষণ করেছেন।
মানুষ যেখানে একেলা সেখানে প্রকাশ নেই। মানুষ নিজেকে নানাভাবে প্রকাশ করতে চায়। টিকে থাকার তাগিদেই মানুষ সকলের কাছে নিজেকে প্রকাশ করে থাকে। তখন সেই মহাজীবনের প্রয়োজন সাধনের উদ্দেশ্যে নানা প্রকার সেবায়, ত্যাগে প্রবৃত্ত হয় এবং সেই মহাজীবনের আনন্দকে আবেগকে সে নানা সাহিত্যে, গানে, চিত্রে, মূর্তিতে প্রকাশ করতে থাকে।
কেবল নিজে টিকে থাকার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সে জ্ঞানের দীপ্তি নেই। জ্ঞানের রাজা যেখানে অসীমের প্রেরণা সেখানে দেখা যায় মানুষের শিক্ষার নানা উদ্যোগ, কত পাঠশালা, কত বিশ্ববিদ্যালয় ও নানা গবেষণাগার।
সেখানে মানুষের জ্ঞান সর্বজনীন ও সর্বকালীন হয়ে মানবাত্মার সর্বত্র প্রবেশের অধিকার ঘোষণা করেছে। এ অধিকারের বিচিত্র আয়োজন বিজ্ঞানে দর্শনে বিস্মত হতে থাকে। কিন্তু তার বিশুদ্ধ | আনন্দ রসটি নানা রচনায় সাহিত্যে ও আর্টে প্রকাশ পায়।
প্রকাশটা একটা ঐশ্বর্যের কথা। যেখানে নিঃস্ব সেখানে তো প্রকাশ নেই। লোহা গরম হতে হতে যতক্ষণ না দীপ্ত তার পর্যন্ত যায় ততক্ষণ তার প্রকাশ নেই। আলো হচ্ছে তাপের ঐশ্বর্য। লেখক এ সম্পর্কে বলেছেন-
"মানুষের যেসব ভাব স্বকীয় প্রয়োজনের ভুক্ত হয়ে না যায়, যার প্রাচুর্যকে আপনার মধ্যেই আপনি রাখতে পারেন না, যা স্বভাবতই দ্বীপ্যমান তারই দ্বারা মানুষের প্রকাশের উৎসব।"
অবশেষে বলা যায়, মানুষ চিরদিন নিজেকে প্রকাশ করতে. চেয়েছে। নিজেকে নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের জীবনের মাঝে অনন্তের পরিচয় দিতে পারার মধ্যে প্রকাশ তত্ত্ব নিহিত। নিজেকে প্রকাশ করার অন্যতম বাহন হিসেবে লেখকেরা সাহিত্যকে বেছে নিয়েছে।
.png)