এ মৃত্যু নয়, কিন্তু মৃত্যুর চেয়েও নিরানন্দ।”- কবি কোন প্রসঙ্গে এমন বলেছেন?
এ মৃত্যু নয়, কিন্তু মৃত্যুর চেয়েও নিরানন্দ।”- কবি কোন প্রসঙ্গে এমন বলেছেন?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম 'যদি আর বাঁশি না বাজে' অভিভাষণে কবি সাহিত্য রচনার পথ থেমে গেলে কবি যে মৃত্যুযন্ত্রণা অধিক কষ্ট ভোগ করবেন তা বুঝাতে গিয়ে উপর্যুক্ত মন্তব্যটি করেন আত্মীয়াধিক মানুষেরা মনে করেন দেশকে-জাতিকে- সাহিত্য-পিপাসুমনকে দান করার অপরিমেয় শক্তি ছিল কবির।
শুধু কার্পণ্য করে বা স্বার্থপরের মতো আপন মুক্তির প্রচেষ্টায় সেই দাক্ষিণাদানের দক্ষিণ হস্তকে ঊর্ধ্বে, না জানা শূন্যের পানে তুলে ধরেছেন। কবি নিজে জানেন তাঁর দান করার সীমাবদ্ধতা বা | লেখার সীমাবদ্ধতাকে।
কবি মনে করেন এটা কবির কার্পণ্য বা স্বার্থপরতা নয়- এ তাঁর স্বধর্ম, স্বভাব। কবিকে নিজেকে ভেঙে যতটুকু পারেন তা দান করেছেন। কবির বলেন, আনন্দ-রস-ঘন স্বর্ণবর্ণের এক না জানা আকাশ থেকে কবি লেখার শক্তি লাভ করতো- সেই শক্তি মহাশ্বেতা রূপে করি মাঝে হয়ে আছে সমাধিস্থ।
কবি মনে করেন সেই শক্তি কবি লাভ না করতে পারলে হয়তো তার লেখার সুর বা বাঁশি বন্ধ হয়ে যাবে, কবির আনন্দময় লেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন এবং কবিও হয়ে যাবেন নীরব। আর এই নীরবতা কবির জন্য শুধু মৃত্যু নয়- মৃত্যুর চেয়ে নিরানন্দ ।
সুতরাং বলা যায়, কবি তাঁর সক্ষমতা অনুসারে সাহিত্য- রচনার চেষ্টা করেছেন এবং করবেন। তবে এর ব্যত্যয় ঘটলে | কবিও যে মৃত্যুর অধিক নিরানন্দময় জীবনযাপন করবেন তা প্রদত্ত উক্তিতে প্রকাশিত।
.png)